দুবরাজপুরে বক্রেশ্বর সেতুর রাস্তা বেহাল, প্রাণ হাতে নিয়ে চলে যাতায়াত
বর্তমান | ২০ জুন ২০২৪
সংবাদদাতা, সিউড়ি: দুবরাজপুরের কাছে বক্রেশ্বর নদীর সেতুর ওপর জাতীয় সড়কের বেহাল দশা। বড় বড় খানাখন্দে ভরে উঠেছে ব্রিজের ওপরের রাস্তা। প্রতিদিন বিপজ্জনক ভাবে সেতুর ওপর দিয়ে যাতায়াত করছে হাজার হাজার ছোট বড় গাড়ি। শুধু এই সেতুর রাস্তাটিই নয়, সেতুর গার্ডওয়ালগুলিরও অবস্থা বেহাল হয়েছে। একদিকের গার্ডওয়ালের শুরুতেই কিছুটা অংশ ভেঙে পড়ায় দুর্ঘটনা এড়াতে বাঁশ দিয়ে ঠেকনা দেওয়া হয়েছে গার্ডওয়ালের সেই অংশটুকু। সেই গার্ডওয়ালের অপর প্রান্তটিও ভেঙে পড়েছে। এই রাস্তাটি কিছু মাস আগেই মেরামত করা হয়েছিল বলে জানা গিয়েছে। কিন্তু বছর ঘুরতে না ঘুরতে ফের রাস্তাটি বেহাল হয়েছে। বর্ষার সময় বা সামান্য বৃষ্টি হলেই রাস্তাটির ভয়ানক অবস্থা হয়। তখন ছোট গাড়ি বা মোটর বাইক আরোহীরা জল ভর্তি গর্তে পড়ে জখম হন বলে অভিযোগ। সেতুটি সংস্কার না করায় ক্ষোভ বাড়ছে মানুষের।
দক্ষিণবঙ্গ থেকে উত্তরবঙ্গ যাওয়ার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ পানাগড়-দুবরাজপুর রাজ্য সড়ক এবং তারপর দুবরাজপুর থেকে মোড়গ্রাম জাতীয় সড়কটি। এই রাস্তাটি মোড়গ্রাম পাঞ্জাবি মোড় জাতীয় সড়ক নামে পরিচিত। তাই ধানবাদ থেকে আসানসোল হয়ে বহু গাড়ি এই রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করে। আর সব গাড়িকেই এই বক্রেশ্বর সেতুর ওপর দিয়ে যেতে হয়। সিউড়ি থেকে দুবরাজপুর যাওয়ার পথে দুবরাজপুর থেকে কিছুটা দূরে রয়েছে এই বক্রেশ্বর নদীর সেতু। প্রায় দুই দশকেরও বেশি আগে তৈরি হয়েছিল এই সেতুটি।
এই রাস্তায় ডাম্পার নিয়ে যাওয়া এক চালক শেখ আনোয়ার বলেন, জাতীয় সড়ক আগে খারাপ অবস্থায় ছিল। গত ছয় মাস আগে সেটা মেরামত করা হয়েছিল। তখন কিছুটা ঠিক হয়েছিল। এখন ফের ভেঙে গিয়ে বড় বড় গর্ত হয়েছে। খুব বিপজ্জনক পরিস্থিতি সেতুটির। লোড গাড়ি নিয়ে গেলে সেতুটি কাঁপে।
দুবরাজপুরের বাসিন্দা এক মোটর বাইক আরোহী শিবনাথ মূখোপাধ্যায় বলেন, প্রায় নিত্যদিন কর্মসূত্রে দোকানের মালপত্র আনতে সাঁইথিয়া ও সিউড়ি যেতে হয়। একে জাতীয় সড়কে পথবাতি নেই। তারপর বৃষ্টি হলে বাইকে মালপত্র নিয়ে সেতুর ওপর বড় বড় জলে ভরা গর্ত সামলে গাড়ি চালাতে ভয় হয়। যে কোনও সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষের এক আধিকারিক বলেন, ওই সেতুটির ওপর রাস্তাটি সংস্কার করা হবে। ভোটের কারণে এতদিন কিছু করা যায়নি।