• ‘সংযুক্ত এলাকায়’ বিএলআরও ট্যাক্সের সমস্যা কবে মিটবে, প্রশ্ন কাউন্সিলারদের
    বর্তমান | ২২ জুন ২০২৪
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: জনপ্রতিনিধি ও আমলাদের টানাপোড়েনে সমস্যায় পড়ছে সাধারণ মানুষ। কলকাতা পুরসভা এলাকায় বিএলআরও ট্যাক্স (খাজনা) প্রসঙ্গে শুক্রবার এমনই আক্ষেপ শোনা গেল মেয়র ফিরহাদ হাকিমের গলায়। কীরকম সমস্যা? কলকাতা পুরসভার সংযুক্ত এলাকায় (১০১থেকে ১৪৪ নম্বর ওয়ার্ড) বিএলআরও ট্যাক্স ও পুরকর, দুটোই দিতে হচ্ছে বাসিন্দাদের। এদিন কলকাতা পুরসভার মাসিক অধিবেশনে এই সমস্যা মেটানোর প্রস্তাব দেন বেহালা অঞ্চলের ১২১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার রূপক গঙ্গোপাধ্যায়। তিনি বলেন, ‘এনিয়ে তিন বার বলছি। ভোটের সময় প্রচারে গিয়েও দেখেছি, অনেক বাসিন্দা এনিয়ে সরব।’ কবে এই সমস্যার সুরাহা হবে, মেয়রের কাছে তা জানতে চান ওই কাউন্সিলার। পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, একাধিকবার মেয়রের তরফে নবান্নের শীর্ষ মহলে সমস্যার কথা জানানো হলেও কোনও সুরাহা হয়নি। ফিরহাদ হাকিম বলেন, ‘আমি গিয়ে সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলে একরকম বোঝাচ্ছি। বিভাগীয় অফিসার, সচিব আবার অন্য কথা বোঝাচ্ছেন। আমরা মানুষের কথা বলছি। ওঁরা আইনের কথা বলছেন। আইনের কথা অবশ্যই মানতে হবে। কিন্তু মানুষের সুবিধার জন্য আইন বদলেরও প্রয়োজন। শুধু কলকাতা নয়, রাজ্যের সব পুরসভা এলাকাতেই একই সমস্যা। আমি চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। কিছু জটিলতা আছে। কিন্তু এটা আমরা করবই।’ মুখ্যমন্ত্রী এ বিষয়ে সবটা জানেন বলেই দাবি মেয়রের।


    এদিকে, কসবা থেকে পাটুলি, নির্বাচন পরবর্তী সময়ে শহরের বেশ কয়েকটি অঞ্চলে তৃণমূলের কাউন্সিলারদের কোন্দল প্রকাশ্যে এসেছে। এমনকী, দলীয় কাউন্সিলারের আক্রান্ত হওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। তার পরিপ্রেক্ষিতে এদিন ফিরহাদ হাকিমের বার্তা, ‘কাউন্সিলারদের মধ্যে দ্বন্দ্ব অনভিপ্রেত। ওয়ার্ড কারও ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়। নিজেদের মধ্যে ইগো ছাড়তে হবে। এসবের জন্য সাধারণ মানুষের কাছে দলের ভাবমূর্তি খারাপ হচ্ছে।’ প্রসঙ্গত, ভোট পরবর্তী সময়ে কসবায় তৃণমূলের গোষ্ঠী কোন্দল বড় আকার নেয়। সম্প্রতি পাটুলিতে কাউন্সিলার ও বরো চেয়ারম্যানের মধ্যে কোন্দল সামনে এসেছে। প্রকাশ্যে তৃণমূলের দুই কউন্সিলার একে অপরের বিরুদ্ধে বিষোদ্গার করছেন। এই পরিস্থিতিতে মেয়র এদিন আলোচনার মাধ্যমে বিবাদ মেটানোর নির্দেশ দেন। সম্প্রতি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও কাউন্সিলারদের নিজেদের মধ্যে বিবাদ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন। এমনকী, পুলিসকে এক্ষেত্রে কড়া হতে বলেন তিনি। সেই সুর বজায় রেখে ফিরহাদ বলেন, ‘মানুষের চাহিদা অনুযায়ী কাজ করতে হবে। ওয়ার্ড কারও দখলদারির জায়গা নয়। মানুষ ভোট দিয়েছে বলেই কাউন্সিলার হয়েছেন। আমি তাঁদের ডেকেছিলাম। এসব মিটে যাবে। অরূপ বিশ্বাসও ওঁদের সঙ্গে বসবেন।’
  • Link to this news (বর্তমান)