মিড ডে মিলের হিসেবে কারচুপির অভিযোগ, পরিদর্শনের সিদ্ধান্ত জেলা পরিষদের
বর্তমান | ২২ জুন ২০২৪
নিজস্ব প্রতিনিধি, মেদিনীপুর: জেলায় মিড ডে মিল নিয়ে প্রায়শই উঠছে অনিয়মের অভিযোগ। পড়ুয়ার উপস্থিতির সংখ্যার সঙ্গে মিলছে না মিড ডে মিলের হিসেব। মিড ডে মিলে ‘অনিয়ম’ রুখতে এবার স্কুলে স্কুলে শিক্ষা দপ্তরের আধিকারিক ও কর্মাধ্যক্ষদের পরিদর্শনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করল পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা পরিষদ। শুক্রবার জেলা পরিষদের শিক্ষা স্থায়ী সমিতির বৈঠকে এনিয়ে বিস্তারিত আলোচনাও হয়েছে।
জেলা পরিষদের শিক্ষা কর্মাধ্যক্ষ শ্যামপদ পাত্র বলেন, মিড ডে মিল নিয়ে প্রায়শই অনিয়মের অভিযোগ পাচ্ছি। স্কুলে উপস্থিত ৩০ জন, অথচ রান্না হচ্ছে তিনশ জনের। মিড ডে মিল নিয়ে একটা অসাধু চক্র কাজ করছে। স্থায়ী সমিতির বৈঠকে এনিয়ে আলোচনা হয়েছে। আধিকারিক ও কর্মাধ্যক্ষদেরও মাঝেমধ্যেই আচমকা স্কুল পরিদর্শনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ধরা পড়লে প্রয়োজনীয় পদক্ষেও করা হবে। জেলা পরিষদ সূত্রে খবর, মিড ডে মিল নিয়ে এ ধরনের অনিয়মের অভিযোগ নতুন নয়। অভিযোগ, স্কুলের পড়ুয়াদের উপস্থিতির সঙ্গে মিড ডে মিলের যে হিসেব পোর্টালে আপলোড করা হয়, তারমধ্যে বিস্তর গরমিল রয়েছে। মিড ডে মিলে দুর্নীতি নিয়ে সরব বিরোধীরাও। এনিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের পরিদর্শক দলও কয়েক বার এসেছে জেলায়।
কয়েকমাস আগে কেশপুরেই একটি মাদ্রাসা নিয়ে এ ধরনের অভিযোগ আসতেই শোরগোল পড়ে যায়। ওই স্কুলে মোট পড়ুয়ার সংখ্যা চারশ। প্রতিদিন গড়ে উপস্থিত থাকে ২৫০ জন পড়ুয়া। মিড ডে মিল রান্না হয় ২৫০ জনেরই। অথচ ৪০০ জন পড়ুয়ার রান্না হয় বলে হিসেব দেওয়া হয় সরকারকে। এনিয়ে নির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তও চালান কেশপুরে বিডিও। অভিযোগ, এ শুধু ওই একটি স্কুলেই নয়, জেলার বিভিন্ন স্কুলেই এই গরমিল করা হয়। পেশ করা হোয় ‘ভুয়ো’ রিপোর্ট। এভাবে সরকারের লক্ষ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ করা হয়ে বলে অভিযোগ।
জেলার শিক্ষকদের একাংশের অবশ্য দাবি, কেন্দ্র থেকে মিড ডে মিলের জন্য যে টাকা বরাদ্দ করা হয়, সেই টাকায় পড়ুয়াদের কখনওই ভালো পুষ্টিকর খাবার খাওয়ানো সম্ভব না। প্রাথমিকে পড়ুয়াদের মাথাপিছু পাঁচ টাকা ৪৫ পয়সা এবং উচ্চ প্রাথমিকে আট টাকা ১৭ পয়সা বরাদ্দ রয়েছে। অথচ, বর্তমানে আলু ৩০ টাকা কেজি, সব্জির দাম আগুন। ডিমও সাড়ে ছ’টাকা থেকে সাত টাকা প্রতি পিস। ফলে যা করা হয় পড়ুয়াদের ভালো খাওয়ানোর জন্যই। এতে কারচুপির কিছু নেই।