শিয়ালদহ দক্ষিণে অধিকাংশ প্ল্যাটফর্মে একটিই শেড, চড়া রোদ ও ঝড়-বৃষ্টিতে ভোগান্তি নিত্যযাত্রীদের
বর্তমান | ২০ জুন ২০২৪
সত্যজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়, বারুইপুর: শিয়ালদহ দক্ষিণ শাখার বারুইপুর স্টেশন থেকে শুরু করে বহড়ু, কল্যাণপুর, মথুরাপুর সহ সব স্টেশনেই ঝড়-বৃষ্টি মাথায় নিয়েই সফর করেন যাত্রীরা। অধিকাংশ প্ল্যাটফর্মেই শেড বলতে রয়েছে একটি। ভরদুপুরের চড়া গরমে কিংবা বৃষ্টির সময় ওই শেডের নীচেই গাদাগাদি করে ট্রেনের জন্য অপেক্ষা করেনি তাঁরা। রেল কর্তৃপক্ষের এ ব্যাপারে কোনও নজরদারি নেই। এই অভিযোগের কথা জানালে পূর্ব রেলের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক কৌশিক মিত্র বলেন, বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখছি।
শিয়ালদহ দক্ষিণ শাখায় অন্যতম ব্যস্ত স্টেশন বারুইপুর। এই স্টেশন দিয়ে প্রতিদিন কয়েক হাজার মানুষ নিত্য যাতায়াত করেন। স্টেশনে চারটি প্ল্যাটফর্ম রয়েছে। এরমধ্যে শুধু ১ নম্বর প্ল্যাটফর্মে বড় শেড থাকলেও ৩ এবং ৪ নম্বর প্ল্যাটফর্মে রয়েছে মাত্র একটি ছোট শেড। ৪ নম্বর প্ল্যাটফর্ম দিয়ে লক্ষ্মীকান্তপুর, নামখানা যাওয়ার ট্রেন যায়। ৩ নম্বর প্ল্যাটফর্ম থেকে অধিকাংশ সময় বারুইপুর লোকাল বা আপ ট্রেন ছাড়ে। বৃষ্টি নামলে শেডের নীচে দাঁড়ানোর জন্য যাত্রীদের মধ্যে হুড়োহুড়ি পড়ে যায়। ফলে দুর্ঘটনাও ঘটে মাঝেমধ্যে। যাত্রীদের কথায়, এই স্টেশনে আমাদের ভালো-মন্দের দিকে রেলের কোনও নজর নেই। বৈধ টিকিট হাতে বৃষ্টিতে ভিজে ট্রেনের জন্য অপেক্ষা করতে হয়।
ডায়মন্ডহারবার শাখায় বারুইপুরের পরের স্টেশন কল্যাণপুর। এখানে রয়েছে দু’টি প্ল্যাটফর্ম। এই দু’টি প্ল্যাটফর্মে শেড থাকলেও তা খুবই ছোট। ফলে যাত্রীদের দুরবস্থার অন্ত থাকে না। লক্ষ্মীকান্তপুর শাখায় অন্যতম বড় স্টেশন বহড়ু। মোয়ার জন্য বহুড়ুর নাম জগৎজোড়া। এই বহড়ুতেই বিখ্যাত সঙ্গীতশিল্পী হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের পৈতৃক ভিটে। এই স্টেশনে দু’টি প্ল্যাটফর্ম থাকলেও মাত্র একটি করে শেড রয়েছে। ২ নম্বর প্ল্যাটফর্মে যেখানে শেডটি রয়েছে, সেখানে পৌঁছতেই যাত্রীদের অনেকটা সময় লেগে যায়। তাঁদের বক্তব্য, শুধু শেড নয়, পানীয় জলও সব সময় মেলে না। একই ছবি মথুরাপুর স্টেশনেও। এই স্টেশনে নেমে যাত্রীদের রায়দিঘি, মন্দিরবাজার যেতে হয়। এখানে তিনটি প্ল্যাটফর্ম রয়েছে। ১ নম্বর প্ল্যাটফর্মে শেড রয়েছে। কিন্তু ২ নম্বর প্ল্যাটফর্মে যে শেড রয়েছে, তা খুবই ছোট। বৃষ্টি এলে নাস্তানাবুদ হতে হয় যাত্রীদের। এসইউসিআই’র প্রাক্তন বিধায়ক তরুণ নস্কর বলেন, এই সমস্যার কথা বারে বারে রেলকে জানানো হলেও কাজ হয়নি। বাঘাযতীন ও গোচরণ স্টেশনেও একই সমস্যা আছে। বর্ষা আর রোদে প্রবল সমস্যায় পড়তে হয় যাত্রীদের।