নবাবি ইতিহাস দর্শনে গরমকে উপেক্ষা পর্যটকের ঢল মুর্শিদাবাদে, খুশি ব্যবসায়ীরা
বর্তমান | ২০ জুন ২০২৪
সংবাদদাতা, লালবাগ: টানা অস্বস্তিকর ভ্যাপসা গরম উপেক্ষা করেও ইদুজ্জোহা উপলক্ষ্যে মঙ্গলবার সাবেক নবাবি মুলুক মুর্শিদাবাদের দর্শনীয় স্থানগুলিতে পর্যটকের ঢল নামল। সকাল থেকে হাজারদুয়ারি, কাটরা মসজিদ, কাঠগোলাপ বাগান, মোতিঝিল সহ দর্শনীয় স্থান এবং শহরের রাস্তায় পর্যটকদের ঠাসা ভিড় লক্ষ্য করা যায়। মানুষের ভিড়ে রাস্তায় পা রাখা দায় হয়ে ওঠে। পর্যটক, যানবাহনের ভিড়ে শহর অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে। ভিড় সামলাতে কর্তব্যরত পুলিসকর্মী ও সিভিক ভলান্টিয়ারদের রীতিমতো নাজেহাল অবস্থা হয়। মানুষের উপচে পড়া ভিড়ে হাসি ফুটেছে পর্যটনের সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন মহলে। আরও দিনকয়েক পর্যটকদের ভিড় হবে বলে দাবি ব্যবসায়ীদের।
লালবাগ মহকুমা পুলিস আধিকারিক সপ্তর্ষি ভট্টাটার্য বলেন, পর্যটকদের ভিড় সামলাতে শহরের রাস্তায় প্রচুর পুলিস মোতায়েন ছিল। অযথা যানজট এড়াতে বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ রাস্তায় টোটো নো-এন্ট্রি করা হয়। ইভটিজিং রুখতে মহিলা পুলিসের (উইনার্স টিম) একটি টিম শহরের রাস্তায় টহলদারি চালায়। মুর্শিদাবাদ পুরসভার চেয়ারম্যান ইন্দ্রজিৎ ধর বলেন, পুরসভার পক্ষ থেকে শহরের বিভিন্ন এলাকায় বেশ কয়েকটি ট্যুরিস্ট সহায়তা কেন্দ্র খোলা হয়েছে। জরুরিকালীন ভিত্তিতে বিপর্যয় মোকাবিলায় অ্যাম্বুলেন্স ও দমকলের একটি ইঞ্জিন মজুত রাখা হয়েছে।
রাজ্যের অন্যতম পর্যটন কেন্দ্র নবাবদের ইতিহাস সমৃদ্ধ মুর্শিদাবাদ। শহরের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা স্থাপত্য নিদর্শনগুলি নবাবদের ইতিহাসের সাক্ষ্য বহন করে চলেছে। সেই ইতিহাসের টানে সারাবছর পর্যটকদের আনাগোনা থাকে। তবে ইংরেজি নতুন বছর, সাধারণতন্ত্র দিবস, রমজান মাস শেষে ঈদ এবং ইদুজ্জোহা উপলক্ষ্যে কয়েকটি দিন পর্যটকদের ভিড় উপচে পড়ে। দু’মাস আগে ঈদ উপলক্ষ্যে দিনকয়েক হাজারদুয়ারি, মোতিঝিল পার্ক সহ দর্শনীয় স্থানগুলিতে প্রচুর সংখ্যায় পর্যটক সমাগম হয়েছিল। তারপর টানা তাপপ্রবাহের পাশাপাশি অস্বস্তিকর গরমে মুর্শিদাবাদ কার্যত পর্যটকশূন্য হয়ে পড়ে। তবে ইদুজ্জোহায় নবাবের শহরে পর্যটকদের ঢল নামবে, এই আশায় বুক বাঁধতে শুরু করেছিলেন পর্যটনের সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন পেশার মানুষ। প্রত্যাশামতো মঙ্গলবার সকাল থেকে পর্যটকদের ঢল নামায় হোটেল ব্যবসায়ী, গাইড, টাঙ্গাচালক সহ বিভিন্ন পেশার মানুষের মুখে চওড়া হাসি ফুটেছে।
কিল্লা নিজামতের এক খাবার হোটেলের ম্যানেজার বলেন, ইদুজ্জোহার পরের দিন হাজার হাজার পর্যটকের সমাগম হয়। চলতি বছরে টানা তাপপ্রবাহ ও ভ্যাপসা গরমের জন্য কিছুটা দুশ্চিন্তা ছিল। কিন্তু এদিন সকাল থেকে পর্যটকদের ঢল নামে। সকাল ১১টা থেকে বিকেল পর্যন্ত পর্যটকদের ঠাসা ভিড় ছিল। ক্রেতা সামলাতে ১০-১২ জন হোটেল কর্মীর নাকানিচোবানি অবস্থা হয়।
গাইড সঞ্জয় দত্ত বলেন, এই আবহাওয়ায় এত পর্যটকের সমাগম হবে ভাবতেই পারিনি। হরিহরপাড়া থেকে স্ত্রী ও দুই ছেলেমেয়েকে নিয়ে এসেছিলেন বিএসএফ জওয়ান কাজল শেখ। এই আবহাওয়ায় আসার ইচ্ছা ছিল না। তবে ছেলেমেয়েরা জেদ ধরায় আসতে হল। সিটি মুর্শিদাবাদ ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সম্পাদক স্বপন ভট্টাচার্য বলেন, সোমবার দুপুরের পর পার্শ্ববর্তী এলাকার কিছু মানুষের সমাগম হয়েছিল। এদিন সকাল থেকে জেলার বিভিন্ন প্রান্তের পাশাপাশি মালদহ, নদীয়া থেকেও পর্যটকরা এসেছিলেন। আরও দু-তিন দিন ভিড় হবে বলে আশা করছি।