স্ত্রীর সঙ্গে ঝগড়া করে ছেলেকে নিয়ে ট্রেনের সামনে ঝাঁপ যুবকের
বর্তমান | ২৩ জুন ২০২৪
সংবাদদাতা, কাটোয়া: স্ত্রীর সঙ্গে ঝগড়া করে মুর্শিদাবাদ থেকে কাটোয়ায় এসে চলন্ত ট্রেনের সামনে ছ’বছরের ছেলেকে নিয়ে ঝাঁপ দিলেন এক যুবক। শুক্রবার সন্ধ্যায় কাটোয়া-আজিমগঞ্জ শাখার বাঁদরা গ্রামের কাছে মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে। জিআরপি মৃতদেহ দু’টি উদ্ধার করে কাটোয়া মহকুমা হাসপাতালে পাঠায়। শনিবার সেখানেই দেহ দু’টির ময়নাতদন্ত করা হয়। পুলিস জানিয়েছে, মৃতদের নাম শুভঙ্কর মণ্ডল (৩৬) এবং ওঙ্কার মণ্ডল (৬)। তাঁদের বাড়ি মুর্শিদাবাদ জেলার লালগোলার রামরাজাপুর গ্রামে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, রামরাজাপুর গ্রামের বাসিন্দা শুভঙ্কর মণ্ডল পেশায় এসি, ফ্রিজ সারানোর মিস্ত্রি। আট বছর আগে বহরমপুরের খিদিরপুর এলাকার মধুমিতার সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়। তাঁদের একমাত্র ছেলে ওঙ্কার। বাড়িতে শুভঙ্করবাবু স্ত্রী, পুত্র ও বৃদ্ধা মা শোভারানিদেবীকে নিয়ে থাকতেন। ছেলে শিশু শ্রেণিতে পড়ত। পারিবারিক সূত্রে জানা গিয়েছে, শুভঙ্করবাবুর সঙ্গে তাঁর স্ত্রীর মাঝেমধ্যেই ঝগড়া অশান্তি হতো। অভিমান করে শুভঙ্করবাবু স্ত্রীকে কিছু না জানিয়ে চলে যেতেন। আবার ফিরেও আসতেন। এদিন স্ত্রীর সঙ্গে শুভঙ্করবাবুর ঝগড়া হয়। তারপর তিনি ছেলেকে নিয়ে এসি মেশিন সারাতে যাচ্ছি বলে সকালে বাড়ি থেকে বেরিয়ে পড়েন। ট্রেন ধরে কাটোয়া স্টেশনে নামেন। এরপরই তিনি ছেলের হাত ধরে কাটোয়া-আজিমগঞ্জ লাইন ধরে হাঁটতে থাকেন। ছেলেকে নিয়েই বাঁদরা গ্রামের কাছে চলন্ত ট্রেনের সামনে ঝাঁপ দেন। সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয় বাসিন্দারা কাটোয়া জিআরপিকে খবর দেন। পরে জিআরপি এসে মৃতদেহ দু’টি উদ্ধার করে। শনিবার শুভঙ্করের মামা দিব্যেন্দু দাস বলেন, স্ত্রীর সঙ্গে ঝগড়া করে ও বাড়ি থেকে চলে এসেছিল। কী নিয়ে ঝগড়া হল কিছুই জানি না। ছেলেটা খুব চাপা স্বভাবের ছিল। ছোট ছেলেটাকে নিয়ে এভাবে দুর্ঘটনা ঘটাবে স্বপ্নেও ভাবতে পারিনি। বাড়িতে শুভঙ্করের মা ও স্ত্রী দু’জনেই পাগলের মতো হয়ে গিয়েছে। ওর দাদা কলকাতা পুলিসে চাকরি করে। বাবাও চাকরি করতেন। কী যে হল কিছুই বুঝতে পারছি না। শুভঙ্করের এক প্রতিবেশী সুদীপ সরকার বলেন, মর্মান্তিক এই ঘটনায় পাড়ায় সকলেই শোকস্তব্ধ।