• কোনা এক্সপ্রেসওয়ে’র এলিভেটেড করিডরের কাজ শুরু পুজোর আগে
    বর্তমান | ২০ জুন ২০২৪
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: দুর্গাপুজোর আগেই চালু হয়ে যাচ্ছে কোনা এক্সপ্রেসওয়ের উপরে এলিভেটেড করিডরের কাজ। এই কাজ করছে জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষ। তবে এই কাজের জন্য যাতে তাদের কোনওভাবে বাধা না পেতে হয়, তা নিশ্চিত করছে রাজ্য সরকার। সেই নিরিখে নির্মাণকারী সংস্থার হাতে সম্পূর্ণ জমি হস্তান্তরের দায়িত্ব রাজ্যের। নবান্ন সূত্রে খবর, ৭.১ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে এই ফ্লাইওভারের কাজ হবে। এর মধ্যে মাত্র ২৫০ মিটার অংশে কাজের জন্য প্রয়োজনীয় জমি হস্তান্তর বাকি রয়েছে। আগামী এক মাসের মধ্যেই হস্তান্তর সম্ভব হবে বলেই আশাবাদী রাজ্য প্রশাসন। ফলে দুর্গাপুজোর আগে পুরোদমে কাজ শুরুর ক্ষেত্রে কোনও বাধা থাকবে না বলেই জানিয়েছেন রাজ্যের পদস্থ কর্তারা। 


    জাতীয় সড়ক দুই এবং ছয় হয়ে দ্বিতীয় হুগলি সেতু ধরে কলকাতায় ঢোকার মূল রাস্তাই হল কোনা এক্সপ্রেসওয়ে। প্রতিদিন ৩০ হাজারের বেশি গাড়ি চলাচল করে এই রাস্তা দিয়ে। ফলে যানজট এখানে নিত্যদিনের ব্যাপার। তাই চূড়ান্ত হয়রানির শিকার হতে হয় সাধারণ মানুষকে। তার উপর সাঁতরাগাছি স্টেশন থেকে বেরিয়ে গন্তব্যে পৌঁছতে সাধারণ মানুষের কাছে একমাত্র পথ হল এই কোনা এক্সপ্রেসওয়ে। ফলে ২০১৭ সালে একেবারে নবান্নের কাছে দ্বিতীয় হুগলি সেতুর টোল প্লাজার সামনে থেকে উড়ালপুল বা এলিভেটেড করিডর তৈরির পরিকল্পনা করা হয়। তবে নানান কারণে প্রকল্প বাস্তবায়ন সম্ভব হয় না। গত বছর এই প্রকল্প নিয়ে জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে একাধিক বৈঠক করেন নবান্নের শীর্ষ কর্তারা। বৈঠক হয় হাওড়া প্রশাসনের সঙ্গেও। বেঁধে দেওয়া হয় জমি হস্তান্তরের সময়সীমা। সেই সময়সীমাকে সামনে রেখেই কাজ এগিয়ে নিয়ে যায় হাওড়া প্রশাসন। তবে চারটি জায়গার জমি হাতে পাওয়া নিয়ে দেখা দেয় জটিলতা। তবে বর্তমান বসবাসকারীদের সঙ্গে আলোচনা চলছে বলেই রাজ্যের এক আধিকারিক জানিয়েছেন। তিনি বলেন, অধিকাংশ জমিই আমরা হস্তান্তর করে দিয়েছি। ফলে ইতিমধ্যে মেশিন পত্র নিয়ে আসার কাজও শুরু হয়েছে। বাকি যে ২৫০ মিটার জমি নিয়ে সমস্যা আছে, তা নিয়ে আলাপ আলোচনা চলছে। আগামী এক মাসের মধ্যে আমরা এই সমস্যা মেটাতে পারব বলেই আশাবাদী। ফলে বাকি জায়গায় কাজ চলতে চলতে এই ২৫০ মিটার এলাকার জমিও আমরা হস্তান্তর করে দিতে পারব। 


    নবান্নের এক আধিকারিক বলেন, এই কাজ সম্পূর্ণভাবে চালুর আগে যান চলাচলের জন্য বিকল্প রাস্তা নিশ্চিত করতে হবে। এই বিষয় নিয়ে মাঝেমধ্যেই বৈঠকে বসছেন হাওড়া জেলা প্রশাসন, কলকাতা পুলিস, হাওড়া সিটি ও গ্রামীণ পুলিসের কর্তারা। তিনি বলেন, মনে রাখতে হবে কলকাতায় ঢোকার মূল রাস্তাই হল এই কোনা এক্সপ্রেসওয়ে। ফলে দুর্গাপুজো তথা অন্যান্য সময় যাতে মানুষের বেশি হয়রানি না হয়, সেদিকটাও মাথায় রাখতে হচ্ছে।
  • Link to this news (বর্তমান)