নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: ৪৭ বছর পর এবার জগন্নাথদেবের স্নানযাত্রায় বিশেষ যোগ। হুগলির মাহেশে সেই বিশেষ মোক্ষযোগেই আগামী ২২ জুন জগন্নাথদেবের স্নানযাত্রা পালিত হবে। বুধবার এনিয়ে সাংবাদিক বৈঠক করেন মাহেশ জগন্নাথ মন্দিরের প্রধান সেবায়েত সৌমেন অধিকারী ও অন্যতম সেবায়েত পিয়াল অধিকারী। মাহেশের স্নাপপিঁড়ির মাঠেই প্রতিবারের মতো এবার স্নানযাত্রা অনুষ্ঠিত হবে। সকাল ৬টা ২০ মিনিটে এবারের স্নানপর্ব শুরু হবে। বিশেষ যোগকে সামনে রেখে স্নানমঞ্চে বিশেষ আয়োজন থাকবে। ৬২৮ বছরে পা দেওয়া মাহেশের স্নানযাত্রা ও রথযাত্রা এমনিতেই চর্চিত। এবার বিশেষ যোগকে কেন্দ্র করে তা আরও উজ্জ্বল হয়ে উঠবে বলে দাবি করেছে জগন্নাথদেবের ট্রাস্টি বোর্ড। এদিন পিয়াল বলেন, মাহেশের স্নানযাত্রা ঐতিহাসিক ও ঐতিহ্যবাহী। ১৯৭৭ সালে এক বিশেষ যোগ পড়েছিল জগন্নাথদেবের স্নানযাত্রায়। এবার ২২ জুন স্নানযাত্রার দিন আবার সেই মোক্ষযোগ পড়েছে। ওই বিশেষ মুহূর্তে স্নানপর্বের সূত্রপাত করে একটি নীলকণ্ঠ পাখি। সুদূর অতীতে এমনটাই হতো। এমনিতেই স্নানযাত্রায় প্রচুর ভক্ত সমাগম হয়। এবার তার থেকে বেশি হবে বলে আমাদের অনুমান। সেকারণে যাবতীয় ব্যবস্থা রাখা হচ্ছে। আমরা প্রশাসনকেও এ বিষয়ে অবগত করেছি। প্রসঙ্গত, হুগলির মাহেশের রথযাত্রায় এসেছিলেন রামকৃষ্ণ পরমহংসদেব। সাহিত্যিক বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় তাঁর উপন্যাসে মাহেশের রথযাত্রার কথা উল্লেখ করেছেন। মাহেশের জগন্নাথ মন্দিরকে সাজিয়ে তোলার জন্য রাজ্য সরকার বহু টাকা দিয়েছে। একইসঙ্গে এই মন্দিরকে কেন্দ্র করে একটি পর্যটন সার্কিট তৈরির প্রয়াস চলছে।