নিজস্ব প্রতিনিধি, আরামবাগ: খানাকুলে তৃণমূলের নেতা-কর্মীদের উপর বিজেপির আক্রমণ অব্যাহত। সোমবার রাতে চিংড়া পঞ্চায়েতের তৃণমূল সদস্য ও তাঁর পরিবারের উপর হামলা চালানোর অভিযোগ উঠেছে বিজেপির উপপ্রধান ও তাঁর দলবলের বিরুদ্ধে। তৃণমূল সদস্য লবকুমার দলুই ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের লোহার রড, শাবল দিয়ে বেধড়ক মারধর করা হয়। কয়েকজনকে কাটারি দিয়ে কোপানো হয়েছে বলে অভিযোগ। ঘটনায় ছ’জন জখম হয়েছেন। স্থানীয় হাসপাতালে রাতেই সকলকে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে সঙ্কটজনক অবস্থায় দু’জনকে আরামবাগ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়ায়। পুলিস জানিয়েছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ঘটনার তদন্ত চলছে।
লোকসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার পরই খানাকুল-২ ব্লকের বিভিন্ন পঞ্চায়েত এলাকায় হিংসার ঘটনা বাড়ছে। আরামবাগ লোকসভা হাতছাড়া হলেও খানাকুল বিধানসভা এলাকায় বিজেপি ভোটের মার্জিন বাড়িয়েছে। যার জেরেই এই ত্রাস সৃষ্টি ও মারধরের ঘটনা ঘটছে বলে অভিযোগ। ভোটের আগের দিন গত ১৯ মে রাজহাটি-১ পঞ্চায়েত এলাকায় তৃণমূল কর্মীদের উপর হামলা চালানোর অভিযোগ ওঠে বিজেপির বিরুদ্ধে। হামলায় তৃণমূলের ১১ জন কর্মী জখম হয়েছিলেন। মনোরঞ্জন দিগেরকে গুরুতর জখম অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। যদিও শেষ রক্ষা হয়নি। কিছুটা সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে আসার পর তাঁর মৃত্যু হয়। সেই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই সোমবার রাতে চিংড়া পঞ্চায়েতে তৃণমূল নেতার উপর হামলা চালানো হয়। গৌরাঙ্গচক এলাকায় মনসাপুজো উপলক্ষ্যে অনুষ্ঠান চলছিল। সেখানে লবকুমারবাবু ও তাঁর পরিবারের লোকজন উপস্থিত ছিলেন। বিজেপি পরিচালিত পঞ্চায়েতের উপপ্রধান সুরজিৎ সর্দার ও তাঁর দলবল লোহার রড, শাবল নিয়ে তাঁদের উপর অতর্কিতে হামলা চালায় বলে অভিযোগ। হামলায় লবকুমারবাবু ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা জখম হন। বাঁচাতে এলে ভাই কুশধ্বজ দলুই ও কাকিমা নমিতা দলুইয়ের মাথায় কাটারির কোপ মারা হয়। এছাড়া ওই পরিবারের আরও কয়েকজন জখম হন। স্থানীয় তৃণমূল কর্মী স্বরূপ বাগের বাড়িতে লুটপাট চালানো হয়। খবর পেয়ে খানাকুল থানার পুলিস ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
খানাকুল-২ ব্লক তৃণমূলের সভাপতি রমেন প্রামাণিক বলেন, চিংড়া পঞ্চায়েতের বিজেপি উপপ্রধান সুরজিৎ সর্দারের দলবল আমাদের পঞ্চায়েত সদস্য ও তাঁর পরিবারের লোকজনের উপর পরিকল্পিত হামলা চালিয়েছে। বিজেপির কাছে মাথা নত না করার কারণেই পঞ্চায়েত সদস্য ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের উপর হামলা চালানো হয়েছে। থানায় লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে। ঘটনার তীব্র নিন্দা করছি ও দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানাচ্ছি।
যদিও বিজেপির উপপ্রধান সুরজিৎ সর্দার বলেন, গৌরাঙ্গচক এলাকায় একটি মাঠে মনসাপুজো উপলক্ষ্যে অনুষ্ঠান চলছিল। সেখানে বিজেপির ছেলেদেরই মারধর করা হয়েছে। আমাদের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ তোলা হচ্ছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা।
খানাকুলের বিজেপি বিধায়ক সুশান্ত ঘোষ বলেন, খানাকুলের মানুষ ওদের ভোট দেয়নি। তৃণমূল নেতৃত্ব সেটা মেনে নিতে পারছে না। আমাদের দলের কর্মী সমর্থকদের লাগাতার মারধর করা হচ্ছে। গৌরাঙ্গচকে তৃণমূলের পঞ্চায়েত সদস্য ও তাঁর লোকজন অশান্তি সৃষ্টির চেষ্টা করেছিল। স্থানীয় বাসিন্দারা প্রতিরোধ করে। মারধরের ঘটনায় বিজেপির কোনও যোগ নেই। গৌরাঙ্গচকে অশান্তি রুখতে পুলিসের টহল। নিজস্ব চিত্র