এটিএম প্রতারণার জাল ছড়িয়ে সীমান্তেও, রানিনগরে ধৃত চার
বর্তমান | ২২ জুন ২০২৪
সংবাদদাতা, ডোমকল: হরিহরপাড়ার পর রানিনগর। এটিএম কার্ডের প্রতারণা চক্রের জাল ছড়িয়ে সীমান্তের থানা এলাকাতেও। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে চক্রের চারজনকে পাকড়াও করল রানিনগর থানার পুলিস। বৃহস্পতিবার রাতে রানিনগরের পৃথক কয়েকটি এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের ধরা হয়। ধৃতদের নাম রবিউল শেখ, নুরুজ্জামান শেখ, আরশেদ আলি ও বিপ্লব শেখ। এদের মধ্যে রবিউল ও নুরুজ্জামানের বাড়ি কাতলামারির খামারপাড়ার বাসিন্দা। আরশেদ ও বিপ্লবের বাড়ি যথাক্রমে নন্দিরভিটা ও বাবুলতলি গ্রামে। ধৃতদের কাছে থেকে একটি ল্যাপটপ, ২২টি বিভিন্ন ব্যাঙ্কের এটিএম কার্ড, ৬০টি সিমকার্ড, পাঁচটি দামি ব্র্যান্ডের অ্যান্ড্রোয়েড মোবাইল ফোন ও নগদ ২ হাজার ১২০ টাকা বাজেয়াপ্ত করেছে পুলিস।
পুলিস জানিয়েছে, ধৃতরা সবাই অনলাইনে এটিএম প্রতারণা চক্রের সঙ্গে জড়িত। তারা এলাকার বয়স্ক, অশিক্ষিত লোকজনকে টার্গেট করে বিভিন্ন কৌশলে কিছু টাকার লোভ দেখিয়ে বিভিন্ন ব্যাঙ্কে অ্যাকাউন্ট খুলিয়ে নিত। পরে সেইসব অ্যাকাউন্টের এটিএম কার্ড সহ যাবতীয় তথ্য বিক্রি করে দিত জামতাড়া, কলকাতা ও দিল্লির সাইবার প্রতারকদের কাছে। পরে, রাজ্য সহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে গ্রাহকদের ব্যাঙ্ক থেকে জালিয়াতির টাকা ওইসব আক্যাউন্টগুলির মাধ্যমে লেনদেন করত প্রতারকরা। পুলিসের অনুমান, এই চক্রের সঙ্গে রানিনগর থানা এলাকার প্রচুর যুবক জড়িয়ে রয়েছে। ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে আর কে কে এই চক্রের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে, তার তদন্ত করার জন্য শুক্রবার ধৃতদের সাত দিনের পুলিসি হেফাজতের আবেদন জানিয়ে লালবাগ আদালতে পাঠানো হয়েছে।
গত কয়েকদিনে মুর্শিদাবাদ জেলার হরিহরপাড়া থানা এলাকায় এটিএম প্রতারণা চক্রের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে ১৫ জনকে গ্রেপ্তার করেছিল হরিহরপাড়া থানার পুলিস। তাদের মধ্যে বেশ কয়েকজনের বাড়ি ডোমকল মহকুমা এলাকাতে। তারাও এটিএম জালিয়াতির সঙ্গে জড়িত ছিল। তদন্তকারী এক আধিকারিক বলেন, অনেক আগে থেকেই তাঁরা গোপনে এই চক্রের সঙ্গে জড়িতদের নজর রাখছিল। অনেক সময়ে বিভিন্ন এটিএম-এ অল্পবয়সীদের সন্দেহজনক ঘোরাফেরাও নজর রাখা হচ্ছিল। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় রানিনগরের শেখপাড়া বাজারের একটি এটিএমে ধৃতদের মধ্যে একজনের সন্দেহজনক ঘোরাফেরা লক্ষ্য করে পুলিস । এরপরই সোর্স মারফৎ ইনপুটের ভিত্তিতে তাকে দাঁড় করিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তার কথাবার্তায় অসঙ্গতি মেলে। তল্লাশি চালাতেই বিভিন্ন নামের বেশ কয়েকটি এটিএম পাওয়া যায়। এরপরই তাকে জিজ্ঞাসাবাদ চালিয়ে বাকিদের জালে তোলা হয়।