• ভোটের সময় বাইরে থেকে বিপুল টাকা রাজ্যে ঢুকল কীভাবে, পুলিসের ভূমিকায় ক্ষুব্ধ মমতা
    বর্তমান | ২১ জুন ২০২৪
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ১০ দিন আগের প্রশাসনিক বৈঠকে পুলিসের বড়কর্তারা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তোপের মুখে পড়েছিলেন।  বৃহস্পতিবারের রুদ্ধদ্বার বৈঠকেও পুলিস আধিকারিকদের একাংশের কাজ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করলেন তিনি। লোকসভা নির্বাচনে ভোটারদের প্রভাবিত করতে রাজ্যে বিপুল পরিমাণ টাকা ঢোকার বিষয়টি এদিনের বৈঠকে আলোচিত হয়। নবান্ন সূত্রে খবর, বিষয়টি উত্থাপন করে পুলিসের ভূমিকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘টাকা দিয়ে ভোট কখনও বাংলার ঐতিহ্য ছিল না। কিন্তু এবার তা আটকানো গেল না। পুলিস কী করছিল? এটা তো পুলিসের আটকানো উচিত ছিল।’ প্রসঙ্গত, উত্তরবঙ্গে শুধুমাত্র কোচবিহার লোকসভায় জয় পেয়েছে তৃণমূল। তবে রাজ্যের এই অংশে আরও কয়েকটি আসন পাওয়ার ব্যাপারে আশাবাদী ছিল জোড়াফুল শিবির। কিন্তু তা হয়নি। সূত্রের খবর, উত্তরবঙ্গের ফলাফল নিয়ে মমতা আগেই ঘনিষ্ঠ মহলে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। এবার তিনি ভোটের সময় রাজ্যে বিপুল অঙ্কের টাকা ঢোকা নিয়ে পুলিসের ভূমিকায় ক্ষোভ প্রকাশ করলেন। এরপর স্বভাবতই পুলিসের অন্দরে নানা জল্পনা বাড়ছে। প্রশ্ন উঠেছে, তাহলে কি এবার রাজ্যের ডিজিপি পদে ফিরিয়ে আনা হতে পারে রাজীব কুমারকে? এদিনের বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের বর্তমান ডিজিপি সঞ্জয় মুখোপাধ্যায় এবং এডিজি আইনশৃঙ্খলা মনোজ বর্মা। 


    কলকাতায় জমি জবরদখলের ঘটনা নিয়ে পুলিস কমিশনার বিনীত গোয়েলকে তুলোধনা করেন মমতা। সিপি’কে তাঁর প্রশ্ন, পুরসভা এবং ভূমিসংস্কার দপ্তর নিজেদের দায়িত্ব পালন করবেই। কিন্তু পুলিসের কাছে তো জমিদখল নিয়ে আগে খবর আসে। পুলিস ব্যবস্থা নেয়না কেন? রাজারহাট-নিউটাউনে জমি জবরদখল নিয়েও ক্ষোভ উগরে দেন তিনি। এ বিষয়ে মমতা সংশ্লিষ্ট পুর-প্রতিনিধিদের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করার নির্দেশ দেন। পুরমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিমকেও  এবিষয়ে নজর দিতে বলেছেন মমতা।  এদিনের বৈঠকে পাট্টা বিলিতে দেরি হওয়া নিয়ে মমতার প্রশ্নের মুখে পড়েন ভূমি ও ভূমিসংস্কার দপ্তরের আধিকারিক। মুখ্যমন্ত্রীকে জানানো হয়, চলতি বছরের প্রথম দু’মাসে ৩৯৭টি পাট্টা বিলি হয়েছে। ভোটের জন্যে তিন মাস পাট্টা বিলি বন্ধ ছিল। ২০১১ সাল থেকে এখনও পর্যন্ত মোট ৫৮ হাজার ৬৫০টি পাট্টা বিলি হয়েছে। ভোটপর্ব মিটে যাওয়ায় এই কাজে ফের গতি আনার নির্দেশ দিয়েছেন মমতা। আরও জানা গিয়েছে, গত ১১ জুনের মতো এদিনের বৈঠকেও সন্দেশখালি নিয়ে পুলিসের ভূমিকার কড়া সমালোচনা করেছেন মমতা। বাংলার ‘বদনাম’ করতে এত বড় ষড়যন্ত্রের খবর পুলিসের কাছে কেন আগাম ছিল না, তা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। -ফাইল  চিত্র
  • Link to this news (বর্তমান)