সংবাদদাতা, আলিপুরদুয়ার: বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্পের জঙ্গলে ভিনরাজ্য থেকে বাঘ আনার পরিকল্পনা বনদপ্তরের বহু দিনের। সেই লক্ষ্যে ন্যাশনাল টাইগার কনজারভেশন অথরিটি ও রাজ্য সরকারের গাইডলাইন মেনে বক্সার সংরক্ষিত এলাকা থেকে বনবস্তিগুলি অন্যত্র সরানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। আর্থিক প্যাকেজ নিয়ে গাঙ্গুটিয়া ও ভুটিয়াবস্তি কালচিনির ভাটপাড়া চা বাগানের কাছে গিয়েছে। এবার বক্সার কোর এলাকায় থাকা জয়ন্তীর বাসিন্দারা পুনর্বাসনে যেতে রাজি হলেন।
মঙ্গলবার জয়ন্তী বনবস্তির সিংহভাগ বাসিন্দা জয়ন্তী নদীর ধারে সাংবাদিক সম্মেলন করে পুনর্বাসনে যাওয়ার ইচ্ছার কথা জানান। জয়ন্তীর ৪৪৯ জন উপভোক্তার মধ্যে ৪২৭ জন পুনর্বাসনে যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেন এদিন। জয়ন্তী গ্রামসভার সম্পাদক আশিস দে বলেন, আমরা আর কোনওভাবেই জঙ্গলের ভিতরে প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের মধ্যে থাকতে চাই না। আমরা আর্থিক প্যকেজ নিয়ে পুনর্বাসনে যেতে রাজি। বনদপ্তর ও প্রশাসন দুর্গাপুজোর আগেই আমাদের অন্যত্র পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করুক।
জয়ন্তীর বাসিন্দা আলিপুরদুয়ার মহিলা মহাবিদ্যালয়ের তৃতীয় বর্ষের ছাত্রী নেহা কুর্মী বলেন, জয়ন্তী থেকে আলিপুরদুয়ারে সারাদিনে মাত্র একটিই বাস। যাতায়াতের অসুবিধার কারণে কোনওদিনই কলেজের সব ক্লাস করতে পারি না। জয়ন্তীতে থেকে উচ্চশিক্ষা সম্ভব নয়। প্রশাসন আমাদের এখান থেকে দ্রুত অন্যত্র থাকার ব্যবস্থা করুক। সোমা সিং ও শুক্লা হোড় দাস বলেন, এখানে খাওয়ার জল নেই। কর্মসংস্থান নেই। আমাদের বাড়ির পুরুষরা বাইরে কাজ করেন। বর্ষার সময় ভয়ে ভয়ে থাকি, কখন জয়ন্তী নদীর জলস্ফীতিতে বাড়িঘর ভাসিয়ে নিয়ে যাবে। প্রশাসন গাঙ্গুটিয়া ও ভুটিয়াবস্তির মতো আমাদেরও অন্যত্র পুনর্বাসন দিক।
আলিপুরদুয়ার জেলা প্রশাসন, বন ও ভূমিদপ্তর জয়ন্তীর বাড়ি বাড়ি গিয়ে যৌথ সমীক্ষা করেছে। বনদপ্তর জানিয়েছে, পুনর্বাসনের জন্য জয়ন্তীর ৪৪৯ জন উপভোক্তা চিহ্নিত করা হয়েছে। ৪২৭ জন পুনর্বাসনে রাজি হয়েছেন। বাকি ২২ উপভোক্তা এখনও আগ্রহ প্রকাশ করেননি। পুনর্বাসনের জন্য গাঙ্গুটিয়া ও ভুটিয়াবস্তির প্রত্যেক পরিবারের স্বামী-স্ত্রী মিলিয়ে ১৫ লক্ষ টাকা করে আর্থিক প্যাকেজ পেয়েছেন। পরিবারের প্রাপ্তবয়স্ক ছেলে বা মেয়েদেরও প্রত্যেককে ১৫ লক্ষ টাকা করে দেওয়া হয়েছে। বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্পের পূর্ব ডিভিশনের উপক্ষেত্র অধিকর্তা দেবাশিস শর্মা বলেন, জয়ন্তীর বাসিন্দাদের পুনর্বাসনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। ইতিমধ্যেই সমীক্ষা করে উপভোক্তাদের চিহ্নিত করেছি আমরা। শীঘ্রই উপর মহলে প্রস্তাব পাঠানো হবে। হাত তুলে পুনর্বাসনে সমর্থন বাসিন্দাদের। নিজস্ব চিত্র