• শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে থাকা কেন্দ্রীয় বাহিনী সরাতে রাজ্য-কেন্দ্র কী ভাবছে, রিপোর্ট তলব কোর্টের
    বর্তমান | ২০ জুন ২০২৪
  • নিজস্ব প্রতিনিধি. কলকাতা: রাজ্যের কতগুলি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কেন্দ্রীয় বাহিনী রয়েছে তা নিয়ে হাইকোর্টে ভিন্ন তথ্য পেশ করল রাজ্য ও কেন্দ্র। রাজ্যের স্কুলগুলিতে কেন্দ্রীয় বাহিনী থাকার কারণে সেগুলি খোলা যাচ্ছে না। তাতে ক্ষতি হচ্ছে পঠনপাঠনের। এই অভিযোগে একটি জনস্বার্থ মামলা দায়ের হয়েছিল হাইকোর্ট। সেই সূত্রেই বর্তমানে ঠিক কতগুলি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বাহিনী রয়েছে, সে সম্পর্কে বিচারপতি হরিশ ট্যান্ডন ও বিচারপতি হিরণ্ময় ভট্টাচার্যের ডিভিশন বেঞ্চ রিপোর্ট তলব করেছিল রাজ্য ও কেন্দ্রের কাছে। 


    কিন্তু মঙ্গলবার এই বিষয়েই ভিন্ন তথ্য পেশ করেছে রাজ্য ও কেন্দ্র। রাজ্যের হিসেব অনুযায়ী, বর্তমানে ৯৫টি স্কুলে রয়েছে বাহিনী। অন্যদিকে, কেন্দ্র জানিয়েছে, বর্তমানে রাজ্যে থাকা ৪০০ কোম্পানি বাহিনীর মধ্যে ২৩২ কোম্পানি ২৩২টি স্কুল-কলেজ ও অন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে রয়েছে। উভয়ের বক্তব্য শোনার পর ফের একটি রিপোর্ট তলব করেছে বেঞ্চ। এখনও যে সংখ্যক কেন্দ্রীয় বাহিনী এরাজ্যে রয়েছে, তাদের অন্যত্র সরানোর বিষয়ে রাজ্য ও কেন্দ্রের পরিকল্পনা কী, রিপোর্ট দিতে হবে তা নিয়েই। মামলাটির পরবর্তী শুনানি ২১ জুন।  


    এদিকে, ভোট-পরবর্তী হিংসার মামলায় হাইকোর্টের নির্দেশমতো মঙ্গলবার রিপোর্ট জমা দিয়েছেন রাজ্য পুলিসে ডিজি সঞ্জয় মুখোপাধ্যায়। এদিন ডিজির হয়ে সেই রিপোর্ট জমা দিয়েছেন আইজি শঙ্খশুভ্র চক্রবর্তী। তাতে জানানো হয়েছে, ৬-১২ জুন সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ই-মেলে ডিজির কাছে ৫৬০টি অভিযোগ জমা পড়েছে। হাইকোর্টের নির্দেশমতো নয়া ই-মেল আইডি খোলা হয়েছে। তার মাধ্যমে পাওয়া অভিযোগগুলির মধ্যে ১০৭টি ক্ষেত্রে এফআইআর দায়ের হয়েছে। ৯২টি অভিযোগ বিচার্য অপরাধ বলে মনে করা হয়নি। অনুসন্ধানে ১১৪টি অভিযোগের সারবত্তা মেলেনি। ৮৮টি ক্ষেত্রে একই মামলায় ভুয়ো অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। ১৮টি অভিযোগ ভোট-পরবর্তী সন্ত্রাসের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত নয়। তিনটি অভিযোগ অসম্পূর্ণ। ১৩৮টি ক্ষেত্রের অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।


    রাজ্যের এই রিপোর্টের প্রেক্ষিতে নতুন করে হলফনামা জমা দেওয়ার আবেদন জানিয়েছেন মামলাকারীরা। তাঁদের দাবি, ভোট-পরবর্তী হিংসার জেরে এখনও বহু মানুষ ঘরছাড়া। বিচারপতি ট্যান্ডন এবং বিচারপতি ভট্টাচার্যের ডিভিশন বেঞ্চ জানিয়েছে, নাগরিক সুরক্ষা এবং নিরাপত্তার বিষয়ে কী পদক্ষেপ করা হয়েছে, তা নিয়ে স্পষ্ট অবস্থান জানাতে হবে রাজ্যকে। পরবর্তী শুনানি আগামী কাল, বৃহস্পতিবার।
  • Link to this news (বর্তমান)