• ফের শিয়ালদহে সেতু সংস্কারের তোড়জোড়, ব্যবসায়ীদের অন্যত্র স্থানান্তর নিয়েই মাথাব্যথা
    বর্তমান | ২০ জুন ২০২৪
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ফের শিয়ালদহের বিদ্যাপতি সেতু সংস্কারের তোড়জোড় চলছে। মঙ্গলবার এ নিয়ে কলকাতা পুরসভা ও কলকাতা মেট্রোপলিটন ডেভেলপমেন্ট অথরিটির (কেএমডিএ) মধ্যে বৈঠক হয়। ঠিক হয়েছে, দ্রুত এই সেতু সংস্কারের কাজ শুরু করা হবে। কিন্তু, সংস্কার-পর্ব চলাকালীন ব্রিজের নীচে শিশির মার্কেট সহ অন্যান্য ব্যবসায়ীকে অন্যত্র স্থানান্তরের বিষয়টিই এখন প্রশাসনের কাছে মাথাব্যথার কারণ। আগামী মঙ্গলবার (২৫ জুন) পুরসভা ও কেএমডিএ’র অফিসাররা ছাড়াও স্থানীয় কাউন্সিলার, বাজার সমিতির প্রতিনিধিরা ওই সেতু যৌথ পরিদর্শন করবেন। ব্যবসায়ীদের আপাতত পুনর্বাসনের জন্য কাছাকাছি কোথায় জায়গা দেওয়া যায় এবং যতটা সম্ভব কম দোকান সরিয়ে সংস্কারের কাজ করা যায়, সে ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিতেই যৌথ পরিদর্শন হবে বলে জানা গিয়েছে।


    উল্লেখ্য, ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বরে মাঝেরহাট ব্রিজ ভেঙে পড়ার পর রাজ্যের সমস্ত ছোট-বড় সেতুর স্বাস্থ্য পরীক্ষা করায় নবান্ন। কেএমডিএ জানিয়েছে, বিদ্যাপতি সেতুর স্বাস্থ্যের হাল খুব ভালো ছিল না। সেই সময় থেকেই সেতুর মজবুতি বাড়ানোর চেষ্টা চলছে। একাধিকবার বাজার সমিতির সঙ্গে বৈঠকও হয়েছে। কিন্তু, জটিলতা কাটেনি। কেএমডিএ’র এক কর্তা বলেন, বাজার সমিতি সহযোগিতা করতে প্রস্তুত। কিন্তু, তাঁদের স্থানান্তরের প্রশ্ন উঠলেই সব আটকে যাচ্ছে। আমাদের কাছে তো ফাঁকা কোনও জমি নেই। সেই সংস্থান পুরসভাকেই করতে হবে। তাই, যৌথ পরিদর্শনের 


    সিদ্ধান্ত। এবার আমরা অনেকটাই ইতিবাচক মনোভাব নিয়ে এগচ্ছি। এবার কিছু একটা সিদ্ধান্ত নিতেই হবে।


    কী ধরনের সংস্কারের কাজ হবে বিদ্যাপতি সেতুতে? কেএমডিএ সূত্রের খবর, গোটা ব্রিজে ৭২টি পিলার রয়েছে। সেগুলি শক্তপোক্ত করতে ‘জ্যাকেটিং’ করা হবে। প্রতিটি পিলার প্রথমে লোহার রডের খাঁচা দিয়ে ঢাকা হবে। তারপর হবে কংক্রিটের ঢালাই। তাতে পিলারগুলি আরও চওড়া ও মজবুত হবে। প্রতিটি পিলার বহরে অন্তত এক ফুট বাড়বে। তাতে সেতুর আয়ু আরও অন্তত ৩০ বছর বাড়বে। পাশাপাশি, চারটি স্থানে সেতুর স্ল্যাবের তলায় ‘কার্বন-র‌্যাপিং’ও করা হবে। যাতে ভগ্নস্থান টেকসই হয়। এই সংস্কারের কাজে প্রায় ৯ কোটি টাকা খরচ ধরা হয়েছে। সেই সঙ্গে সেতুর উপরিভাগের রাস্তাও নতুন করে বানানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। তার জন্য প্রায় পাঁচ কোটি টাকা লাগবে।


    এই পরিকল্পনা সবটাই আটকে যাচ্ছে সেতুর নীচের ব্যবসায়ীদের স্থানান্তরের প্রসঙ্গ এলেই। শিয়ালদহ ফ্লাইওভার মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক নকুল কুণ্ডু বলেন, প্রায় ৯০০ জন দোকানদার রয়েছেন। আমরাও সকলের নিরাপত্তার বিষয়ে উদ্বিগ্ন। প্রশাসনকে তাই সব রকমভাবে সহযোগিতা করতে রাজি। তবে, কাজ চলাকালীন আমাদের পুনর্বাসনের বিষয়টিও দেখতে হবে। কারণ, এর সঙ্গে এতগুলি পরিবারের রুটি-রুজি জড়িত। 
  • Link to this news (বর্তমান)