• ছেলেধরা ‘গুজবে’ নৃশংস মার মহিলাকে, বারাসতে তুলকালাম 
    বর্তমান | ২০ জুন ২০২৪
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: গত কয়েকদিন ধরে বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে গুজব ছড়ানো হচ্ছিল। কখনও ‘ছেলেধরা’, কখনও ‘পাচারকারী’ তকমা দিয়ে ফেসবুক-হোয়াটসঅ্যাপে ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছিল একাধিক ছবি। পুরো বিষয়টাই যে ভুয়ো, পুলিস তা স্পষ্ট ঘোষণা করেছিল। তারপরও বুধবার বারাসতের দু’টি জায়গায় আম জনতার একাংশের ‘দায়িত্বজ্ঞানহীন’ আচরণের মর্মান্তিক শিকার হলেন এক মহিলা সহ তিনজন। স্রেফ সন্দেহের বশে উত্তেজিত জনতা তাঁদের বেধড়ক মারধর করে। গুরুতর জখম তিনজনকে বারাসত হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। মহিলার অবস্থা অত্যন্ত সঙ্কটজনক। ঘটনার এখানেই শেষ নয়! গণপিটুনির খবর পেয়ে পুলিস পরিস্থিতি সামাল দিতে এলে তাদের ঘিরেই তুমুল বিক্ষোভ শুরু হয়। পুলিসের গাড়িতে ভাঙচুর চালায় উত্তেজিত জনতা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে লাঠিচার্জ করতে বাধ্য হয় পুলিস। ‘ছেলেধরা’ বিষয়টি যে গুজব, পুলিস তা মাইকিং করে প্রচার শুরু করে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত গণপিটুনির দু’টি ঘটনায় মোট ১৭ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিস। ধৃতের সংখ্যা আরও বাড়বে বলেই খবর।


    পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, কয়েকদিন আগে বারাসতের কাজীপাড়ায় ১১ বছরের এক কিশোরের পচাগলা দেহ উদ্ধার হয়। তারপর থেকেই ছেলেধরা নিয়ে গুজব ছড়াতে শুরু করে। পুলিস ঘোষণা করে, ওই কিশোরের মৃত্যুর সঙ্গে ছেলেধরা বা অঙ্গ পাচার কোনওভাবে জড়িত নয়। কিন্তু তাতে গুজব থামেনি। এদিন সকালে প্রথম ঘটনাটি ঘটে পুরসভার ২৯ নম্বর ওয়ার্ডের ঘোষপাড়ায়। ছেলেধরা সন্দেহে অপরিচিত এক ব্যক্তিকে গণপিটুনি দেয় জনতা। পুলিস জানিয়েছে, আক্রান্ত ব্যক্তির নাম মদন মণ্ডল। বাড়ি বসিরহাটে। এর কয়েক মিনিটের মধ্যে শ্রীনগরের ঘোলা-কাছারিরোডে এক মহিলা ও এক পুরুষকে বেধড়ক মারধর করে স্থানীয় লোকজন। স্থানীয় সূত্রে খবর, ওই মহিলা যখন অটোতে উঠতে যাচ্ছিলেন, তখন আচমকাই কিছু লোক তাঁকে অটো থেকে নামিয়ে ছেলেধরা বলে মারতে শুরু করে। পাশে দাঁড়িয়ে থাকা আরেক ব্যক্তিকেও একই কারণে মারধর শুরু হয়। এলোপাথাড়ি কিল, চড়, লাথি চলে। পুলিস ছুটে এলে উত্তেজিত জনতা তাদের উপরও চড়াও হয়। তখন বারাসত পুলিস জেলার অতিরিক্ত পুলিস সুপার স্পর্শ নীলাঙ্গী ও এসডিপিও বিদ্যাগর আজিঙ্ক মন্নতের নেতৃত্বে বিশাল পুলিস বাহিনী এসে লাঠিচার্জ করে জনতাকে ছত্রভঙ্গ করে। পুলিস জানিয়েছে, জখম মহিলার নাম মেহেরা বানু। তাঁর বাড়ি আমডাঙায়। আরেকজন জখমের বাড়ি দত্তপুকুরে হলেও তাঁর নাম জানা যায়নি রাত পর্যন্ত। বারাসত পুলিস জেলার সুপার প্রতীক্ষা ঝাড়খাড়িয়া বলেন, ‘যারা গুজব ছড়িয়েছে এবং এলাকায় উত্তেজনা তৈরি করেছে, তাদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিচ্ছি আমরা। মানুষের আতঙ্কিত হওয়ার মতো কিছু ঘটেনি। গুজবে কান দেবেন না।’
  • Link to this news (বর্তমান)