সংবাদদাতা, হরিশ্চন্দ্রপুর: উত্তরবঙ্গে ভারী বৃষ্টির ফলে বৃহস্পতিবার রাত থেকে জল বাড়তে শুরু করেছে মালদহের ফুলহর নদীতে। এর ফলে হরিশ্চন্দ্রপুর-২ ব্লকের নদী তীরবর্তী অঞ্চলের দক্ষিণ তীরে ভাঙন শুরু হয়েছে। নদী ভাঙনের ফলে ইসলামপুর পঞ্চায়েতের কাউয়াডোল, রশিদপুর, উত্তর ভাকুরিয়া, দক্ষিণ ভাকুরিয়া, মিরপাড়া, তাঁতিপাড়া, চাঁদপুর, চণ্ডীপুর, খোঁপাকাঠি ও পেঁয়াজখালি সহ একাধিক গ্রাম জলে তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
ব্লকের রশিদপুরে নদী ক্রমশ জনবসতির কাছে এগিয়ে আসছে। এনিয়ে এলাকায় আতঙ্ক বাড়ছে। ভাঙন দেখে এলাকার কৃষকরা কৃষি জমি বাঁচানোর উপায় খুঁজে পাচ্ছেন না। এভাবে ভাঙন চলতে থাকলে শীঘ্রই ইসলামপুর পঞ্চায়েতের বেশ কয়েকটি গ্রাম নদীগর্ভে চলে যাবে। রশিদপুর গ্রামের বাসিন্দা সেখ আলম বলেন, নদী থেকে আমার বাড়ি ১০০ মিটার দূরত্বে। আতঙ্কে রাতে ঘুমোতে পারছি না। চাষের জমি জলে তলিয়ে গিয়েছে। প্রশাসনকে বারবার জানিয়েও কোনও সুরাহা হয়নি। সেখ সাজু নামে আরও এক বাসিন্দা বলেন, ভাঙনের ফলে কয়েকশো একর জমি নদীগর্ভে চলে গিয়েছে। এলাকা বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ার মুখে। এলাকার বাসিন্দারা আতঙ্কিত। প্রশাসন ভাঙন রোধে কোনও ব্যবস্থা না নিলে নদী তীরবর্তী গ্রামগুলি তলিয়ে যাবে।
সেচদপ্তর জানিয়েছে, নদীর অসংরক্ষিত অঞ্চলে প্রাকৃতিক নিয়মেই ভাঙন হবে। স্থানীয় বিধায়ক তথা রাজ্যের প্রতিমন্ত্রী তজমুল হোসেন বলেন, আমি কয়েকবার সেখানে পরিদর্শনে গিয়েছি। নদী ভাঙনের বিষয়টি রাজ্যকে জানিয়েছি। হরিশ্চন্দ্রপুর-২’র বিডিও তাপস পাল বলেন, নদীর জল বৃদ্ধির পরই আমি এলাকা পরিদর্শনে গিয়েছিলাম। সমস্যা সমাধানে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। মালদহ উত্তরের সাংসদ বিজেপির খগেন মুর্মু বলেন, আমি ইতিমধ্যেই দিল্লিতে গঙ্গা ও ফুলহর নদীর ভাঙন সমস্যার স্থায়ী সমাধান নিয়ে কেন্দ্রীয় সেচমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেছি। নিজস্ব চিত্র