• অর্থনীতি বিষয়ে এবছর কলেজে ভর্তির খরা কাটবে কি? জল্পনায় শিক্ষক মহলশুরু হয়ে যাচ্ছে কলেজের ভর্তি প্রক্রিয়া। তবে, তার আগে একটা...
    বর্তমান | ২০ জুন ২০২৪
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: শুরু হয়ে যাচ্ছে কলেজের ভর্তি প্রক্রিয়া। তবে, তার আগে একটা প্রশ্ন ঘুরেফিরে উঠছে শিক্ষামহলে, এবার কি ইকনমিক্সে ছাত্রছাত্রীর খরা কাটবে? কয়েক বছরের ট্রেন্ড বলছে, ছাত্রভর্তির নিরিখে প্রধান বিষয়গুলির মধ্যে সবচেয়ে কঠিন অবস্থায় রয়েছে অর্থনীতি। রাজ্যের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের কলেজগুলিতে প্রায় একই অবস্থা। ফলে, নতুন করে অর্থনীতি বিভাগ খোলার আবেদনও পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গিয়েছে কলেজগুলির তরফে। অথচ, বাঙালি অর্থনীতিবিদদের সুনাম বিশ্বজুড়ে। অমর্ত্য সেন, অভিজিৎ বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়দের মতো নোবেলজয়ী না-হলেও অম্লান দত্ত, বিবেক দেবরায়, কৌশিক বসু, অভিজিৎ সেন, অমিয় বাগচি, অমিয় দাশগুপ্তদের চেনে গোটা দেশ। সেই বাংলায় অর্থনীতি পড়ায় অনীহা শিক্ষকমহলের বেশ উদ্বেগ বাড়িয়েছে।


    ছবিটা কতখানি ভয়াবহ, তার উদাহরণ মিলবে কিছু তথ্যে চোখ বোলালে। কলকাতার খিদিরপুর কলেজ, হুগলির আরামবাগ কলেজ, মুর্শিদাবাদের কান্দি রাজ কলেজের মতো প্রতিষ্ঠানে অর্থনীতি বিভাগে ভর্তি শূন্যে নেমে এসেছে! বারাসত রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্ধেকের বেশি কলেজে অর্থনীতি বিভাগে কোনও ছাত্র নেই। গৌড়বঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের ৯টি কলেজে গতবছর ইকনমিক্স মেজরে ভর্তি হয়েছেন মাত্র ১৮৫ জন। তবে, গৌড়বঙ্গের এই হিসেব বিগত সিবিসিএস বা চিরাচরিত অনার্সের সাপেক্ষে ভালো। সিবিসিএস প্রথম সেমেস্টারে রয়েছেন চারজন। তৃতীয় এবং চতুর্থ সেমেস্টারে রয়েছেন যথাক্রমে ২৩ জন এবং ৪২ জন। এর ফলে স্নাতকোত্তরেও মানের ছাত্রছাত্রী মিলছে না। সেখানে দ্বিতীয় সেমেস্টারে রয়েছেন ১০ জন। তার মধ্যে পাঁচজনই প্রথম সেমেস্টারে উত্তীর্ণ হতে পারেননি। বহু কলেজেই শিক্ষকরা আসেন। স্টাফরুমে বসে গল্প করে কাটিয়ে বাড়ি ফিরে যেতে বাধ্য হন। 


    এর কারণ খুঁজতে গেলে বিভিন্ন দিক পর্যালোচনা করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন শিক্ষকরা। গণিতের ভীতি এর একটা কারণ। অর্থনীতির শিক্ষক তথা চন্দননগর গভর্নমেন্ট কলেজের শিক্ষক দেবাশিস সরকারের বক্তব্য, বেসরকারি ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের সংখ্যাবৃদ্ধি এর অন্যতম কারণ। ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে সুযোগ না পেয়ে একটা বড় অংশের ছাত্র বা ছাত্রী অর্থনীতি বা রাশিবিজ্ঞান পড়তেন। এখন, ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের আসনই ফাঁকা থাকে। আর যাঁরা স্কুলশিক্ষক হওয়ার জন্য অর্থনীতি পড়তেন, তাঁরা মুখ ফিরিয়ে রেখেছেন দীর্ঘ নিয়োগ জটিলতার জন্য। নিউ আলিপুর কলেজের অধ্যক্ষ জয়দীপ ষড়ঙ্গী বলেন, ‘দশম শ্রেণি পর্যন্ত বিষয়টি স্কুলপাঠ্যে না-থাকার কারণেও অনেকে উৎসাহী হচ্ছে না। কারণ, শিক্ষকতার চাকরির সুযোগ কম।’ তাছাড়া, জাতীয় শিক্ষানীতিতে চার বছরের ডিগ্রি কোর্স চালু হওয়ায় এই অনীহা আরও বেড়েছে। দক্ষিণ থেকে উত্তরবঙ্গে ছবিটা একই।


    ইকনমিক্স অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ে শুধুমাত্র বিজ্ঞানের বিষয় হিসেবে গণ্য করে। সেই কারণে উচ্চ মাধ্যমিকে গণিত বা রাশিবিজ্ঞানের মতো বিষয় না-থাকলে বিষয়টিতে অনার্স বা মেজরে ভর্তির সুযোগ দেওয়া হয় না। বারাসতের পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে এই নিয়মই রয়েছে। বিরাটির মৃণালিনী দত্ত মহাবিদ্যালয়ের এক অর্থনীতির শিক্ষক বলেন, গতবছর একজন ছাত্র ইকনমিক্সে ৭২ নম্বর নিয়ে আবেদন করেছিলেন। তবে, উচ্চ মাধ্যমিকে তার গণিত না-থাকায় তাঁকে ভর্তি নেওয়া যায়নি। 


    প্রসঙ্গত, কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে অবশ্য আর্টস এবং সায়েন্স দু’টি বিভাগেই বিষয় হিসেবে ইকনমিক্স রাখা হয়েছে। গণিত থাকলে সেটা সায়েন্স, না-থাকলে তা আর্টসের বিষয়। এই নমনীয়তা সব বিশ্ববিদ্যালয়ে থাকলে ছবিটা কিছু হলেও পাল্টাবে বলেই মত শিক্ষকদের। 
  • Link to this news (বর্তমান)