• ভারতের গ্রামে দাদার মৃত্যু, বাংলাদেশ থেকে জিরো পয়েন্টে এসে শেষ দেখা ভাই-বোনের
    বর্তমান | ২০ জুন ২০২৪
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, বিধাননগর: সীমান্তের দু’পারে দুই দেশ। এদিকে ভারত। অন্যদিকে বাংলাদেশ। ভারতের গ্রামে থাকতেন দাদা। বাংলাদেশে থাকেন ভাই আর বোন। অসুস্থতার জেরে এ পারের সীমান্তবর্তী গ্রামে মৃত্যু হয় দাদার। সে খবর পেয়েছিলেন ওপারে বাংলাদেশে থাকা ভাই-বোন। কিন্তু কী ভাবে আসবেন? পাসপোর্ট, ভিসা নিয়ে ভারতে আসতে যে সময় লাগবে, ততক্ষণ দেহ রাখা সম্ভব নয়। তাই শেষ দেখা দেখার জন্য আত্মীয়রা বিএসএফ আধিকারিকদের কাছে অনুরোধ করেছিলেন। অবশেষে বিএসএফের মানবিক উদ্যোগে বাংলাদেশ থেকে বাগদার বাঁশঘাটার জিরো পয়েন্টে এসে শেষবারের জন্য দাদাকে দেখতে পেলেন ভাই ও বোন। তাঁদের নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিলেন বিএসএফ এবং বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সশস্ত্র জওয়ানরা। এ হেন পরিস্থিতিতে পাশে দাঁড়ানোয় বিএসএফকে কুর্নিশ জানিয়েছেন মৃতের ভাই-বোন।


    বিএসএফ জানিয়েছে, দাদার বাড়ি উত্তর ২৪ পরগনার বাগদা থানার বাঁশঘাটা গ্রামে। রবিবার রাতে অসুস্থতাজনিত কারণে তাঁর মৃত্যু হয়। তারপর মৃতের এক আত্মীয় সীমান্ত চৌকিতে গিয়ে বিএসএফের কোম্পানি কমান্ডারকে বিষয়টি জানান। সমস্ত ঘটনা শোনার পর কোম্পানি কমান্ডার মানবিক দিক বিবেচনা করে প্রতিপক্ষ বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। বিএসএফের অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে বিজিবি মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে এগিয়ে আসে। সোমবার উভয় দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী আন্তর্জাতিক সীমান্তের কাছে জিরো পয়েন্টে হাজির হয়। বিজিবির নিরাপত্তায় আসেন মৃতের ভাই ও বোন। বিএসএফের নিরাপত্তায় খাটিয়ায় করে জিরো পয়েন্টে নিয়ে যাওয়া হয় মৃতকে। সঙ্গে ছিলেন আত্মীয়-পরিজনও। শেষ বিদায়ের সময় কান্নায় ভেঙে পড়েন বাংলাদেশ থেকে আসা ভাই-বোন। বিএসএফের দক্ষিণবঙ্গের জনসংযোগ আধিকারিক তথা ডিজিআই একে আর্য বলেন, দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিএসএফ’য়ের সদস্যরা দিনরাত সীমান্তে মোতায়েন রয়েছেন। শুধু নিরাপত্তা নয়, তাঁরা মানবিক এবং সামাজিক কাজেও সব সময় এগিয়ে যান। এই ঘটনা তারই উদাহরণ।
  • Link to this news (বর্তমান)