• কালনায় নতুন প্রধান শিক্ষককে মেনে নিতে না পেরে অবস্থানে পড়ুয়া ও অভিভাবকরা
    বর্তমান | ২২ জুন ২০২৪
  • সংবাদদাতা, কালনা: বিদ্যালয়ে পুরনো টিচার ইনচার্জের জায়গায় নতুন প্রধান শিক্ষক এসেছেন। তা মেনে নিতে পারছে না স্কুল পড়ুয়া থেকে অভিভাবকরা। ঘটনাটি কালনা উত্তর চক্রের সিমলন অন্নপূর্ণা কালী নিম্ন বুনিয়াদি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের। এরই প্রতিবাদে শুক্রবার স্কুলের সামনে অবস্থান বিক্ষোভে শামিল হয় স্কুল পড়ুয়া থেকে অভিভাবকরা। পরে অনির্দিষ্টকালের জন্য স্কুলে পঠনপাঠন বয়কটের হুমকি দিয়ে তারা বাড়ি ফিরে যায়। যদিও এনিয়ে অবর বিদ্যালয় পরিদর্শক অবশ্য জানিয়েছেন, নিয়ম মাফিক বদলি হয়েছে।


    স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, অন্নপূর্ণা কালী নিম্ন বুনিয়াদি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি প্রায় ৫০ বছরের পুরনো। স্থানীয় বাসিন্দা ও অভিভাবকদের বক্তব্য, এক সময় তেমন পড়ুয়া ছিল না। ২০০৬ বিদ্যালয়ে শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন অচিন্ত্য মণ্ডল। ২০১৩ সালে তিনি স্কুলের টিচার ইনচার্জ হন। তাঁর ও অন্যান্য শিক্ষকদের অক্লান্ত পরিশ্রমে বিদ্যালয়ে পড়ুয়ার সংখ্যা বাড়তে থাকে। বর্তমানে বিদ্যালয়ে পড়ুয়ার সংখ্যা ২০০। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের পদ খালি ছিল। শুক্রবার শ্যামল মাঝি স্কুলের প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব নিতে আসেন। খবর ছড়িয়ে পড়তেই মর্নিং স্কুলের পড়ুয়ারা ‘প্রধান শিক্ষক হিসেবে অচিন্ত্যবাবুকে চাই’, স্লোগান তুলে গেটের বাইরে রাস্তায় বসে পড়ে। পরে অভিভাবকরাও তাতে শামিল হন।  অভিভাবক সুকান্ত রায়, অরবিন্দ সর্দার বলেন, অচিন্ত্যবাবুর আমলেই প্রতি বছর পড়ুয়ার সংখ্যা বাড়ছে। এই স্কুল নির্মল বিদ্যালয়ের পুরস্কার পেয়েছে। যিনি এখন প্রধান শিক্ষক হয়ে এসেছেন, তিনি পুরনো স্কুলে প্রধান শিক্ষক না হয়ে কেন এখানে এসেছেন বুঝতে পারছি না। জানতে পেরেছি, তাঁর পুরনো স্কুলে পঠনপাঠন ঠিকমতো না হওয়ায় পড়ুয়ার সংখ্যা তলানিতে ঠেকেছে। এমন শিক্ষককে আমরা প্রধান শিক্ষক হিসেবে চাই না। তাঁকে প্রধান শিক্ষক হিসেবে রাখা হলে আমাদের সন্তানদের টিসি নিয়ে অন্য স্কুলে ভর্তি করাব। অচিন্ত্যবাবু বলেন, আমি এক দশক ধরে টিচার ইনচার্জ হিসেবে রয়েছি। সরকারি নিয়ম সকলকে মানতে হবে। প্রধান শিক্ষক শ্যামলবাবু বলেন, নিয়ম মেনে কাউন্সেলিংয়ের মাধ্যমে সিনিয়র টিচার হিসেবে এই স্কুলে প্রধান শিক্ষক হিসেবে পাঠানো হয়েছে। এখন স্কুল, শিক্ষাদপ্তর যা সিদ্ধান্ত নেবে মেনে নেব।  অবর বিদ্যালয় পরিদর্শক অভিজিৎ জানা বলেন, নিয়ম মেনে ওই শিক্ষক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হয়েছেন। সমস্যা থাকলে অভিভাবকদের কথা শোনা হবে।-নিজস্ব চিত্র  
  • Link to this news (বর্তমান)