নজরুলকে তবলা শুনিয়েছিলেন জয়নগরের কানাইলাল, শিল্পীর দিন কাটছে ভাঙা ঘরেই
বর্তমান | ২১ জুন ২০২৪
সত্যজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়, বারুইপুর: একবার সুযোগ পেয়েছিলেন কাজী নজরুল ইসলামের সামনে বসে তবলা বাজানোর। নজরুল বাজনা শুনে তারিফ করেছিলেন। এছাড়াও নানা গুণীজনের সঙ্গে তবলায় সঙ্গত করেছেন। এই সূত্রে নাম ছড়িয়ে পড়ে কানাইলাল ভট্টাচার্যের। তিনি জানালেন, ভীষ্মদেব চট্টোপাধ্যায়, অজয় চক্রবর্তীর সঙ্গে বাজানোর সুযোগ পেয়েছিলেন। তবলা শেখা বেনারসের বিষ্ণুসেবক মিশ্র, জ্ঞানপ্রকাশ ঘোষ, কানাই দত্তের কাছে। সুপ্রভা সরকারের সঙ্গে নিয়মিত সঙ্গত করতেন। জীবনে প্রচুর সুনাম কুড়িয়েছেন বটে তবে দারিদ্র ঘোচেনি। এখন বাড়ির চাল ফুটো করে বৃষ্টির জল পড়ে। সংসার চলে বার্ধক্য ভাতার টাকায়। কয়েকজন এখনও তবলা শিখতে আসেন। তাঁরা সাম্মানিক হিসেবে যা দেন, তা দিয়ে ওষুধবিষুধ কেনা হয়। সঙ্গীত জগত একডাকে কানাইলাল ভট্টাচার্যকে চেনে। কিন্তু ৮২ বছরের মানুষটির অভাব দূর হয়নি। বৃদ্ধ বয়সে ভাত জোগাড় করতে কালঘাম ছুটে যায়। বলেন, ‘সরকারি ঘরের জন্য আবেদন করেছিলাম। কিন্তু পাইনি। একটু বৃষ্টি এলেই ছাউনি চুঁয়ে জল পড়ে।’
জয়নগর-মজিলপুর পুরসভার দু’নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা কানাইলালবাবু। তাঁর ঘরে কাকা কালাচাঁদ ভট্টাচার্যের মূর্তি রয়েছে। বাবা শশধর ভট্টাচার্যের ছবি আছে দেওয়ালে। এঁরা ছিলেন পাঁচালি গানের পথিকৃত। তাঁর কাকা কানাই ভট্টাচার্য ছিলেন স্বাধীনতা সংগ্রামী। এই ঘরের চারপাশে ছড়িয়ে শিল্পী কানাইলালের বিভিন্ন মানপত্র। গুণীজনদের সঙ্গে ছবি। ঘরের এক কোণে সযত্নে রাখা তিনটি তবলা। বয়স থাবা বসিয়েছে শরীরে। চোখেও কম দেখেন। কিন্তু তবলার তাল এখনও কাটে না। জয়নগরের অজিত ভট্টাচার্যের কাছে ১৩ বছর বয়সে ভর্তি হয়েছিলেন তবলা শিখতে। তারপর সাধনা থামেনি। কিংবদন্তী আরতি মুখোপাধ্যায়, অমরনাথ মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গে প্রশিক্ষণ দিয়েছেন। অনিল বাগচির সান্নিধ্যে এসেছিলেন। কানাইবাবু বলেন, ‘মানুষের ভালোবাসা পেয়েছি। ছাত্র-ছাত্রীরা খুব সম্মান করে। তাঁদের দেওয়া সামান্য টাকা আর বার্ধক্যভাতার এক হাজার টাকায় সংসার চালাতে হয়। ঘর সারানোর পয়সা নেই। দরমার ফাঁক দিয়ে জল পড়ে তবলার ক্ষতি হতে পারে। একটা ঘরের জন্য আবেদন করেছিলাম। কিন্তু আমার ভাগ্যে তা জোটেনি।’ বাসিন্দারা কানাইলালবাবুর প্রশংসা করে বলেন, জয়নগরের নাম উজ্জ্বল করেছেন আমাদের কানাইদা। -নিজস্ব চিত্র