নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: প্রকৃতির খামখেয়ালিপনায় চাষিদের রাতের ঘুম উবে গিয়েছে। আষাঢ়েও বৃষ্টির দেখা নেই। রোদের তাপে বীজতলা শুকিয়ে যাচ্ছে। কবে বৃষ্টি নামবে, তারজন্য আকাশের দিকে চাষিরা তাকিয়ে রয়েছেন। বৃষ্টি না হলে আমন চাষ পিছিয়ে যাবে। তাতে ফলন কম হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই চাষিদের কথা চিন্তা করে ২৫ জুলাই থেকে জল ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ডিভিসি কর্তৃপক্ষ। বৃহস্পতিবার বর্ধমান জেলা পরিষদের স্থায়ী সমিতির বৈঠকে ডিভিসি এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে।
জেলা পরিষদের কৃষি কর্মাধ্যক্ষ মেহেবুব মণ্ডল বলেন, সামনের মাসের ২৫ তারিখ জল ছাড়া হবে বলে আমাদের জানানো হয়েছে। তবে কত পরিমাণ জল ছাড়া হবে এবং কোন এলাকায় যাবে তা নিয়ে কয়েকদিনের মধ্যেই বৈঠক হবে। বৃষ্টি নামলে জলের তেমন দরকার হবে না। কিন্তু পর্যাপ্ত বৃষ্টি না হলে এই জলে চাষিরা উপকৃত হবেন।
জেলা পরিষদের সভাধিপতি শ্যামাপ্রসন্ন লোহার বলেন, চাষিরা যাতে পর্যাপ্ত জল পান, তারজন্য ডিভিসির সঙ্গে বৈঠক করব। এমনিতে বৃষ্টি বেশি হলে ডিভিসি অতিরিক্ত জল ছেড়ে দেয়। তাতে বহু জমির ধান নষ্ট হয়। আশা করি, চাষিদের প্রয়োজনে তারা পর্যাপ্ত জল ছাড়বে।
কৃষিদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, পূর্ব বর্ধমান জেলায় ৩ লক্ষ ৭৪ হাজার ১৫৫ হেক্টর জমিতে আমন ধান চাষ হয়। গলসি, খণ্ডঘোষ, রায়না, মঙ্গলকোট ও কেতুগ্রাম এলাকায় সবচেয়ে বেশি ধান চাষ হয়। ডিভিসি জল ছাড়লে জেলার বিস্তীর্ণ এলাকার চাষিরা উপকৃত হবেন। তবে আউশগ্রামের বেশকিছু এলাকার চাষ বৃষ্টির উপর নির্ভরশীল। ওইসব জায়গায় সেচের বন্দোবস্ত নেই। বৃষ্টি না হলে জমি ফাঁকা থেকে যায়। কৃষিদপ্তরের এক আধিকারিক বলেন, সমস্ত এলকায় বীজতলা তৈরি হয়ে গিয়েছে। তবে বৃষ্টি না হওয়ায় বীজ রোদে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। একবার ভারী বৃষ্টি নামলেই বীজতলা বেঁচে যাবে। বীজ রোপণ করতে আরও কিছুদিন সময় লাগবে। সাধারণত জুলাই মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে ধান রোপণ শুরু হয়। আগস্টের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত বীজ রোপণ করা যায়। তারপর চাষ করলে অবশ্য ফলন কমে যাওয়ার আশঙ্কা বেশি। গলসির ধান চাষি প্রণব পাত্র বলেন, এখন বীজতলা রক্ষা করাই বড় চ্যালেঞ্জ। অনেক জায়গায় পুকুর থেকে সেচ দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু বহু জমিতে সেই সুবিধা নেই। বর্ষার চাষ সাধারণত প্রকৃতির উপর নির্ভর করে হয়। সময়ে বৃষ্টি না হলে চাষ করা কঠিন হয়ে পড়ে। তবে ডিভিসির জলের উপর অনেক কিছু নির্ভর করে। কয়েক বছর ধরেই চাষের ভরা মরশুমে পর্যাপ্ত পরিমাণ বৃষ্টি হচ্ছে না। ওই সময় ক্যানেল থেকে জল পাওয়া গেলে সমস্যা অনেকটাই মিটে যাবে। কৃষিদপ্তরের এক আধিকারিক বলেন, বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। বীজতলা বেঁচে যাবে। ডিভিসির জলে চাষ করতেও সমস্যা হবে না। চাষিদের এখনই দুশ্চিন্তার কারণ নেই। এখন তাঁরা জমির মাটি তৈরির প্রস্ততি নিতে পারেন।-ফাইল চিত্র