• চালককে কাঠগড়ায় তুলে দায় এড়াতে পারে না রেল, ক্ষোভ প্রকাশ জখমের পরিবারের
    বর্তমান | ২০ জুন ২০২৪
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, কৃষ্ণনগর: মৃত ড্রাইভারকে কাঠগড়ায় তুলে দুর্ঘটনার দায় এড়াতে পারে না রেল। রেলের গাফিলতির কারণেই ঘটছে এই ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনা। এমনটাই মনে করছেন কাঞ্চনজঙ্ঘা এক্সপ্রেস দুর্ঘটনায় জখম প্রৌঢ় বিশ্বনাথ শর্মার পরিবারের সদস্যরা। বিশ্বনাথবাবু বর্তমানে উত্তরবঙ্গ মেডিক্যালে চিকিৎসাধীন। পরিবারের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ থাকলেও উৎকণ্ঠা কাটছে না আত্মীয়স্বজনদের। সুস্থসবল বিশ্বনাথবাবুকে চোখে দেখলে তবেই উৎকন্ঠা কাটবে। যে কারণে নাওয়া-খাওয়া ভুলে পথ চেয়ে রয়েছেন সকলে। উৎকন্ঠার স্বরেই রেলের উপর ক্ষোভ উগরে দিচ্ছেন তাঁরা। একই লাইনে এইভাবে দুটো ট্রেন কীভাবে আসতে পারে। সেই প্রশ্ন তুলছেন পরিবারের সদস্যরা। 


    জখম যাত্রী বিশ্বনাথ শর্মার বাড়ি কৃষ্ণনগর-১ নম্বর ব্লকের অন্তর্গত দেপাড়া পঞ্চায়েতের সেবোগ্রামে। রাস্তার উপরেই ছোট্ট টিনের বাড়ি। সেখানেই স্ত্রী, ছেলে ও বউমাকে নিয়ে সংসার। বয়স ৭০ ছুঁইছুঁই। পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, সম্প্রতি বিশ্বনাথবাবু রান্নার কাজ শুরু করেছিলেন। মূলত শ্রমিকদের খাবার তৈরি করে‌ দেওয়ার জন্যই যেতেন বিভিন্ন জায়গায়।‌ গত বছর দুর্গাপুজোর সময়েও শ্রমিকদের খাবার তৈরি করার জন্য গিয়েছিলেন ভিন রাজ্যে। মে মাসের ২০ তারিখ বিশ্বনাথবাবু ত্রিপুরা গিয়েছিলেন স্থানীয় শ্রমিকদের সঙ্গে। সেখানেই রান্না করে যা উপার্জন হতো তা বাড়িতে পাঠাতেন। বাড়ি ফেরার জন্য নিউ জলপাইগুড়ি থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘা এক্সপ্রেসে চেপেছিলেন তিনি ও তাঁর সঙ্গীরা। 


    নিউ জলপাইগুড়ি স্টেশন ছাড়িয়ে রাঙাপানি স্টেশন পার করতেই সব ওলটপালোট হয়ে যায়। পিছন থেকে তীব্রগতিতে ছুটে আসা মালগাড়ির ধাক্কায় দুটি কামরা ছিটকে যায়। সেই দুমড়েমুচড়ে যাওয়া কামরাতেই ছিলেন বিশ্বনাথবাবু। খুব কাছ থেকেই দেখছেন মৃত্যুকে। মাথার উপরে লোহার বাঙ্কারের রড শক্ত করে ধরে রাখার জন্যই বেঁচে গিয়েছেন বলে জানাচ্ছেন পরিবারের সদস্যরা। তারপর ভাঙা কামরা থেকে জখম অবস্থায় কোনওরকমে বেরিয়ে এসেছিলেন তিনি ও তাঁর সঙ্গীরা। উত্তরবঙ্গে বিশ্বনাথবাবুর কাছে রয়েছেন তাঁর নাতনি চুমকি মণ্ডল। তিনি বলেন, ‘দাদুর হাতে ও ঘাড়ে বেশি আঘাত লেগেছে। এছাড়াও সারা শরীরে আঘাত রয়েছে। তবে এখন সুস্থ রয়েছেন। যে কামরাটি দুমড়েমুচড়ে গিয়েছিল সেখানেই দাদু ছিলেন। উনি পিছনের দিক থেকে চতুর্থ কমরাতে ছিলেন।


    সোমবার সকাল ১০টা নাগাদ উত্তরবঙ্গের একটি হাসপাতাল থেকে বিশ্বনাথ শর্মার বাড়িতে ফোন আসে।  তাতে এই দুর্ঘটনার কথা শুনতেই কার্যত পায়ের তলার মাটি সরে যায় পরিবারের সদস্যদের। যদিও বিশ্বনাথবাবু নিজে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেছেন ফোনে। চিন্তা না করার আশ্বাসও দিয়েছেন। কিন্তু মন মানছে না আত্মীয়দের। হাসপাতালে ছুটে যেতে ইচ্ছে করছে। কিন্তু তৎকালে টিকিটে উত্তরবঙ্গে ছুটে যাওয়াও মুশকিল তাঁদের। 


    বিশ্বনাথ বাবুর ছেলে শ্যামল শর্মা বলেন, আমাকে গতকাল দশটা নাগাদ হাসপাতাল থেকে ফোন করা হয়েছিল। বাবা যে ট্রেনে আসছিল সেই ট্রেনটির দুর্ঘটনা ঘটেছে এটা শুনেই আমাদের পায়ের তলার মাটি সরে যায়। তারপর যখন শুনলাম বাবা সুস্থ আছে তখন একটু আশ্বস্ত হই। রেলের গাফিলতির জন্যই এই দুর্ঘটনা ঘটেছে। বিশ্বনাথবাবুর মেয়ে গঙ্গা মণ্ডল বলেন, একই লাইনে এভাবে দুটো ট্রেন আসতে পারে? রেল নজর দিলে এই ঘটনা ঘটত না।  নিজস্ব চিত্র
  • Link to this news (বর্তমান)