রামকুমার আচার্য, বাঁকুড়া: তীব্র গরম। এখনও বৃষ্টিও সেভাবে হয়নি। বাঁকুড়ায় এবছর প্রায় ৫০ শতাংশ বৃষ্টির ঘাটতি রয়েছে। ফলে বীজতলা তৈরি করতে সমস্যায় পড়ছেন চাষিরা। তাই আমন চাষ কীভাবে হবে, তা নিয়ে চিন্তিত চাষিরা। এবছর ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ নিয়ে উদ্বিগ্ন কৃষিদপ্তরও।
রাইপুরের কৃষি আধিকারিক তথাগত নাথ বলেন, বৃষ্টির ঘাটতি রয়েছে। পরিস্থিতির কথা ভেবে শুকনো মাটিতেই বীজতলা তৈরির জন্য চাষিদের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। আপাতত ৫০ শতাংশ বীজতলা তৈরি হয়েছে। তাছাড়া উঁচু জমিতে বাদাম, ভুট্টা, অরহর চাষের জন্য বলা হয়েছে। কৃষিদপ্তর চাষিদের অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের দিকে নজর দিচ্ছে।
কৃষিদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, চলতি বছরে জেলায় ৫০ শতাংশ বৃষ্টির ঘাটতি রয়েছে। জানুয়ারি মাসে স্বাভাবিক বৃষ্টি হওয়ার কথা ছিল ৯.২মিলিমিটার। বৃষ্টি হয়েছে ৮.৫মিলিমিটার। ফেব্রুয়ারিতে ১৬.২ মিমি স্বাভাবিক বৃষ্টিপাতের কথা থাকলেও ২০.৮মিমি বৃষ্টিপাত হয়। মার্চ মাসে স্বাভাবিক বৃষ্টির পরিমাণ ২৫.২মিমি থাকলেও ১০মিমি বেশি বৃষ্টিপাত হয়। এপ্রিল মাসে দেখা যায় ঘাটতি। ৪৯.১ মিলিমিটার স্বাভাবিক বৃষ্টিপাত হওয়া উচিত ছিল। রাঙামাটির জেলায় ৫.৬মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। মে মাসে ১২৩.১ মিলিমিটার স্বাভাবিক বৃষ্টি হওয়ার কথা, হয়েছে ১২৮.৫ মিলিমিটার। চলতি জুন মাসে বৃষ্টির ঘাটতি অনেকটাই। ২২৬.৮ মিলিমিটার স্বাভাবিক বৃষ্টির কথা থাকলেও এখনও পর্যন্ত জেলায় ৫৭.২ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। এপর্যন্ত প্রায় ৪৪৯.৬ মিলিমিটার বৃষ্টি স্বাভাবিকভাবে হওয়ার কথা। এখনও পর্যন্ত হয়েছে ২৫৬. ১ মিলিমিটার।
জেলায় এখনও তীব্র গরম রয়েছে। দাবদাহের পাশাপাশি আপেক্ষিক আর্দ্রতা থাকায় গরমে হিমশিম খাচ্ছেন জেলাবাসী। এই অবস্থায় চাষ নিয়েও চিন্তা শুরু হয়েছে। কৃষিদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, গত বছর বৃষ্টির ঘাটতির জন্য ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হয়নি। বেশ কিছু জমি অনাবাদি ছিল। এবারও চলতি মাসে এখনও পর্যন্ত ভারী বৃষ্টির দেখা মেলেনি। তাতেই চিন্তায় পড়েছেন চাষিরা। কয়েক দিন আগে বৃষ্টির পর অনেকেই বীজতলা তৈরি করেছিলেন। অনেকে আবার শুকনো মাটিতেই চারা তৈরি করছেন। কোথাও কোথাও আবার এখনও তা হয়নি। বাঁকুড়ার চাষি আশিস সিংহ বলেন, একদিন আগে শুকনো মাটিতে বীজ ছড়িয়েছি। অন্যান্য চাষিরাও তা করেছেন। তবে বৃষ্টির দরকার আছে। গঙ্গাজলঘাটির শিবসাধন চক্রবর্তী বলেন, এখনও বীজতলা তৈরির কাজ শুরুই করা যায়নি। কখন বৃষ্টি হবে সেই অপেক্ষায় রয়েছি। এবার ধান চাষের সময় কিছুটা পিছিয়ে যাবে বলে মনে হচ্ছে। জয়পুরের চাষি রাধেশ্যাম পাল বলেন, আমাদের এলাকায় বেশিরভাগ চাষি বীজতলা করেছেন। কিন্তু, বৃষ্টি না হলে সমস্যা হবে। খাতড়ার সুনীল মাহালি বলেন, অন্যান্য বছর এই সময়ে বীজতলা হয়ে যায়। কিন্তু, এবার এখনও তা প্রস্তুত করা যায়নি।