নিজস্ব প্রতিনিধি, শিলিগুড়ি: কিলবিল করছে বিষধর সাপ। জঙ্গল নাড়া দিতেই ফনা তুলছে কেউটে। তাই কাঞ্চনজঙ্ঘা এক্সপ্রেস ট্রেন দুর্ঘটনাস্থল নির্মলজোতে শুক্রবার কার্বলিক অ্যাসিড ছড়িয়ে তদন্ত করল রেল পুলিস। শুধু তাই নয়, সাপের উপদ্রবে জেরবার রেলকর্মীরাও। তাঁরা সেখানে কোনওরকমে লাইন মেরামতের কাজ করছেন। সকলেরই বক্তব্য, সাপের উপদ্রব থাকলেও ঘটনার তদন্ত ও ট্র্যাক মেরামতির কাজ করতে হচ্ছে। এতে হাতে লোহার রড রাখতে হচ্ছে। প্রয়োজনে পায়ে পরতে হচ্ছে জুতো ও গামবুট।
ফাঁসিদেওয়া ব্লকের কৃষিপ্রধান গ্রামগুলির মধ্যে নির্মলজোত একটি। এই গ্রামের উপর দিয়ে গিয়েছে রেলের আপ ও ডাউন লাইন। এর দু’পাশে চা বাগান। এছাড়া রয়েছে সব্জি খেত ও জঙ্গল। কাঞ্চনজঙ্ঘা এক্সপ্রেস ট্রেন দুর্ঘটনার পর থেকে তদন্তের জন্য সংশ্লিষ্ট গ্রামে ঘন ঘন যাচ্ছে রেল পুলিস। এদিনও তাদের একটি টিম সেখানে গিয়ে রেললাইনের ধার থেকে তথ্য সংগ্রহ করে। এই অভিযানে নামার আগে সেখানে ছড়ানো হয় কার্বলিক অ্যাসিড।
জিআরপির অফিসাররা বলেন, যেদিন ট্রেন দুর্ঘটনা ঘটেছে, সেদিন থেকেই ওই গ্রামে যাচ্ছি। ঘটনার তদন্তের প্রয়োজনে রেললাইনের দু’পাড়েই যেতে হচ্ছে। লাইনের দু’পাশেই জঙ্গল। যেখানে পা পড়ছে সেখানে কিলবিল করছে সাপ। কোনওটি পায়ের আওয়াজে ফোঁস করে এক প্রান্ত থেকে আর এক প্রান্তে ছুটছে। আবার কোনওটি ফোঁস ফোঁস করে ফনা তুলছে। সাপের তালিকায় নির্বিষ ধোরা, দাঁড়াস যেমন রয়েছে তেমনই বিষধর কেউটে, শঙ্খীনি, গোখরো প্রভৃতি সাপ রয়েছে। এতে প্রথম দিকে তদন্তের কাজ কিছুটা ব্যাহত হয়। পরবর্তীতে যতবারই তদন্তের প্রয়োজনে ওই এলাকায় গিয়েছি, ততবার ছড়িয়ে নেওয়া হয়েছে কার্বলিক অ্যাসিড। এদিনও তা ছড়াতে হয়। এখন পর্যন্ত সেখানে ছড়ানো হয়েছে প্রায় পাঁচ লিটার কার্বলিক অ্যাসিড। শুধু তাই নয়, ঘটনাস্থলে গেলেই জুতো ও গামবুট পরতে হচ্ছে। হাতে নিতে হচ্ছে লোহার রড।সোমবার নির্মলজোতে কাঞ্চনজঙ্ঘা এক্সপ্রেসের পিছনে ধাক্কা মারে মালগাড়ি। ওইদিন থেকে টানা সেখানে ট্র্যাক, সিগন্যাল মেরামতের কাজ করছেন রেলকর্মীরা। সেখানে আরপিএফ জওয়ানরা মোতায়েন রয়েছেন। রেলকর্মীরাও বলেন, মাঝেমধ্যেই এখানে বিষধর চোখে পড়ছে। তাই হাতে লোহার রড নিয়ে কাজ করতে হচ্ছে। তবে এতে কাজে কোনও সমস্যা হচ্ছে না।