৭ বছর ধরে তৈরি হয়েও পড়ে হিমঘর ও বরফকল, ক্ষোভ মৎস্যজীবী মহলে
বর্তমান | ২০ জুন ২০২৪
সংবাদদাতা, কাকদ্বীপ: প্রায় সাত বছর ধরে তৈরি হয়ে পড়ে রয়েছে হিমঘর ও একটি বরফকল। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, পশ্চিমবঙ্গ মৎস্য দপ্তরের উদ্যোগে ২০১৭ সালে নামখানা ব্লকের নারায়ণপুরে হাতানিয়া দোয়ানিয়া নদীর পাশে এই হিমঘর ও বরফকল তৈরি করা হয়েছিল। ৬ কোটি ৯৬ লক্ষ ৪২ হাজার ৩৫১ টাকায় এই প্রকল্প দুটি তৈরি করা হয়। হিমঘরের সামনে কাজের সম্পূর্ণ বিবরণ উল্লেখ করে এখনও পর্যন্ত সাইনবোর্ড বসানো রয়েছে। কাজও প্রায় সম্পূর্ণ। কিন্তু ঝাঁ চকচকে এই হিমঘর ও বরফকলটি আজও পর্যন্ত বন্ধ হয়েই পড়ে রয়েছে।
নামখানার এক মৎস্যজীবী রবীন্দ্রনাথ বিশ্বাস বলেন, এই অঞ্চলে একটি হিমঘর তৈরি করার জন্য দীর্ঘদিনের দাবি ছিল মৎস্যজীবীদের। সেই দাবি মেনে মৎস্য দপ্তরের পক্ষ থেকে হাতানিয়া দোয়ানিয়া নদীর পাশে এই হিমঘর ও একটি বরফকল তৈরি করা হয়। দুটি প্রকল্পের কাজও প্রায় শেষ। কিন্তু প্রায় সাত বছর হয়ে গেলেও এই হিমঘর ও বরফকলটি চালু করা হয়নি। এই বিষয়ে বিভিন্ন দপ্তরে জানিয়েও কোনও লাভ হয়নি।
সুন্দরবন সামুদ্রিক মৎস্যজীবী শ্রমিক ইউনিয়নের সম্পাদক সতীনাথ পাত্র বলেন, এই অঞ্চলে মাছ সংরক্ষণের জন্য একটিও হিমঘর নেই। একসঙ্গে অনেক মাছ চলে এলে তখন মৎস্যজীবীরা সমস্যায় পড়েন। কারণ তখন মাছের দাম অনেকটাই কমে যায়। মৎস্যজীবীরা মাছ সংরক্ষণ করে রাখার চেষ্টা করলেও, তা সম্ভব হয় না। তাই খুব কম দামে মাছ বাজারে বিক্রি করে দিতে হয়। হিমঘর না থাকায় মৎস্যজীবীরা প্রায়ই এমন ক্ষতির মুখে পড়েন। অথচ এই হিমঘরটি চালু হলে প্রায় দু’শো টন মাছ সংরক্ষণ করা সম্ভব। এছাড়াও প্রতিদিন প্রায় দশ টন মাছ ব্লাস্ট ফ্রিজ (অতিমাত্রায় ঠান্ডা) করা সম্ভব।
নামখানা পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি অভিষেক দাস বলেন, ওই হিমঘর ও বরফকলের কিছু কাজ অসমাপ্ত অবস্থায় রয়েছে। স্থায়ী সমিতিতে এই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। মৎস্য দপ্তর ও জেলা প্রশাসনকেও বিষয়টি জানানো হয়েছে। মৎস্য দপ্তর চালু করার প্রস্তুতি শুরু করেছে। শীঘ্রই হিমঘর ও বরফকলটি চালু হয়ে যাবে।