ভেঙেছে ডাইভারসন, পাঁচদিন পরও বিচ্ছিন্ন আলিপুরদুয়ার ও ফালাকাটা
বর্তমান | ২১ জুন ২০২৪
সংবাদদাতা, ফালাকাটা: পাঁচদিন ধরে ফালাকাটার সঙ্গে জেলা সদর শহর আলিপুরদুয়ারের সড়ক পথে সরাসরি যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন। কোচবিহার জেলা হয়ে ঘুরপথে যাতায়াত করতে হচ্ছে। ফালাকাটার চরতোর্সা ডাইভারসন নিয়ে ভোগান্তির শেষ নেই নিত্যযাত্রীদের। দীর্ঘপথ বাইক, স্কুটার চালকরা ঘুরতে চাইছেন না। পরিবর্তে তাঁরা লোক দিয়ে ৮০ টাকার বিনিময়ে স্কুটার, বাইক পার করিয়ে নিচ্ছেন। এমন অবস্থায় জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ উগরে দিচ্ছেন সংশ্লিষ্ট রাস্তা ব্যবহারকারীরা।
বৃহস্পতিবার চরতোর্সা নদীর জলস্তর কিছুটা কমেছে। তাই দিনভর চরতোর্সা পারাপার করার জন্য সাধারণ মানুষের ভিড় ছিল। যদিও ডাইভারসনের পশ্চিম দিকে কঙ্কালসার চেহারা প্রকট হয়েছে। ভাঙাচোরা অংশের উপর দিয়েও বয়ে চলে স্রোত। বাইক, স্কুটার নিয়ে এসে লোকজন থমকে যাচ্ছে। আর সুযোগকে কাজে লাগিয়ে নদী পারাপার করে দিচ্ছে কয়েকজন যুবক। বিনিময়ে তারা ১০ থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত নিচ্ছেন। এখনও এলাকায় নৌকা নামানো হয়নি। বাঁশের সাঁকোও বানানো হয়নি। তাই ওই যুবকরা লোকজনের হাত ধরে, পিঠে তুলে পার করে দিচ্ছেন। আবার পাঁচ-ছ’জন মিলে বাইক তুলে নদীর এপাড়-ওপাড় করে দিচ্ছেন। মানুষ পার করতে জনপ্রতি নেওয়া হচ্ছে ১০ টাকা করে। আর স্কুটার, বাইক পার করাতে নেওয়া হচ্ছে ৮০-১০০ টাকা। বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই এই কাজে নামেন স্থানীয় কিছু যুবক। তাঁদের কথায়, নদীতে জল কম। তাই লোকজন কোচবিহার জেলার ঘোকসাডাঙা, পুন্ডিবাড়ি হয়ে ঘুরপথে না গিয়ে চরতোর্সার ভাঙাচোরা ডাইভারসনের উপর দিয়েই পার হচ্ছে।
ওই কাজে যুক্ত যুবকরা বলেন, পাঁচ-ছ’জন মিলে একটি বাইক পার করে দিচ্ছি। ঝুঁকি থাকলেও লোকজনের সুবিধা হচ্ছে। এরজন্য কিছু টাকা নেওয়া হচ্ছে। জল থাকলেও কিছুটা কম এখন। তাই যাঁরা চাইছেন, তাঁদের হাত ধরে পার করে দিয়ে ১০ টাকা করে নিচ্ছি। পলাশবাড়ির একটি স্কুলের শিক্ষক অমিত রায় বলেন, ঘোকসাডাঙা দিয়ে ঘুরপথে স্কুলে আসতে তিনদিন একঘণ্টা অতিরিক্ত সময় লেগেছে। এরজন্য বাইকের তেলও খরচ হয়েছে। সময় বাঁচাতে এদিন কিছু টাকা দিয়ে বাইক পার করে নিয়েছি।