• জীবনযুদ্ধ জিততে পারল না খুদে স্নেহা, শোকের ছায়া চাঁচলের গ্রামে
    বর্তমান | ২০ জুন ২০২৪
  • সঞ্জিত সেনগুপ্ত, শিলিগুড়ি ও উজির আলি, চাঁচল:  চাঁচল-২ ব্লকের কালীগঞ্জের বাড়ি ফিরে আর বন্ধুদের সঙ্গে গল্প করা হল না ছোট্ট স্নেহার। বাবা ও মাকে উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের বেডে ফেলে রেখে কফিনবন্দি হয়ে মালদহের পথে পাড়ি দিল খুদের দেহ। সোমবার রাঙাপানিতে অভিশপ্ত ট্রেনে গুরুতর জখম হয়ে মঙ্গলবার ভোরে মারা যায় ছয় বছরের স্নেহা মণ্ডল। সাতসকালে সেই খবর পৌঁছতেই শোকের আবহ চাঁচলের কালীগঞ্জ গ্রামে। এদিনই রাতে তার দেহ আসতেই কান্নায় ভেঙে পড়েন গ্রামবাসী। হাজির ছিলেন জেলা প্রশাসনের শীর্ষ কর্তারাও। 


    বাবা-মায়ের সঙ্গে জলপাইগুড়িতে মাসির বাড়িতে বেরাতে এসেছিল স্নেহা। তিন দিন কেটেছে আনন্দেই। তাই বাড়ি ফেরার সময় মনটা একটু ভারীই ছিল তার। সোমবার বাড়ি পৌঁছে মঙ্গলবার থেকে স্কুলে যাওয়ার কথা ছিল স্নেহার। আদতে বাড়ি কালীগঞ্জে হলেও দুই সন্তানের পড়াশোনার জন্য মালদহের সামসিতে বাড়ি ভাড়া নিয়েছিলেন মহিলাল মণ্ডল। তিনি মানিকচক হাইস্কুলের শিক্ষক। স্ত্রী ছবিলাল মণ্ডল ক্ষেমপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের তৃণমূলের সদস্য। বড় ছেলে শুভদীপ মণ্ডলকে রতুয়ার দুর্গাপুরে দাদুর বাড়িতে রেখে স্বামী ও মেয়েকে নিয়ে বোনের বাড়িতে বেড়াতে যান ছবি। স্বামীর স্কুল রয়েছে বলে সোমবারই জলপাইগুড়ি রোড স্টেশনে কাঞ্চনজঙ্ঘা এক্সপ্রেসের শেষ সাধারণ কামরায় উঠেছিলেন তাঁরা। মেয়ের গোমরা মুখ দেখে বাবা-মা বলেছিলেন, আবার বেড়াতে নিয়ে যাবেন। তবে বাড়ি ফিরে মন দিয়ে পড়াশোনা করতে হবে। তাই হাসিমুখেই কামরার সিটে বসে মোবাইল দেখছিল সে। কিন্তু আচমকাই সব উলটপালট হয়ে গেল। গুরুতর জখম হয়ে প্রায় ২০ ঘণ্টা লড়াই শেষে উত্তরবঙ্গ মেডিক্যালে হার মানল খুদের প্রাণ। 


    গুরুতর জখম হন বাবা মহিলাল মণ্ডল এবং মা ছবি মণ্ডল। খুদের বাবা বলেন, স্নেহার চোট গুরুতর ছিল। পিকু ওয়ার্ডে ভেন্টিলেশনে ওর চিকিৎসা চলছিল। অনেক চেষ্টা করেও মেয়েটাকে বাঁচাতে পারলাম না। জানিনা কীভাবে বেঁচে থাকব। স্ত্রীকে এখনও বিষয়টি জানায়নি। ওঁর চোট গুরুতর। 


    সোমবার গাড়ি ভাড়া জরে শিলিগুড়ি আসেন স্নেহার জ্যেঠু দুলাল মণ্ডল।  এদিন মেডিক্যালের মর্গের সামনে দাঁড়িয়ে তাঁর মন্তব্য, ভাই বলছিল স্নেহার অবস্থা আশঙ্কাজনক। মেয়েকে বাঁচাতে স্ত্রীকে রেখেই দুর্ঘটনাস্থল থেকে এক ব্যক্তির বাইকে চেপে স্নেহাকে  হাসপাতালে নিয়ে এসেছিল। তবু বাঁচানো গেল না মেয়েটাকে। 


    কালিগঞ্জের বাড়িতে এদিন শোকের আবহে স্নেহার জ্যেঠিমা রীণা মণ্ডল বলেন, ছটপটে মেয়েটা যে এভাবে চলে যাবে ভাবতেই পারছি না। রেলের গাফিলতির জন্যই এমন হল।  যতই ক্ষতিপূরণ দিক, বাবা-মায়ের কোল খালি হওয়ার কোনও ক্ষতিপূরণ হয় না। সোমবার রাতে কালিগঞ্জের বাড়িতে যান চাঁচলের মহকুমাশাসক শৌভিক মুখোপাধ্যায় ও মালতীপুরের বিধায়ক আবদুর রহিম বকসি। তারা পরিবারটির পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন। 


     শোকস্তব্ধ স্নেহার পরিবার। ইনসেটে স্নেহা মণ্ডল। - নিজস্ব চিত্র।
  • Link to this news (বর্তমান)