বাড়ছে ধরপাকড়, পাচার নিয়ে গুজব ছড়ানোর অভিযোগে গ্রেপ্তার আরও ২
বর্তমান | ২২ জুন ২০২৪
নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: ‘ছেলেধরা’ নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় গুজব ছড়ানো বন্ধ করতে তারা যে এবার কড়া হবে, আগেই জানিয়েছিলেন বারাসতের পুলিসকর্তারা। সেই মতো পুলিস বৃহস্পতিবার রাতে আরও দু’জনকে গ্রেপ্তার করল গুজব ছড়ানোর অভিযোগে। পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃতদের নাম আব্দুল করিম ও শেখ রাজেশ। করিমের বাড়ি মধ্যমগ্রামে, রাজেশের বাড়ি বারাসতে। এই দু’জনকে নিয়ে গুজব ছড়ানো ও পুলিসের উপর হামলার অভিযোগে মোট ধৃতের সংখ্যা দাঁড়াল ২১। আগামী দিনে এই সংখ্যা আরও বাড়লেও আশ্চর্য হওয়ার কিছু নেই বলে দাবি তদন্তকারীদের।
বারাসতের কাজিপাড়ায় এক কিশোরের অস্বাভাবিক মৃত্যুর পর থেকে অঙ্গ পাচার ও ছেলেধরা নিয়ে গুজব ছড়াতে শুরু করে। পুলিস বিভিন্ন এলাকায় মাইকিং করে গুজব নিয়ে সতর্ক থাকার প্রচার করে? তারপরেও বুধবার বারাসতের দু’টি জায়গায় স্রেফ সন্দেহের বশে এক মহিলা সহ তিনজনকে ব্যাপক মারধর করা হয়। আক্রান্ত হয় পুলিসও। সব মিলিয়ে গুজব আরও জোরালো আকার নেয়। পুলিস সাফ জানিয়ে দেয়, উস্কানিমূলক পোস্ট বা সোশ্যাল মিডিয়াকে ব্যবহার করে এলাকায় আতঙ্ক ও উদ্বেগের পরিবেশ তৈরি করতে চাইলে উপযুক্ত পদক্ষেপ করা হবে। তারপর থেকেই শুরু হয় ধরপাকড় ও গ্রেপ্তার। সোশ্যাল মিডিয়ায় ভুয়ো পোস্ট করার জন্য মধ্যমগ্রামের আব্দুল করিমকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিস। আর বুধবার পুলিসের উপর আক্রমণ ও গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনায় জড়িত অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে শেখ রাজেশকে। উল্লেখ্য, সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট নিয়ে কড়া পদক্ষেপের কথা ঘোষণা করেছে লালবাজারও। এই প্রেক্ষিতে বারাসতেও পুলিসমহলে তৎপরতা নজরে আসছে। বারাসত পুলিস জেলার অতিরিক্ত পুলিস সুপার স্পর্শ নীলাঙ্গী বলেন, ‘আমাদের এই অভিযান ধারাবাহিকভাবে চলতে থাকবে। কেউ যদি ভেবে থাকে, এসব করেও পার পাওয়া যাবে, সেটা ভুল। বৃহস্পতিবার রাতেও আমরা দু’জনকে গ্রেপ্তার করেছি। মানুষকে সচেতন করতে বিভিন্ন এলাকায় একাধিক কর্মসূচি গ্রহণ করা হচ্ছে।’