মহিলাদের সাঁতরে নদ পেরনোর ভিডিও ভাইরাল, অভিযোগে বিদ্ধ গ্রাম পঞ্চায়েত
বর্তমান | ২১ জুন ২০২৪
সংবাদদাতা, হলদিয়া: মহিষাদলে মায়াচর দ্বীপে যাতায়াতের জন্য এক বুক জল ঠেলে মহিলাদের রূপনারায়ণ নদ পেরনোর ছবি ভাইরাল হতেই বিপাকে পড়েছে বিজেপি পরিচালিত অমৃতবেড়িয়া গ্রাম পঞ্চায়েত। ২৪ সেকেন্ডের ওই ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে মায়াচরের মহিলারা রীতিমতো বিপজ্জনকভাবে এক গলা জল পেরিয়ে সাঁতার দিতে দিতে রূপনারায়ণ পেরচ্ছেন। চারদিকে শুধু জল। ডাঙা দৃষ্টিগোচর হচ্ছে না। ওই যাত্রীদের মধ্যে এক বৃদ্ধাও রয়েছেন। নদীর স্রোতে যে কোনও সময়ে বড়সড় বিপদ ঘটতে পারে। এই ঘটনায় বিজেপি ও তৃণমূলের চাপানউতোর শুরু হয়েছে। নিত্যযাত্রীদের অভিযোগ, চুক্তিমতো পারাপারের জন্য দু’টি নৌকোর ব্যবস্থা না রেখে যাত্রীদের বিপদের মধ্যে ঠেলে দেওয়া হয়েছে। তাঁরা নিরুপায় হয়েই এভাবে বিপদ জেনেও নদী পেরতে বাধ্য হচ্ছেন। গ্রাম পঞ্চায়েত কর্তৃপক্ষের কোনও হেলদোল নেই বলে অভিযোগ। এদিকে আবার পঞ্চায়েত প্রধান একটি নোটিস টাঙিয়ে ছুটিতে রয়েছেন। ফলে মায়াচর-বাড়অমৃতবেড়িয়ার যাত্রীদের কাছে ফেরি পারাপার রীতিমতো আতঙ্কের হয়ে উঠেছে। ওই ভিডিও নজরে আসতেই দ্রুত গ্রাম পঞ্চায়েতের কাছে ‹অ্যাকশান টেকেন রিপোর্ট› চেয়ে পাঠিয়েছেন বিডিও বরুণাশিস সরকার। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বাড়অমৃতবেড়িয়া খেয়া ঘাট থেকে মায়াচর দ্বীপে যাতায়াত করা হয়। ওই খেয়া পরিচালনা করে গ্রাম পঞ্চায়েত। তিন দশকের বেশি সময় ধরে খেয়া চালু রয়েছে। দিনে চারবার খেয়া পারাপার হয়। ২০১৩ সালে নদীর মাঝখানে চর পড়ে যাওয়ায় যাত্রীদের যাতায়াতে সুবিধের জন্য দু›টি নৌকোর ব্যবস্থা করা হয়। দু›পাশে দু›টি নৌকো পারাপার করে। মহিষাদলের বিধায়ক ও তৃণমূল নেতা তিলক চক্রবর্তীর অভিযোগ, বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর দু›টি নৌকোর বদলে একটি চালাচ্ছে। তিনি বলেন, যাত্রীরা বিপজ্জনকভাবে পারাপার করতে বাধ্য হচ্ছেন। এজন্য পঞ্চায়েত অফিস ঘেরাও করে তৃণমূল চুক্তি অনুযায়ী নৌকো চালানোর দাবি করেছে। পঞ্চায়েত প্রধান নোটিস টাঙিয়ে ছুটিতে চলে গিয়েছেন মানুষকে বিপদে ফেলে। মহিষাদল পঞ্চায়েত সমিতির বিরোধী দলনেতা বিজেপির রঘুনাথ পণ্ডার সাফাই, দু›টি নৌকো কখনওই চুক্তিতে ছিল না। প্রয়োজনে চালানো হতো। গতবছর আগস্টে ফেরির ডাক চুক্তির সময় চরের সমস্যা ছিল না। একটি নৌকোই চালানো হতো। জুন মাসের গোড়ায় হঠাৎ চর জেগে উঠতেই নৌকো চালানো যাচ্ছে না। এদিকে, নির্বাচনী বিধি না থাকায় মিটিং করা যায়নি। এজন্য প্রধান ১৭ জুন একটি নোটিস দিয়েছেন। ওই নোটিসে নদীতে ভাটার খেয়া বন্ধ থাকবে বলে জানিয়েছেন। ২৮ জুন পর্যন্ত ভাটায় খেয়া বন্ধ থাকবে। তবে জোয়ারের সময়ে চরের সমস্যা না থাকায় ফেরি মায়াচর পর্যন্ত যাতায়াত করবে। ওই নোটিস নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন বিধায়ক। তিনি বলেন, নির্বাচনী বিধি আগেই উঠে গিয়েছে। আসলে খরচ বাঁচাতে বাড়তি নৌকোর ব্যবস্থা করছে না। এরফলে মানুষ প্রয়োজনে মহিষাদল ব্লকে বা হাসপাতালে কাজে আসতে পারছেন না। ভাইরাল হওয়া ভিডিও