গাড়িতে পেশার উল্লেখ করে ঘুরছেন এক শ্রেণির মানুষ, বিপদের আশঙ্কা
বর্তমান | ২০ জুন ২০২৪
নিজস্ব প্রতিনিধি, সিউড়ি: কারও গাড়িতে লেখা ‘এক্স আর্মি’, কারও গাড়িতে ‘প্রেস’, কারও গাড়িতে আবার কোনও ফাউন্ডেশনের নামে ‘অন ডিউটি’ লেখা। আজকাল বিভিন্ন রকমের বোর্ড গাড়িতে ঝুলতে দেখা যায়। এমনকী নম্বর প্লেট বিহীন বাইকেও ‘পুলিস’ লিখে ঘুরতে দেখা যাচ্ছে অনেককে। এমন বিচিত্র সব বোর্ড ঝোলানো ‘অন ডিউটি’ লেখা গাড়িগুলির উপর পুলিসের নজরদারি কতখানি সেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। কেন না, সরকারি দপ্তরের নাম ভাঙিয়ে গাড়িতে এর আগে কয়লা, মাদক পাচারের মতো ঘটনা ঘটেছে। তাই জোরালো হচ্ছে এইসব বোর্ড ঝোলানো গাড়িগুলিতে নজরদারি চালানোর দাবি। যদিও পুলিসের আশ্বাস, নিয়ম না মানলে সমস্ত গাড়ির বিরুদ্ধেই একই রকম ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
জেলা পুলিসের এক অফিসার বলেন, ইদানিং নিজেদের পেশা উল্লেখ করে গাড়িতে বোর্ড ঝোলানোর প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। যদিও যে কেউ গাড়িতে ‘অন ডিউটি’ কিংবা এই জাতীয় কিছু লিখতে পারেন না। অনুমতি না থাকলে যে কোনও সময় জরিমানা ও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। তবে ‘অন ডিউটি’ লেখা থাকলেও পুলিস গাড়ি সার্চ করে। এই নিয়ে পুলিস বিভাগের তরফ থেকে প্রাথমিকভাবে সতর্কতামূলক প্রচার করব। প্রয়োজনে কড়া ব্যবস্থাও নেওয়া হবে।
এখন সিউড়ি, দুবরাজপুর সহ জেলার বিভিন্ন রাস্তায় বাইক ও চারচাকার গাড়িতে এমন বোর্ড দেখতে পাওয়া যায়। কয়েকমাস আগে সিউড়ি-দুবরাজপুর রাস্তায় ‘অন ডিউট’ লেখা গাড়ির ভেতর থেকে বেআইনি কয়লা উদ্ধার হয়েছিল। এছাড়াও বেশ কিছু গাড়িতে নানান ধরনের লেখা থাকে। এমনকী রাস্তায় ‘এক্স হেড মাস্টার’ লেখা গাড়ি নিয়েও কেউ কেউ ঘোরেন। পাশাপাশি ‘অন ডিউটি হেলথ’ লেখা বাইক নিয়েও অনেককে ঘুরতে দেখা যায়। এমনও শোনা যায়, সিউড়ি সদর হাসপাতালে সাধারণ অস্থায়ী কর্মীরাও গাড়ি, বাইকে ‘ইমার্জেন্সি সার্ভিস’ লিখে ঘোরেন। এই নিয়ে মানুষের একাংশের মধ্যে প্রশ্ন রয়েছে। সিউড়ির এক অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক কৃষ্ণগোপাল চট্টোপাধ্যায় বলেন, যাঁরা সাধারণ পেশার সঙ্গে যুক্ত থেকেও গাড়িতে পেশার উল্লেখ করেন, তাঁরা আসলে নিজেদের বিশেষ পেশাগত শ্রেণির বলে বোঝানোর চেষ্টা করেন। ইমার্জেন্সি সার্ভিস হলে লেখা যেতে পারে ঠিকই। কিন্তু যাঁরা লিখে রাখেন তাঁদের কোনওদিন যাচাই করা হয়েছে কিনা সেটাও প্রশ্নের। আসলে সোজা ভাবে বললে, ট্রাফিক পুলিসকে ফাঁকি দিতে এইসব লিখে রাখা হয়। তবে যেভাবে এই প্রবণতা দেখা যাচ্ছে তাতে প্রায় সবাই এবার গাড়িতে নিজের নিজের পেশার উল্লেখ করবেন বলে মনে হচ্ছে। জেলা ট্রাফিক পুলিসের এক অফিসার বলেন, এমনটা কাম্য নয় কখনওই।