গ্রামোন্নয়নে খরচের হিসেব দিতে হবে নির্দিষ্ট সময়ে, জেলা প্রশাসনকে নির্দেশ দিল নবান্ন
বর্তমান | ২১ জুন ২০২৪
প্রীতেশ বসু, কলকাতা: রাজ্যের অনুমোদিত পরিষেবা গ্রামীণ মানুষের কাছে আদৌ পৌঁছল কি না, তা মোটামুটিভাবে প্রতিফলিত হয় জেলা পরিষদ এবং পঞ্চায়েত সমিতির দেওয়া আয়-ব্যয়ের হিসেবে। তাই বরাদ্দ অর্থ নির্দিষ্ট সময়ে খরচ করার হিসেব পাওয়া যাচ্ছে কি না, তার উপর নজর রাখে রাজ্য প্রশাসন। গ্রামবাংলায় তৃণমূল স্তর পর্যন্ত পরিষেবা পৌঁছে দিতেই নবান্নের এই কঠোরতা। বিষয়টিতে এবার আরও কড়া হচ্ছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রশাসন।
সাম্প্রতিক একটি রিপোর্ট অনুযায়ী, রাজ্য পঞ্চায়েত দপ্তরের সরল-আইএফএমএস পোর্টালের মাধ্যমে আয়-ব্যয়ের হিসেব দেওয়ার ক্ষেত্রে জেলা পরিষদ ও পঞ্চায়েত সমিতি মিলিয়ে মোট ২৬টি সংস্থা যথেষ্ট পিছিয়ে রয়েছে। এই রিপোর্ট পেয়েই নড়েচড়ে বসেছে রাজ্য প্রশাসন। জনকল্যাণের লক্ষ্যে নেওয়া প্রকল্প যথাসময়ে শেষ করে হিসেব পেশ নিশ্চিত করতেই তলব করা হয়েছে ২৬টি জেলা পরিষদ ও পঞ্চায়েত সমিতির আধিকারিকদের। তাদের কাছে জানতে চাওয়া হবে, পোর্টালে হিসেব পেশ না করার কারণ কী। ভবিষ্যতেও এই ধরনের গাফিলতি এড়াতে তাঁদের কী করণীয়, আধিকারিকদের সেটাও বোঝানো হবে।
এই প্রসঙ্গে পঞ্চায়েতমন্ত্রী প্রদীপ মজুমদার বলেন, আমাদের উদ্দেশ্য স্বচ্ছতা বজায় রেখে যথাসময়ে প্রতিটি প্রকল্পের কাজ শেষ করা। সেই লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ গ্রহণ। রাজ্যের নিয়ম সম্পর্কে পঞ্চায়েত সমিতি এবং জেলা পরিষদ কর্তৃপক্ষ অবগত থাকবে, সেটাই প্রত্যাশিত।
কয়েক বছর যাবৎ সরল-আইএফএমএস-এর মাধ্যমে আয়-ব্যয়ের হিসেব পেশ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। ছোট থেকে বড় সমস্ত খরচই তুলতে হয় এই পোর্টালে। পোর্টালে হিসেব তোলার বিষয়ে সম্প্রতি একটি সমীক্ষা করা হয়। তার রিপোর্টে ‘পুওর পারফর্মিং’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে তিনটি জেলা পরিষদ এবং ১২টি জেলার মোট ২৩টি পঞ্চায়েত সমিতিকে। তালিকায় রয়েছে—কোচবিহার, হুগলি ও নদীয়া জেলা পরিষদ। পঞ্চায়েত সমিতিগুলির মধ্যে রয়েছে—বাঁকুড়া ১, কাটোয়া ১, পূর্বস্থলী ২, রায়গঞ্জ, সিতাই, কোচবিহার ২, কালিয়াচক ১, কেশিয়াড়ি, সবং, দাসপুর ১, গড়বেতা ৩, খড়গপুর ১, দাঁতন ১, নারায়ণগড়, খেজুরি ১, চণ্ডীপুর, এগরা ২, পটাশপুর ২, সুতি ১, সামসেরগঞ্জ, চকদহ, মথুরাপুর ২ এবং ঝাড়গ্রাম।
জেলা পরিষদের ক্ষেত্রে জয়েন্ট বিডিওদের এবং পঞ্চায়েত সমিতিগুলির ক্ষেত্রে এফসি এবং সিএও পদাধিকারীদের তলব করা হয়েছে। ২৫ জুন দুপুরে বিধাননগরে মৃত্তিকা ভবনে পঞ্চায়েত দপ্তরের অফিসে তাঁদের নিয়ে একটি কর্মশালা হবে। সংশ্লিষ্ট জেলা পরিষদ এবং পঞ্চায়েত সমিতিগুলির তরফে এই বৈঠকে উপস্থিতি বাধ্যতামূলক। প্রসঙ্গত, সম্প্রতি সরল-আইএফএমএস পোর্টালটি আরও ভালোভাবে গড়ে তোলা হয়েছে। সেই বিষয়ে ফের তাঁদের জানানো হবে। অন্যদিকে, পঞ্চদশ অর্থ কমিশনের টাকা খরচ করে কী কী কাজ হবে, সেই পরিকল্পনা তৈরির ব্যাপারে পিছিয়ে থাকা পঞ্চায়েতগুলিরও তালিকা তৈরি হচ্ছে।