গেটম্যানকে ‘শিক্ষা’ দিতে পিস্তল নিয়ে স্কুলে হাজির দশমের ২ ছাত্র
বর্তমান | ২৩ জুন ২০২৪
নিজস্ব প্রতিনিধি, বহরমপুর: সাইকেলের সিট খুলে নিয়ে যাওয়ার সময় দেখে ফেলেছিলেন স্কুলের গেটম্যান। তিনি বকাঝকা করেছিলেন। তাই তাঁকে ‘শায়েস্তা’ করতে সোজা পিস্তল নিয়ে স্কুলে হাজির হয় দশম শ্রেণির এক ছাত্র। সহপাঠীকে সঙ্গে নিয়ে সে পিস্তল হাতে ঘোরাঘুরি করতে থাকে। শনিবার মুর্শিদাবাদের রেজিনগরের আন্দুলবেড়িয়া হাইস্কুলের ওই ঘটনায় আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়। এক ছাত্র শিক্ষককে ঘটনাটি জানায়। ততক্ষণে তারা পিস্তলটি লুকিয়ে ফেলেছিল। পরে শিক্ষকরা তল্লাশি চালিয়ে দুই ছাত্রের কাছ থেকে পিস্তলটি উদ্ধার করেন। তাঁরা থানায় খবর দেন। পুলিস এসে দুই ছাত্রকে থানায় নিয়ে যায়।
স্থানীয় ও স্কুল সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযুক্ত ছাত্রের বাড়ি আন্দুলবেড়িয়ার উত্তরপাড়া এলাকায়। শুক্রবার সে স্কুল থেকে অন্য এক ছাত্রের সাইকেলের সিট খুলে নিয়ে বাড়ি যাচ্ছিল। যে কারণে স্কুলের প্রহরী তাকে একটু বকাঝকা করেছিলেন। তাই তাঁকে ভয় দেখাতে সে শনিবার স্কুলে পিস্তল নিয়ে হাজির হয়। তবে দশম শ্রেণির ওই নাবালক কীভাবে আগ্নেয়াস্ত্র পেল, তার তদন্ত শুরু করেছে পুলিস।
পুলিস জানিয়েছে, আমরা জুভেনাইল জাস্টিস বোর্ডের কাছে দু’জনকে পেশ করব। কোথা থেকে তারা পিস্তলটি পেয়েছে, সে ব্যাপারে খোঁজ খবর নেওয়া হচ্ছে। তাদের পরিবারের সঙ্গেও আমরা কথা বলছি।
স্কুলে পিস্তল নিয়ে আসার খবর শুনেই অভিভাবকরা এদিন স্কুল প্রাঙ্গণে ভিড় করেন। এই ঘটনায় তাঁরা আতঙ্কিত। আতঙ্কে আছেন ওই স্কুলের গেটম্যানও। গেটম্যান জাহাঙ্গীর মোল্লা বলেন, স্কুল গেটের পাশে আমার যে ঘর আছে, সেখানে একটা সাইকেল লাগানো ছিল। সেই সাইকেলের সিট কয়েকজন ছাত্র খুলে নিয়ে চলে আসে। আমি সঙ্গে সঙ্গে ওদের জিজ্ঞাসা করি। তখন ওরা বলে সাইকেলটা তাদের বন্ধুর, তাই তারা করেছে। আমি ওদের ধমক দিয়ে বলি, স্কুলের মধ্যে বন্ধু হোক বা ভাই, কারও সঙ্গে এই কাজ করা উচিত নয়। তোরা যদি অবাধ্য হোস তাহলে স্কুলের প্রেসিডেন্টকে ডাকব। তোদের বের করে দেবে। তারপর এদিন ওদের একজন পিস্তল নিয়ে আসে।
স্কুলের প্রধান শিক্ষক জাহাঙ্গীর আলম বলেন, এদিন এক ছাত্র বাথরুম থেকে ছুটতে ছুটতে এসে আমাদের জানায় উঁচু ক্লাসের দুই ছাত্র বন্দুক এনেছে। আমরা খবর পেয়েই কয়েকজন শিক্ষক মিলে বিভিন্ন ক্লাসে খোঁজখবর শুরু করি। শেষে দশম শ্রেণির ক্লাসরুম থেকে পিস্তলটি উদ্ধার হয়। ওদের হাত থেকে এক শিক্ষক পিস্তলটি কেড়ে নেয়। দুই পড়ুয়াকে টিচার রুমে নিয়ে আসি। স্কুলের ম্যানেজমেন্টকে খবর দেওয়া হয়। তারপর সকলে মিলে সিদ্ধান্ত নিয়ে ওই দুই পড়ুয়াকে পুলিসের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।
বিদ্যালয়ের অন্যান্য পড়ুয়াদের অভিভাবকরা বলেন, ঘটনার পর থেকে আতঙ্কে আছি। পড়ুয়ারা যদি পিস্তল নিয়ে এভাবে ক্লাসরুমে আস্ফালন দেখায়, তাহলে যে কোনওদিন বড় কোনও বিপদ ঘটে যাবে। ওই দুই পড়ুয়ার বিরুদ্ধে উপযুক্ত ব্যবস্থা নিক বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। না হলে অন্যান্য পড়ুয়াদের সুরক্ষা থাকবে না।