• গজলডোবায় তিস্তার ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধ রাতারাতি সংস্কার শুরু সেচদপ্তরের
    বর্তমান | ২২ জুন ২০২৪
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, জলপাইগুড়ি ও সংবাদদাতা, রাজগঞ্জ: গত বছর সিকিমের হ্রদ বিপর্যয়ের পর তিস্তার উঁচু হওয়া নদীবক্ষে জলধারণ ক্ষমতা নিয়ে আশঙ্কা ছিলই। বর্ষার শুরুতেই যেন সত্যি হচ্ছে সেই আশঙ্কা। চলতি মাসে বিগত কয়েক দিন পাহাড় ও সমতলের লাগাতার বৃষ্টির পর তিস্তার গতিপথে অন্তত বেশ কয়েক জায়গার বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এদিকে ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধের অংশ সংস্কার করতে জোরকদমে কাজ শুরু করেছে সেচদপ্তর। বৃহস্পতিবার রাতে গজলডোবায় বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। রাতেই সংস্কার কাজে নামে সেচদপ্তর। ৪ অক্টোবর সিকিম বিপর্যয়ের পর তিস্তার নদীবক্ষ এক থেকে দেড় মিটার করে উঁচু হয়ে গিয়েছে। এজন্য এবার বর্ষার আগেই নদীবক্ষ নিয়ে একরাশ উদ্বেগ প্রকাশ করে সেচদপ্তর। তাদের যুক্তি ছিল, তিস্তার গজলডোবা থেকে বাংলাদেশগামী গতিপথের বিস্তীর্ণ অংশে নদীর খাত পরিবর্তন হয়েছে। সেচদপ্তর সূত্রে খবর, রাজগঞ্জের মান্তাদারি পঞ্চায়েতের গজলডোবা সংলগ্ন ১৮ নম্বর মিলনপল্লি এলাকায় তিস্তা নদীর বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আবার বাকালিতে তিস্তার সাতটি স্পার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে চ্যাংমারিতেও। সেচদপ্তরের উত্তর-পূর্ব বিভাগের চিফ ইঞ্জিনিয়ার কৃষ্ণেন্দু ভৌমিক বলেন, মিলনপল্লি, বাকালি, চ্যাংমারির কয়েকটি জায়গায় তিস্তার বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ওই জায়গাগুলিতে পুনরায় ক্ষতি আটকাতে দপ্তর বাঁধ সংস্কারের কাজ শুরু করেছে। দপ্তরের কর্মীরা লাগাতার বাঁধ এলাকায় নজরদারি রেখে চলেছেন। 


    রাজগঞ্জের মিলনপল্লির বাঁধের সমস্যা নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, বৃহস্পতিবার রাতে বাঁধের ক্ষতিগ্রস্ত অংশ সকলের চোখে পড়ে। তাতেই দুশ্চিন্তায় পড়ে যাই আমরা। ভয়ে গোটা গ্রামের মানুষ বাঁধের উপরে রাত কাটান। খবর পাঠানো হয় সেচদপ্তরে। তড়িঘড়ি দপ্তরের আধিকারিকরা ঘটনাস্থলে চলে আসেন। রাতেই যুদ্ধকালীন তৎপরতায় শুরু করে বাঁধ মেরামতির কাজ। ওই এলাকার বাসিন্দা উত্তম রায়, রবীন মণ্ডল, জয়দীপ মৈত্র বলেন, এই বাঁধ সম্পূর্ণভাবে ভেঙে গেলে বিপদ বাড়ত মিলনপল্লি, বারোপটিয়া, বোদাগঞ্জ সহ আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকায়। সকলেরই বক্তব্য, বাঁধটি অনেকদিন আগে বানানো হয়েছে। সংস্কারের প্রয়োজন ছিল। তারমধ্যে নদীর স্রোত বেড়ে যাওয়ায় বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। 
  • Link to this news (বর্তমান)