নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: মঙ্গলবার নন্দীগ্রাম-১ ব্লকের সইফুল্লাচকে পানের বরজের পাশ থেকে বোমা উদ্ধার ঘিরে তীব্র উত্তেজনা ছড়াল। একটি টিনের বাক্সের ভিতর কয়েকটি বোমা পাওয়া যায়। সেই বাক্সের উপর তৃণমূলের পতাকা থাকায় সন্দেহ তৈরি হয়। ওই ঘটনায় শাসকদল জড়িত বলে অভিযোগ তুলে বিজেপি ব্যাপক ঝামেলা পাকায়। পাশাপাশি গেরুয়া পার্টির লোকজন এক তৃণমূল কর্মীকে বোমা রাখার ঘটনায় জড়িত সন্দেহ করে পুলিসের হাতে তুলে দেয়। পুলিস থানায় গিয়ে অভিযোগ জানানোর কথা বলতেই বিজেপি কর্মীরা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। পুলিসের সঙ্গে বিজেপি কর্মীদের বচসা থেকে ধস্তাধস্তি বেধে যায়।
লোকসভা ভোটের কয়েকদিন আগে থেকেই তৃণমূল-বিজেপি সংঘর্ষে উত্তপ্ত হয় দাউদপুর পঞ্চায়েত এলাকা। ওই পঞ্চায়েতের নয়নান বুথে দু’দলের মধ্যে একাধিকবার সংঘর্ষ হয়েছে। নয়নান সংলগ্ন সইফুল্লাচক বুথেও দু’দলের কর্মীদের মধ্যে ঝামেলা চলছে। রাত নামলেই দুষ্কৃতীরা বোমা ফাটাচ্ছে। এলাকায় শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে রাতবিরেতে পুলিস টহল দিচ্ছে। মঙ্গলবার সইফুল্লাচকে দীপ্তি বারিক নামে একজনের পান বরজের সামনে একটি টিনের বাক্সের মধ্যে কয়েকটি বোমা দেখা যায়। সেই টিনের উপর তৃণমূল কংগ্রেসের পতাকা বাঁধা ছিল। ওই ঘটনায় শাসকদল জড়িত বলে অভিযোগ তুলে বিজেপির লোকজন জমায়েত করে। খবর পেয়ে পুলিস ঘটনাস্থলে যেতেই তাদের ঘিরে বিক্ষোভ দেখায় বিজেপির লোকজন। স্থানীয় এক তৃণমূল কর্মীকে সন্দেহ করে তাকে জোর করে ধরে পুলিসের হাতে তুলে দেয় বিজেপি। পুলিস ওই যুবককে ছেড়ে দিয়ে বিজেপির লোকজনকে অভিযোগ জানানোর পরামর্শ দেয়। তাতেই বিজেপি কর্মীরা ক্ষিপ্ত হয়ে ধাক্কাধাক্কি শুরু করে দেয়। এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ছড়ায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে র্যাফ নামনো হয়।
উল্লেখ্য, এর আগে নন্দীগ্রাম-২ ব্লকের টাকাপুরায় বোমা বাঁধতে গিয়ে এক বিজেপি কর্মীর মৃত্যু হয়েছে। সেই ঘটনায় বিজেপির ২৪জন নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে নন্দীগ্রাম থানা এফআইআর হয়েছে। সইফুল্লাচকে বোমা উদ্ধার ঘিরে উত্তেজনা ছড়াতেই নয়নান গ্রাম থেকে বিজেপির লোকজন চলে আসে। নয়নান গ্রামের বিজেপি কর্মী রাধারানি বেরা ও সইফুল্লাচকের রীনাবালা বারিক বলেন, রাতবিরেতে তৃণমূলের লোকজন বোমা ফাটাচ্ছে। এলাকাকে সন্ত্রস্ত করে রাখছে। পুলিস নিষ্ক্রিয় রয়েছে। এই বোমা রাখার ঘটনায় তৃণমূল যুক্ত। সন্দেহভাজনকে পুলিসের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু, পুলিস ছেড়ে দেওয়ায় সাধারণ মানুষজন ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে।
তৃণমূল কংগ্রেসের স্থানীয় বুথ সভাপতি রঙ্গলাল বারিক বলেন, এদিনের ঘটনা বিজেপির সাজানো। কোনও জায়গা থেকে বোমা উদ্ধার হলে সেখানে দলের পতাকা বাঁধা থাকতে পারে? বিজেপি নোংরামি করেছে। তারপর দু’-তিনটি গ্রাম থেকে ওদের লোকজন জড়ো হয়ে পুলিসের সঙ্গে ঝামেলা করেছে। দাউদপুর পঞ্চায়েত থেকে আমরা লিড নিয়েছি। তাতেই ওরা হিংসায় এসব করছে। বিজেপিই বোমা-গুলির রাজনীতি করছে। নন্দীগ্রাম-২ ব্লকের টাকাপুরায় বোমা বাঁধার সময় বিস্ফোরণে এক বিজেপি কর্মীর মৃত্যুও হয়েছে।নন্দীগ্রাম থানার আইসি অনুপম মণ্ডল বলেন, বোমা রয়েছে খবর পেয়ে পুলিস সইফুল্লাচকে গিয়েছিল। সেখানে পুলিসের কাজে বাধা দেওয়ার চেষ্টা হয়। বোমা উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। নন্দীগ্রামে পানের বরজের পাশে বোম উদ্ধার করল পুলিস।-নিজস্ব চিত্র