• লোকাল ট্রেনের মহিলা কামরায় উঠছে পুরুষরা
    বর্তমান | ২০ জুন ২০২৪
  • সংবাদদাতা, রামপুরহাট: লোকাল ট্রেনের মহিলা কামরায় পুরুষ যাত্রীদের সফর অব্যাহত বর্ধমান সাহেবগঞ্জ লুপ লাইনে। বৃহস্পতিবার এমনই ছবি ধরা পড়ল রাজগ্রাম স্টেশনে আপ বর্ধমান তিনপাহাড় প্যাসেঞ্জার ট্রেনে। চোখের সামনে মহিলা কামরা দেখেও তা এড়িয়ে গিয়ে সাধারণ কামরায় উঠলেন কোনও কোনও মহিলা। আবার মহিলা কামরা দেখেও এক তরুণী ইতস্তত করছেন, উঠবেন কি না, তা ভেবে। শেষে ওই কামরায় উঠলেও সতর্ক হয়ে দরজার কাছ ঘেঁষে দাঁড়িয়ে থাকলেন। কামরায় হাতে গোনা মহিলা যাত্রী থাকলেও তাঁদের চোখে মুখে উদ্বেগ ধরা পড়েছে। 


    রা঩জ্যের অধিকাংশ জায়গায় লোকাল ট্রেনের মহিলা কামরায় পুরুষ যাত্রীদের ভয়াবহ আক্রমণের মুখে পড়ছেন মহিলা যাত্রীরা। অশালীন অঙ্গভঙ্গির মুখেও পড়তে হওয়ার বিষয়টি বার বার সামনে এসেছে। রেল কর্তৃপক্ষের আশ্বাস সত্ত্বেও মহিলা যাত্রীদের নিরাপত্তাহীনতা বোধ করার ছবিটা বদলায়নি। 


    এদিন সকাল সাড়ে দশটা নাগাদ বর্ধমান তিনপাহাড় প্যাসেঞ্জার ট্রেন এসে থামে রাজগ্রাম স্টেশনে। তাতে দেখা গেল মহিলা কামরায় অধিকাংশই পুরুষ যাত্রী সফর করছেন। সপ্তাহে তিনদিন এই ট্রেনে সওয়ার হন কলেজ পডুয়া রিঙ্কু মণ্ডল। সাংবাদিকের ছবি তোলা দেখে তিনি জানালা দিয়ে হাত বাড়িয়ে ডেকে বলেন, বিষয়টি একটু রেলের নজরে নিয়ে আসুন। আতঙ্ক নিয়ে যাত্রা করতে হয়। মহিলা কামরায় মহিলারা দাঁড়িয়ে থাকলেও সিট ছাড়া হয় না। নিজেদের রেলকর্মী বলেও পরিচয় দেন কেউ কেউ। গুটকা, খৈনি বানানোর গন্ধ থেকে বাঁচতে নাকে রুমাল দিয়ে থাকতে হয়। 


    অভিযোগ, ট্রেন বড় স্টেশন ছেড়ে যাওয়ার পরেই ঢিলেঢালা নজরদারির সুযোগ নিয়ে মহিলা কামরায় পুরুষ যাত্রীদের আনাগোনা বাড়ছে। প্ল্যাটফর্মে অপেক্ষারত অবসর প্রাপ্ত শিক্ষক সৈয়দ হানিফ বলেন, মেয়ে বর্ধমানে কোচিং নিচ্ছে। সপ্তাহে একদিন বাড়িতে আসে। এই ট্রেনটির মহিলা কামরা ধরেই যাওয়া আসা করে। কিন্তু কিছুদিন ধরে দেখছি সাধারণ আর মহিলা কামরার সঙ্গে কোনও ফারাক নেই। মহিলা কামরায় পুরুষ যাত্রীদের এই অবাধ আনাগোনা রেলের নিরাপত্তার ফাঁকফোকরই ধরিয়ে দিচ্ছে বলে অভিযোগ। 


    রেলের এক আধিকারিক জানান, মহিলা কামরায় নিরাপত্তার দায়িত্ব আরপিএফ এবং জিআরপির। কিন্তু, কর্মীর অপ্রতুলতার কারণে সব ট্রেনে নিয়মিতভাবে রক্ষী দেওয়া সম্ভব হয় না। দূরপাল্লার মেল ও এক্সপ্রেস ট্রেনের কামরায় নিরাপত্তা দিতে গিয়ে লোকাল ট্রেন উপেক্ষিত হচ্ছে। তাও প্রায়ই ধরপাকড় চালানো হয়। 


    যদিও যাত্রীদের একাংশের অভিযোগ, ধরপাকড়ের নামে রেল পুলিস আসলে বয়স্ক এবং অশক্ত যাত্রীদের ধরে। যাঁরা ভিড় কামরায় উঠতে না পেরে বাধ্য হয়ে বা ভুল করে মহিলা কামরায় উঠে পড়েন।


    যদিও এই নিয়ে মুরারই রেল প্যাসেঞ্জার অ্যাসোসিশেনের সদস্য জগন্নাথ সেবাদত্ত বলেন, বর্ধমান থেকে মুরারই, রাজগ্রাম আসার সরাসরি লোকাল বলতে বর্ধমান তিনপাহাড় প্যাসেঞ্জার। আগে বর্ধমান মালদা টাউন প্যাসেঞ্জার ছিল। কিন্তু কোভিডের পর থেকেই তা বন্ধ। এদিকে জনসংখ্যা উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাচ্ছে। যাত্রী চাপ বাড়ছে। কিন্তু দশবছর আগে তিনপাহাড় প্যাসেঞ্জারে বগির সংখ্যা ছিল আট। এখনও সংখ্যাটা একই। দু’টি লোকালের যাত্রীদের একটির ভরসায় যাতায়াত করতে হচ্ছে। প্রচুর ভিড় হচ্ছে। তাতেই মহিলা কামরায় কিছুটা কম ভিড় দেখে পুরুষরা উঠে পড়ছে। তবে এটা কাম্য নয়। একমাত্র তিনপাহাড় প্যাসেঞ্জারের বগির সংখ্যা ১২ থেকে ১৫ করলে বা মালদা প্যাসেঞ্জার ট্রেন পুনরায় চালু করলেই এই প্রবণতা কমবে।  


    পূর্ব রেলের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক একলব্য চক্রবর্তী বলেন, মহিলা যাত্রীদের উদ্বেগের বিষয়টি আমাদের কাছেও চিন্তার। রেলকর্মী বা অন্য যেই হন, মহিলা কামরায় কারও ওঠা উচিত নয়। এটা অন্যায়। এই ধরনের ঘটনা এড়াতে রেলরক্ষীদের সঙ্গে কথা বলছি।
  • Link to this news (বর্তমান)