• চিতাবাঘের ভয়ে সিঁটিয়ে ময়নাগুড়ির সাপ্টিবাড়ি
    বর্তমান | ২০ জুন ২০২৪
  • সংবাদদাতা, ময়নাগুড়ি: চিতাবাঘের আতঙ্ক পিছু ছাড়ছে না গ্রামবাসীদের। প্রাইমারি স্কুলের পড়ুয়াদের স্কুলে পাঠাতে ভয় পাচ্ছেন অভিভাবকরা। রাতে আলো জ্বালিয়ে ঘুমচ্ছেন গ্রামবাসীরা। একের পর এক এলাকাবাসীর নজরে পড়ছে চিতাবাঘ। কিন্তু ধরা পড়ছে না প্রাণীটি। ময়নাগুড়ি ব্লকের সাপ্টিবাড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতের বিভিন্ন এলাকায় দাপিয়ে বেড়াচ্ছে বাঘটি। গ্রাম থেকে একেরপর এক উধাও হয়ে যাচ্ছে ছাগল। 


    বুধবার খবর পেয়ে বারোরিয়ায় আসে বনদপ্তরের টিম। তারা গ্রামবাসীদের সঙ্গে কথা বলেন। বনদপ্তরকে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেয় ময়নাগুড়ির একটি পরিবেশ প্রেমী সংগঠন ও রামমোহন রায় ফ্যান ক্লাব। 


    স্থানীয়দের দাবি, কিছুদিন ধরে গ্রামে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে চিতাবাঘ। প্রথমে কাশিরডাঙায় দেখা গিয়েছিল। দু’জন চিতাবাঘ দেখতে পেয়েছিলেন। সেখানে বনদপ্তর খাঁচা পেতেছিল। কিন্তু ধরা পড়েনি। কিছুদিন আগেই একই গ্রাম পঞ্চায়েতের সরুরবাড়িতে চিতাবাঘের আতঙ্ক ছড়ায়। ক্ষতবিক্ষত ছাগলের দেহও উদ্ধার হয়। এবারে চিতাবাঘের দেখা মিলল পূর্ব বারোঘরিয়ার অভয়চরণ গ্রামে। এদিকে চিতাবাঘের আতঙ্কে রাতের ঘুম উড়েছে স্থানীয় বাসিন্দাদের। শিশুদের স্কুলে পাঠাচ্ছেন না অভিভাবকরা। কৃষি জমিতে যাচ্ছেন না চাষিরা। এভাবে কতদিন চলতে হবে তা নিয়ে প্রশ্ন স্থানীয় বাসিন্দাদের। 


    এলাকার বাসিন্দা বিশ্বজিৎ রায় বলেন, সোমবার রাতে হঠাৎ করেই ছাগলের গোঙানির আওয়াজ পাই। স্ত্রী টর্চ জ্বালিয়ে দেখে চিতাবাঘ ছাগল টেনে নিয়ে যাচ্ছে। টর্চের আলো পড়তেই ছাগল রেখে চম্পট দেয় চিতাবাঘটি। পরে মারা যায় ছাগলটি। মঙ্গলবার বাড়ির পাশের চা বাগানে মনোজ রায় নামে এক ব্যক্তি চিতাবাঘ দেখতে পান বলে জানান। 


    বনদপ্তরের রামশাইয়ের রেঞ্জার প্রিয়া তামাং বলেন, কিছুদিন ধরেই সাপ্টিবাড়িতে চিতাবাঘের আতঙ্ক ছড়িয়েছে। কাশিরডাঙায় খাঁচা পাতা হয়েছে। চিতাবাটি ঘুরে বেড়াচ্ছে। গ্রামবাসীদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। আমরাও নজর রাখছি। 


    রামমোহন রায় ফ্যান ক্লাবের সদস্য শঙ্কর বর্মন বলেন, আমরা স্বেচ্ছাসেবকের দায়িত্ব পালন করছি। বনদপ্তর প্রথমদিন থেকে এলাকায় নজর রাখছে। আমরা গ্রামবাসীদের সতর্ক থাকতে বলেছি। 
  • Link to this news (বর্তমান)