• ব্যস্ত মালদহ ডিভিশনের বেশিরভাগ লাইনেই নেই ‘কবচ’ সুরক্ষা, উদ্বেগ
    বর্তমান | ২০ জুন ২০২৪
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, মালদহ: কাঞ্চনজঙ্ঘা এক্সপ্রেস দুর্ঘটনার কবলে পড়ার পর রেলের ‘কবচ’ প্রযুক্তি নিয়ে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। দুর্ঘটনার পর উত্তরবঙ্গে রেলের সুরক্ষা খতিয়ে দেখা শুরু হয়েছে। মালদহ ডিভিশনে রেলের ট্র্যাক বা কোনও ট্রেনের ইঞ্জিনে ‘কবচ’ প্রযুক্তি নেই। বিষয়টি নিয়ে অবশ্য রেলের আধিকারিকরা এদিন সরাসরি মন্তব্য করতে চাননি। ডিভিশনের জনসংযোগ বিভাগের এক আধিকারিক বলেন, কয়েক মাস আগে মালদহ ডিভিশনে কবচ প্রযুক্তি বসানোর কথা হয়েছিল। পরীক্ষামূলকভাবে মালগাড়ির ইঞ্জিনের সঙ্গে জুড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছিল। কিন্তু বিভিন্ন কারণে ওই বিষয়টি এখনও করা যায়নি। সবে সবে দুর্ঘটনা ঘটেছে। ফলে এনিয়ে আমরা সংবাদমাধ্যমের সামনে বিশেষ কিছু বলতে পারব না। 


    রেলের সুরক্ষা ব্যবস্থা মজবুত করতে বছর চারেক আগে কবচ প্রযুক্তি বসানোর ব্যাপারে মন্ত্রক সিদ্ধান্ত নেয়। একাধিক সংস্থার সঙ্গে রেল ওই প্রযুক্তি ব্যবহারের ব্যাপারে আলোচনা করে। পরে তা কিছু কিছু জায়গায় ব্যবহার শুরু হয়। কবচ প্রযুক্তি থাকলে অনেকাংশে দুর্ঘটনা এড়ানো যাবে বলে আধিকারিকরা জানিয়েছেন। ওই প্রযুক্তির আওতায় এক ধরনের ‘ডিভাইস’ রেলের লাইন বা ট্র্যাক এবং ট্রেনের ইঞ্জিনে বসানো থাকে। ফলে কোনও লাইনে ট্রেন থাকলে ডিভইস স্বয়ংক্রিয় হয়ে কাজ করতে শুরু করে। ওই সময় সংশ্লিষ্ট লাইনে অন্য কোনও ট্রেন এলে চালক বুঝতে পারেন। তবে সেক্ষেত্রে দ্বিতীয় ট্রেনের ইঞ্জিনেও কবচ প্রযুক্তি থাকা জরুরি। কিছুটা দূর থেকে অন্য ট্রেনের উপস্থিতি টের পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে চালক সতর্ক হয়ে যান। তিনি ব্রেক কষে ট্রেন থামিয়ে দেওয়ার মতো সময় পান। কোনও কারণে চালক ওই কাজ না করলেও প্রযুক্তির আওতায় স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে ট্রেনের ব্রেক চাকার উপর চেপে বসবে বলেও আধিকারিকরা জানিয়েছেন। এর ফলে দু’টি ট্রেনের মুখোমুখি সংঘর্ষ বা একটির পিছনে অন্য ট্রেনের ধাক্কা (যেমন কাঞ্চনজঙ্ঘার ক্ষেত্রে হয়েছে) মারার ঘটনা এড়ানো যাবে। 


    এদিকে, মালদহ ডিভিশনের আওতায় প্রতিদিন মেল, এক্সপ্রেস, প্যাসেঞ্জার, পণ্যবাহী মিলিয়ে শতাধিক ট্রেন চলাচল করে। রাজ্যের মধ্যে অন্যতম ব্যস্ত ওই ডিভিশনের মাধ্যমে উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের মধ্যে রেল সমন্বয় বজায় রাখে। বিহার, ঝাড়খণ্ডের ডিভিশনগুলিও মালদহের সঙ্গে যুক্ত। মালদহ ডিভিশনের আওতায় মুর্শিদাবাদ জেলার রেললাইনও রয়েছে। ফলে গুরুত্বপূর্ণ ওই ডিভিশনে রেলের ট্র্যাক বা কোনও ট্রেনে কেন কবচ প্রযুক্তি বসানো যায়নি তা নিয়ে চর্চা শুরু হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে রেলের বিরুদ্ধে যাত্রীরা তোপ দাগতে শুরু করেছেন। 


    মালদহের বাসিন্দা তপন চট্টোপাধ্যায়, অভিষেক দাস বলেন, করোনা পরবর্তী সময়ে ‘স্পেশাল’ নাম দিয়ে প্যাসেঞ্জার ট্রেনের যাত্রীদের কাছ থেকে রেল তিনগুণ ভাড়া আদায় করেছে। বিভিন্ন ধরনের চার্জ বসিয়ে ভাড়া বাড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। অথচ পরিষেবার দিকে রেলের নজর নেই। আমরা অবিলম্বে মালদহ ডিভিশনে কবচ প্রযুক্তি চালুর দাবি জানাচ্ছি। 
  • Link to this news (বর্তমান)