নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: যা এতদিন পড়েছে বইয়ের পাতায়, সেগুলিই এবার হাতেকলমে শিখছে পড়ুয়ারা। তা করতে গিয়ে বেজায় আনন্দ ও মজা পাচ্ছে তারা। বিড়লা ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যান্ড টেকনোলজিক্যাল মিউজিয়ামে (বিআইটিএম) আয়োজন করা হয়েছে ‘মজার সঙ্গে পদার্থবিদ্যা, কুলম্ব থেকে ম্যাক্সওয়েল’ নামাঙ্কিত কর্মশালা। সেখানেই মজা করে শিখছে ছাত্রছাত্রীরা। হাতে রয়েছে তামার তার। সেই তার গোল করে মাঝখানে চুম্বক রাখলেই তৈরি হয়ে যাচ্ছে বিদ্যুত্। হাতেকলমে এই কাজ করে পড়ুয়ারা অবাক। শিক্ষক বলছেন, ‘আজই বাড়িতে গিয়ে বলে দেবে, ইলেকট্রিকের আর দরকার নেই। চুম্বক দিয়েই হবে বিদ্যুত্। ইলেকট্রিক বিলের টাকা তোমাদের পকেট মানি হয়ে যাবে।’
শনিবার বিকেলে বিআইটিএমের ইনোভেশন ল্যাবে দেখা গিয়েছে, পড়ুয়াদের মধ্যে উত্সাহের শেষ নেই। দেখানো হল, ফেরাডের সূত্র ও অ্যাম্পিয়ারস সূত্রের হাতেকলমে প্রয়োগ। মোটা কাগজের একটি রোল নেওয়া হল। তার চারপাশে মোড়া হল তামার তার। সেই দু’টি তামার তার গ্যালভেনো মিটারে যুক্ত করে একটি চুম্বকের দণ্ড নিয়ে সেই গোল তামার তারের চাকতির ভিতরে রাখতেই মিটারে দেখাচ্ছে বিদ্যুত্ উত্পন্ন হচ্ছে। ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে দশম শ্রেণির পড়ুয়াদের নিয়ে এই কর্মশালার আয়োজন করা হয়েছিল। দু’দিন ব্যাপী কর্মশালায় সকাল ও দুপুরে দু’টি সেশনে অনুষ্ঠিত হচ্ছে কর্মশালা। দু’দিনে আটটি পরীক্ষা করে দেখানো হচ্ছে। দু’টি ডেমনস্ট্রেশন হবে। বিআইটিএমের কিউরেটর রাকেশ মজুমদার বলেন, ‘গ্যালভেনো মিটার অনেক পুরনো দিনের যন্ত্র। এখানে মাইক্রো অ্যাম্পিয়ার সূচক ফুটে ওঠে। মজার মাধ্যমে পদার্থবিদ্যা আমরা বোঝানোর চেষ্টা করছি। ওদের বলছি, যেমন অ্যাম্পিয়ারের নামে সূচক রয়েছে। তেমনই তোমরা ভালো কাজ করলে হয়ত, তোমাদের নামে সূচক তৈরি হবে। ইলেকট্রিসিটি, ইলেক্ট্রো ম্যাগনেটিক ক্ষেত্র নিয়ে দেখানো হচ্ছে।’ বিআইটিএমের মেন্টরদেরও এখন দম ফেলার সময় নেই। রবি অধিকারি, সায়ক মুখোপাধ্যায়রা পড়ুয়াদের প্রশ্ন মেটাতে ব্যস্ত।
ক্লাস শেষ হয়ে গিয়েছে। কিন্তু ষষ্ঠ শ্রেণির অত্রি নন্দী টেবিলে সেই চুম্বক হাতেই বসে আছে। চুম্বকের দণ্ড তামার তারের বলয়ের মধ্যে দিলেই মিটারের কাটা উঠছে। সেটাই সে দেখছে অবাক হয়ে। বলল, ‘বাড়িতে গিয়ে বলব, খুব ভালো লাগল, মজাও লাগল এখানে এসে।’