রেমালে ভেঙেছে জেটির একাংশ, রবিবার পর্যন্ত বন্ধ ফেরি পরিষেবা
বর্তমান | ২০ জুন ২০২৪
নিজস্ব প্রতিনিধি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: রেমাল ঘূর্ণিঝড়ে ডায়মন্ডহারবারে জেটির একটা অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেটা এতদিন জোড়াতাপ্পি দিয়ে চলছিল। কিন্তু ঝুঁকি না নিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত অংশ পরিবর্তন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে পরিবহণ দপ্তর। আর সেই কাজের জন্য আজ, বুধবার থেকে রবিবার পর্যন্ত পাঁচদিন ডায়মন্ডহারবার জেটি থেকে কুঁকড়াহাটি যাওয়ার ফেরি পরিষেবা বন্ধ থাকবে। এই মর্মে ফেরিঘাটে নোটিস টাঙিয়ে দেওয়া হচ্ছে।
এদিকে, টানা পাঁচদিন ভেসেল ও নৌকা বন্ধ থাকার ফলে তীব্র ভোগান্তির আশঙ্কা করছেন যাত্রীরা। সেক্ষেত্রে ডায়মন্ডহারবার ও আশপাশের যাত্রীদের নদী পার করে কুঁকড়াহাটি যেতে রায়চক যেতে হবে। সেখানেও যাত্রীদের ভালো চাপ পড়বে বলেই মনে করা হচ্ছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মে মাসের শেষ দিকে যে রেমাল ঘূর্ণিঝড় আছড়ে পড়েছিল, তাতেই এই জেটি ও গ্যাংওয়ের সংযোগকারী স্থানের একটি অংশ ভেঙে যায়। প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের তিন-চারদিন পর বিষয়টি নজরে আসে ডায়মন্ডহারবার পুরসভার। যেহেতু এটি পরিবহণ দপ্তরের অধীনে রয়েছে তাই তাদের বিষয়টি জানানো হয়। দপ্তরের ইঞ্জিনিয়াররা এসে পরিদর্শন করে অস্থায়ীভাবে কাজ চালানোর মতো করে ওই অংশটি সারাই করে দেন। কিন্তু সেটা দীর্ঘমেয়াদি সমাধান নয় বলে জানিয়ে দিয়েছিলেন বিশেষজ্ঞরা। সূত্রের খবর, যে অংশটি ভেঙেছে, সেটিকে ইয়ক শ্যাফট বলে। অনেকটা বিয়ারিংয়ের কাজ করে এটি। পুরসভার চেয়ারম্যান প্রণব দাস বলেন, ডায়মন্ডহারবার জেটিঘাট দিয়ে রোজ হাজার হাজার যাত্রী পারাপার করেন। তাই বাড়তি ঝুঁকি না নিয়ে ভেঙে যাওয়া অংশটি পাল্টানোর প্রস্তাব দিয়েছিলেন ইঞ্জিনিয়াররা। তাঁদের কথা মতো সেই কাজ করতে পাঁচদিন বন্ধ রাখা হবে জেটিঘাট।
এদিকে, রোজ বহু মানুষ কাজের জন্য এই জেটি দিয়ে নদী পারাপার করেন। তাঁদের এই ক’টাদিন সমস্যা হবে বলেই আশঙ্কা করছেন পুরসভার আধিকারিকরা। যেহেতু দ্বিতীয় কোনও জেটি ডায়মন্ডহারবারে নেই, তাই বিকল্প কোনও ব্যবস্থাও করা যাচ্ছে না। ফলে অনেকটা দূরে রায়চক থেকে আগামী পাঁচদিন নদী পারাপার করতে হবে অফিস যাত্রীদের। বাড়তি যাত্রীর চাপ ওই ফেরিঘাট কতটা নিতে পারবে, সেটাই এখন দেখার। নিজস্ব চিত্র