• কাঞ্চনজঙ্ঘা এক্সপ্রেসে দুর্ঘটনা, এখনও উৎকণ্ঠায় ফলতা-হাবড়ার পরিবার
    বর্তমান | ২০ জুন ২০২৪
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা: হাসপাতালের শয্যায় শুয়ে নাতি। তবু তাঁকে দেখে আশ্বস্ত ঠাকুমা-ঠাকুরদা। চোখের মণি নাতি যে অতবড় দুর্ঘটনার পরও প্রাণে বেঁচে গিয়েছে, তাতেই ধড়ে প্রাণ ফিরে পেয়েছেন বৃদ্ধ-বৃদ্ধা। এ হল দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতার ন’পুকুরিয়া অঞ্চলের বাসিন্দা হাসিবুল শেখের ঘটনা। তাঁর দু’হাতে মারাত্মক আঘাত লেগেছে। পাশের জেলা উত্তর ২৪ পরগনার হাবড়া এলাকার মনোজকুমার দাসও প্রাণে বেঁচে গিয়েছেন। কিন্তু তাঁর পায়ে আঘাত লেগেছে। পুলিসে চাকরি করেন মনোজ। আর শখে ফুটবল খেলেন। দুর্ঘটনায় পা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় আর সম্ভবত মাঠে নামা হবে না তাঁর। ফলে ভয়ানক মুষড়ে পড়েছেন। এই দুই ব্যক্তি কর্মসূত্রে অন্যত্র থাকেন। দু’জনেই কাঞ্চনজঙ্ঘা এক্সপ্রেসে বাড়ি ফিরছিলেন।


    হাসিবুল ঠাকুমা-ঠাকুরদার কাছে মানুষ। তাঁদের সঙ্গেই থাকেন। বড় হওয়ার পর কখনও দক্ষিণের চেন্নাই তো কখনও উত্তরের ত্রিপুরায় যান কর্মসূত্রে। দর্জির কাজ করেন তিনি। বর্তমানে গিয়েছিলেন ত্রিপুরা। ঈদের দিন ফলতায় বাড়ি ফেরার কথা ছিল। কাঞ্চনজঙ্ঘা এক্সপ্রেসে ফিরছিলেন। দুর্ঘটনার কবলে পড়েন। আহতও হন। তবে সে খবর বাড়িতে পৌঁছয়নি। ঘটনার পরের দিন, মঙ্গলবার ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অফিস থেকে ঠাকুমাদের জানানো হয় দুর্ঘটনার খবর। নাতির খবর পেতে ব্যাকুল হয়ে পড়েন। তারপর মঙ্গলবারই শিলিগুড়ি হাসপাতালের চিকিৎসকরা ভিডিও কল করে হাসিবুলকে তাঁর বাড়ির লোকজনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করান। তারপর স্বস্তি বোধ করেন বৃদ্ধ-বৃদ্ধা। এখন নাতির বাড়ি ফিরে আসার অপেক্ষায় তাঁরা। হাসিবুলের জেঠু জাহাঙ্গীর শেখ বলেন, ‘আমরা জানতাম না ও ত্রিপুরা কাজে গিয়েছিল।’ জানা গিয়েছে, সাংসদের নির্দেশে হাসিবুলের পরিবারের লোকজনের সঙ্গে দেখা করেন ফলতার বিধায়ক শঙ্কর নস্কর ও তৃণমূলের অন্যান্য নেতারা। এই পরিবারকে সবরকম সাহায্যের আশ্বাস দেন বিধায়ক। হাবড়া শহরের ২১ নম্বর ওয়ার্ডের বাণীপুরে বাড়ি মনোজকুমার দাসের। দু’বছর আগে তিনি রাজ্য পুলিসে কনস্টেবলের চাকরি পেয়েছেন। তাঁর পোস্টিং উত্তরবঙ্গে। বাড়ি ফেরার জন্য অফিস ছুটি নিয়ে সোমবার কাঞ্চনজঙ্ঘা এক্সপ্রেসে ওঠেন। দুপুর বারোটা নাগাদ এক ব্যক্তি ফোন করে মনোজের পরিবারকে কাঞ্চনজঙ্ঘা দুর্ঘটনায় জখম হওয়ার খবর জানান। এরপর আত্মীয়রা উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে যান। মনোজ কবে বাড়ি ফিরবেন সেই অপেক্ষাতেই প্রহর গুনছেন সবাই। সূত্রের খবর, মনোজের পায়ের আঘাত গুরুতর। চিকিৎসকরা অস্ত্রোপচারের পরামর্শ দিয়েছেন। মনোজের বাবা গৌরাঙ্গবাবু বলেন, ‘বারবার ফোন করেছি ছেলেকে। কিন্তু ও ফোন তোলেনি। কিছুক্ষণ পর ফের ফোন করা হলে এক ব্যক্তির গলা পাই। ছেলে দুর্ঘটনার কবলে পড়েছে বলে জানান তিনি।’ মনোজবাবু আইসিইউতে ভর্তি। ওঁর পায়ের চোট গুরুতর। তিনি জানান, ছেলে সম্ভবত পার্সেল কিংবা তার পরের কামরায় ছিল। সে কারণেই আঘাত বেশি পেয়েছে। ও ফুটবল খেলতে ভালোবাসে। কিন্তু পায়ে যা চোট লেগেছে তাতে মাঠে নামতে পারবে কি না সন্দেহ। মনোজের স্ত্রী পাপিয়াদেবী বলেন, ‘অভিশপ্ত কাঞ্চনজঙ্ঘা এক্সপ্রেস আমার জীবনে বড় ধাক্কা নামিয়ে আনল।’ এই পরিবারের পাশে আছেন বলে জানিয়েছেন হাবড়া পুরসভার চেয়ারম্যান নারায়ণচন্দ্র সাহা।
  • Link to this news (বর্তমান)