সিসি ক্যামেরায় জুতো দেখে ভিনরাজ্যের চোর ধরল পুলিস
বর্তমান | ২৩ জুন ২০২৪
সংবাদদাতা, মালদহ: উদ্দেশ্য ছিল সোনার দোকানে হানা দেওয়া। কিন্তু পুলিসের নজরদারিতে তা সম্ভব না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত সরকারি অফিসে ঢুকে চুরি। মালদহের জেলা সাব রেজিস্ট্রারের দপ্তরে চুরি কাণ্ডের কিনারা করার পরে এমনই চাঞ্চল্যকর তথ্য হাতে এসেছে জেলা পুলিসের। এই অপরাধের পিছনে রয়েছে বিহারের কাটিহার গ্যাং। ওই গ্যাংয়ের চার সদস্যকে চিহ্নিত করে ফেলেছে মালদহ পুলিস। একজনকে গ্রেপ্তারও করা হয়েছে।
এবছরের মার্চ মাসে ইংলিশবাজার শহরের জেলা সাব রেজিস্ট্রারের দপ্তরে হানা দেয় দুষ্কৃতীদের একটি দল। দরজা ভেঙে ওই সরকারি দপ্তরে ঢোকার পরে আলমারি থেকে ওই দলটি চুরি করে নগদ প্রায় ৪৮ হাজার। শহরের বুকে সরকারি দপ্তরে এমন অপরাধের ঘটনায় চাঞ্চল্য তৈরি হয়। তদন্তের ভার দেওয়া হয় ইংলিশবাজার থানার পুলিস আধিকারিক গৌতম চৌধুরীকে।
তদন্তে নেমে শহরে বিভিন্ন স্থানে বসানো সিসি ক্যামেরার ফুটেজ পরীক্ষা করতে থাকে পুলিস। ফোয়ারা মোড়ের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ থেকে দেখা যায় অপরাধের পরেই নিজেদের পোশাক বদলে ফেলে দুষ্কৃতীরা। কিন্তু বদলায়নি তাদের জুতো। এরপর একাধিক সিসি ক্যামেরার ফুটেজ পরীক্ষা করে একই জুতো পরিহিত ব্যক্তিদের সন্ধান পায় পুলিস।
এরপরই তদন্তে পুলিস জানতে পারে ওই গ্যাংটি আসলে কাটিহারের। চিহ্নিত করা হয় গ্যাংয়ের সদস্যদের। কাটিহারের হাজিটোলার বাসিন্দা ফুরকান খানকে ইতিমধ্যেই গ্রেপ্তার করেছে পুলিস।
মালদহের পুলিস সুপার প্রদীপকুমার যাদব বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গিয়েছে ওই গ্যাংটির লক্ষ্য ছিল বিনয় সরকার রোডের সোনার দোকান। কিন্তু ওই এলাকায় পুলিসের কড়া নজরদারি ও কঠোর নিরাপত্তা দেখে পরিকল্পনায় বদল আনে দুষ্কৃতীরা। এরপরই তারা হানা দেয় সরকারি অফিসে। ধৃত যুবককে জিজ্ঞাসাবাদ করে রাজি খান, মহম্মদ রাজা এবং জিহারুল শেখের নাম পাওয়া গিয়েছে। তারাও সকলেই কাটিহারের বাসিন্দা।
পুলিস জানিয়েছে, ওই গ্যাংয়ের বাকি সদস্যদের গ্রেপ্তার করার প্রক্রিয়া চলছে। ধৃত ফুরকানকে শনিবার আদালতে পেশ করে পুলিস। আদালতের মাধ্যমে তাকে হেফাজতে নেওয়া হবে বলেও জানিয়েছেন পুলিস আধিকারিকরা।