• সারের জোগান ঠিক রাখার দাবি কেন্দ্রকে জানাবে রাজ্য
    বর্তমান | ২০ জুন ২০২৪
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: কৃষিক্ষেত্রে বাংলাই মডেল। রাজ্যের নিজস্ব প্রকল্পের পাশাপাশি কেন্দ্রীয় প্রকল্পের কাজও রাজ্যে ভালোভাবে রূপায়িত হয়েছে। মূলত রাষ্ট্রীয় কৃষি বিকাশ যোজনার কাজে নজির গড়েছে বাংলা। ফলে নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত সাম্প্রতিক এক বৈঠকে পূর্ব ভারতের অন্যান্য রাজ্যের আধিকারিকদের সামনে বাংলাকেই মডেল হিসেবে তুলে ধরেছে কৃষিমন্ত্রক। একইসঙ্গে জেলায় জেলায় কতটা সারের প্রয়োজন এবং কতটা জোগান রয়েছে, তা দেখতে এলাকায় এলাকায় কৃষিদপ্তরের আধিকারিকরা যাবেন বলেও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সারের অতিরিক্ত দাম নিলে ডিলারদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে জেলায় নিযুক্ত দপ্তরের আধিকারিকদের। তবে, সারের জোগান ঠিক রাখতে কেন্দ্রকেও জানানো হবে বলেও সূত্রের খবর।


    মঙ্গলবার রাজ্যের কৃষি পরিস্থিতি নিয়ে প্রতিটি জেলার সঙ্গে বৈঠকে বসেন কৃষিমন্ত্রী শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। ছিলেন কৃষিসচিব ওঙ্কার সিং মিনা, কৃষি অধিকর্তা আশুতোষ মণ্ডল। নবান্ন সূত্রে খবর, এই বৈঠকেও রাজ্যের এই সাফল্য নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তবে আরও কোন কোন ক্ষেত্রে বেশি নজর দেওয়ার প্রয়োজন সে বিষয়েও এদিন আলোচনা হয়েছে। বৈঠকের পরে শোভনদেববাবু বলেন, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে একেবারে তৃণমূল স্তর পর্যন্ত সমস্ত প্রকল্পের সুবিধা পৌঁছে দেওয়াই আমাদের মূল লক্ষ্য। সেই লক্ষ্যে কাজ করেই আমরা সফল হয়েছি এবং কেন্দ্র আজ বাংলাকে মডেল বলে তুলে ধরছে। তিনি আরও বলেন, আমরা কেন্দ্রের কাছে সার সরবরাহ ঠিক রাখার দাবি জানাব। 


    লোকসভা নির্বাচনের পরে এদিনের পর্যালোচনা বৈঠকে খরিফ ও রবি মরশুমে রেকর্ড শস্য উৎপাদনের লক্ষ্য রেখে বেশকিছু পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। মাটির স্বাস্থ্য পরীক্ষার কাজ আগামী ১৫ জুলাইয়ের মধ্যে শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ফসল ধারণ ক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যেই এই স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হবে। এর জন্য প্রয়োজনীয় সমস্তরকম সহায়তা দেবে কৃষিদপ্তর। এর পাশাপাশি, রাজ্যের অধীন কৃষি খামারগুলিতে আরও বেশি সংখ্যায় ফলের গাছ লাগানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। খামারগুলিতে পর্যাপ্ত জলের জোগান নিশ্চিত করতে পুকুর কাটা হবে। 


    এছাড়া দার্জিলিং ও কালিম্পংয়ের মতো পাহাড়ি এলাকায় ধানের বদলে বিকল্প চাষের উপর জোর দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাহাড়ি অঞ্চলের পাশাপাশি বাঁকুড়া ও পুরুলিয়ার মতো অন্য রুক্ষ এলাকাগুলিকেও এমন অগ্রাধিকারের তালিকায় রাখা হয়েছে।
  • Link to this news (বর্তমান)