বর্ষায় ভাসতে পারে বাঁশবেড়িয়া ও ত্রিবেণী স্টেশন সহ বিস্তীর্ণ এলাকা
বর্তমান | ২০ জুন ২০২৪
নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: আসন্ন বর্ষায় হুগলির বাঁশবেড়িয়া ও ত্রিবেণী স্টেশন ও সংলগ্ন এলাকা জলমগ্ন হতে পারে। এমনই আশঙ্কা করছেন বাঁশবেড়িয়া পুরসভার কর্তারা। পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, বাঁশবেড়িয়া ও ত্রিবেণী স্টেশন এলাকার মধ্যে পুরসভার বেশ কিছু নিকাশি নালার আউটলেট আছে। বর্ষার প্রাক্কালে গোটা পুরসভার সমস্ত নিকাশি নালা সংস্কার করা হয়েছে। কিন্তু রেলের এলাকার মধ্যে থাকা ওই নালা ও আউটলেটগুলি পরিষ্কার করা হয়নি। কারণ, সেখানে রেলের অনুমতি ছাড়া কোনও কাজ করা যায় না। পুরকর্তাদের অভিযোগ, রেল কর্তৃপক্ষের কাছে এনিয়ে বারবার আবেদন করেও কোনও সুরাহা হয়নি। তাই পুরসভার বেশ কিছু এলাকা বানভাসি হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
শুধু ত্রিবেণী বা বাঁশবেড়িয়া স্টেশন নয়, সমস্যায় পড়তে পারে ইসলামপাড়া হল্ট স্টেশনও। সেক্ষেত্রে বাঁশবেড়িয়া পুরসভার অন্তত সাতটি ওয়ার্ডের মানুষ সমস্যায় পড়বেন। স্টেশনে যাতায়াতের সমস্যা যেমন তৈরি হবে, তেমনই পুরসভার ১৪, ১৬, ১৭, ১৮, ১৯ এবং ১০ আর ৫ নম্বর ওয়ার্ড বানভাসি হতে পারে। এমন আশঙ্কা করে বাসিন্দা মহলেও আতঙ্ক ছড়িয়েছে। যদিও পুরকর্তারা জানিয়েছেন, সমস্যার ইঙ্গিত আগেই মিলেছিল। তাই কিছু বিকল্প ব্যবস্থা করা হয়েছে।
বাঁশবেড়িয়া পুরসভার চেয়ারম্যান আদিত্য নিয়োগী বলেন, প্রায় এক বছর ধরে রেলকর্তাদের কাছে আমরা তাঁদের এলাকার মধ্যে থাকা নিকাশি নালা ও আউটলেটগুলি পরিষ্কার করা জন্য বারবার বলেছি। কিন্তু রেলকর্তারা সাড়া দেননি। আসন্ন বর্ষায় সমস্যা যে কিছুটা হবে, এটা ঠিক। তবে তার তীব্রতা কমিয়ে আনার জন্য আমরা কিছু পরিকল্পনা করেছি। দেখা যাক, কী হয়। এনিয়ে বাঁশবেড়িয়া বা ত্রিবেণী স্টেশনের কর্তারা কোনও মন্তব্য করতে চাননি। তবে বাঁশবেড়িয়া স্টেশন সূত্রে জানা গিয়েছে, পুরসভাকে সঙ্গে নিয়ে ২০২৩ সালে একবার যৌথ পরিদর্শন হয়েছিল। তারপরে বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তাদের জানানো হয়। কিন্তু সেখান থেকে ওই ব্যাপারে কোনও নির্দেশিকা আসেনি। এনিয়ে বিজেপির জেলা সাধারণ সম্পাদক সুরেশ সাউ বলেন, কিছুদিন আগেও হুগলিতে আমাদের দলের সাংসদ ছিলেন। তখন তাঁকে এবিষয়ে পুরকর্তারা কিছু জানাননি। আজ হঠাৎ নিজেদের দায় রেলের ঘাড়ে কেন চাপানো হচ্ছে, বলতে পারব না।
বাঁশবেড়িয়া পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, নির্দিষ্ট কিছু এলাকা বানভাসি হবে ধরে নিয়ে পুরসভা বাড়তি পাম্প মজুত করে রেখেছে। একটি বিশেষ দলকে পরিস্থিতির দিকে নজর রাখা ও প্রয়োজনে জমা জল বের করা দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এখন দেখার, বর্ষায় সেই আয়োজন কতটা কাজে দেয়।