• দেড় ঘণ্টা ধরে বিদ্যুৎহীন হাওড়ার জেলাশাসকের অফিস! ভোগান্তি
    বর্তমান | ২০ জুন ২০২৪
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: হাওড়া জেলার প্রধান প্রশাসনিক ভবনেই বিদ্যুৎ বিভ্রাট! তাও আবার টানা দেড় ঘণ্টা। বুধবার দিনের শুরুতেই দীর্ঘক্ষণ অন্ধকারে ডুবে ছিল হাওড়ার জেলাশাসকের কার্যালয়। শুধু তাই নয়, বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে সমস্যায় পড়তে হয় দূর-দূরান্ত থেকে বিভিন্ন কাজে আসা সাধারণ মানুষকে। দীর্ঘক্ষণ বিদ্যুৎহীন থাকলেও জেনারেটর বা বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় সমস্যা চরমে পৌঁছয়। থমকে যায় যাবতীয় কাজ।


    এদিন হাওড়ায় জেলাশাসকের অফিসে উন্নয়নমূলক কাজ নিয়ে পর্যালোচনা বৈঠক ডাকা হয়েছিল। সকাল ১০টার পর থেকেই বিভিন্ন দপ্তরের কর্তারা এসেছিলেন বৈঠকে যোগ দিতে। কোন দপ্তরে কী কাজ হয়েছে, তা পর্যালোচনা করতেই বৈঠক ডেকেছিলেন খোদ জেলাশাসক। এছাড়াও ব্যক্তিগত কাজে জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বহু মানুষ এসেছিলেন জেলাশাসকের দপ্তরে। বেলা ১১টা নাগাদ হঠাৎই অন্ধকার হয়ে পড়ে গোটা ভবন। বন্ধ হয়ে যায় লিফট, পাখা, আলো, কম্পিউটার সহ সবকিছু। প্রায় দেড় ঘণ্টা বিদ্যুৎহীন থাকলেও প্রশাসনিক ভবনে ছিল না কোনও জেনারেটর বা বিকল্প ব্যবস্থা। জেলার মূল প্রশাসনিক ভবনে কেন বিকল্প বিদ্যুতের ব্যবস্থা নেই, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। এই অবস্থার মধ্যেই শুরু হয় প্রশাসনিক বৈঠক। জানা গিয়েছে, বৈঠকে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হওয়ার প্রসঙ্গটি উঠে আসে। তাতে দায় ঠেলাঠেলি হয় সিইএসসি এবং পিডব্লুডি’র বিদ্যুৎ বিভাগের মধ্যে। এই বৈঠকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে জেলার সব বিডিও’র উপস্থিত থাকার কথা ছিল। কিন্তু বিদ্যুৎ না থাকায় ওই ভিডিও কনফারেন্স পিছিয়ে হয় দুপুর আড়াইটের পর। 


    এদিকে, বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ায় দুর্ভোগের শিকার হয়েছেন সাধারণ মানুষ। অনেকেই জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে এসেছিলেন ব্যক্তিগত কাজ নিয়ে। কিন্তু দীর্ঘ পথ পেরিয়ে ডিএম অফিসে এসেই মাথায় বাজ পড়ে তাঁদের। কারণ বিদ্যুতের অভাবে সব কাজই ততক্ষণে বন্ধ হয়ে গিয়েছে। সবচেয়ে খারাপ অবস্থা হয় দ্বিতীয় তলে মোটর ভেহিকল অফিসের। প্রতিদিনই প্রায় শতাধিক লোক আসেন লাইসেন্স, রোড ট্যাক্স, সিএফ সহ একাধিক কাজে। এদিন বিদ্যুতের অভাবে লাটে ওঠে এই বিভাগের কাজ। ভিতরে ঘুটঘুটে অন্ধকার থাকায় কাউকেই ঢুকতে দেওয়া হয়নি। ফলে তাঁদের দীর্ঘক্ষণ সামনের লনে বা নীচে ওয়েটিং রুমে ঘুরতে দেখা গিয়েছে। এ নিয়ে ক্ষুব্ধ জনৈক অশ্বিনী দত্ত নামের এক ব্যক্তি। তিনি বলেন, বাড়িতে দিনে একেকবার গড়ে দু’-তিন ঘণ্টা করে কারেন্ট থাকছে না। সরকারি অফিসে এসেও দেখছি, একই অবস্থা। অফিস ফেলে লাইনে এসে দাঁড়িয়ে রয়েছি। দু’জন উর্দিধারী দাঁড়িয়ে রয়েছেন। জিজ্ঞাসা করায় তাঁরা বললেন, বিদ্যুৎ নেই, তাই কাজ হবে না। আলো না আসা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। 


    এদিকে, এ নিয়ে হাওড়ার জেলাশাসক পি দীপাপ প্রিয়া বলেন, ট্রান্সফর্মার সংক্রান্ত সমস্যার জন্য বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়েছিল। ৪০ থেকে ৪৫ মিনিট সমস্যা ছিল। সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলিকে বলা হয়েছে বিষয়টি দেখার জন্য। তবে সরকারি কাজের সমস্যা সেভাবে হয়নি। সাধারণ মানুষ পরিষেবা পেয়েছেন।
  • Link to this news (বর্তমান)