• হাওড়া স্টেশনের বাসস্ট্যান্ডে প্রকাণ্ড বটগাছ কেটে সাফ, জানে না কেউই
    বর্তমান | ২৩ জুন ২০২৪
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: তপ্ত দুপুরে গলদঘর্ম পথচারী বটগাছের ছায়া খোঁজে। ইট-কাঠ-কংক্রিটের জঙ্গলে ঘেরা সদাব্যস্ত হাওড়া বাসস্ট্যান্ডে ছিল সেরকমই একট বটগাছ। সম্প্রতি কেটে সাফ করে দেওয়া হয়েছে সেই বটগাছ! গরম বাড়লেই গাছ লাগানো নিয়ে সোচ্চার হয়ে ওঠে যে সমাজ, তাদের তরফে এনিয়ে এখনও কোনও উচ্চবাচ্য দেখা যায়নি। প্রতিবাদ তো দূরঅস্ত, প্রকাণ্ড গাছটি কারা কাটল, কেনই বা কাটল— জানেন না কেউ। দায় এড়াতে ব্যস্ত প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট দায়িত্বপ্রাপ্তরা। শনিবার সকালে হাওড়া স্টেশন সংলগ্ন এই বাসস্ট্যান্ডে এসে অনেকেই অবাক, গাছটা গেল কোথায়! বাসস্ট্যান্ডে যাত্রীদের জন্য পর্যাপ্ত শেডের অভাব থাকলেও এতদিন বটগাছ সেই অভাব কিছুটা হলেও পূরণ করছিল। সেটুকুও হারিয়ে যাওয়ায় হা-হুতাশ শোনা গেল যাত্রীদের মধ্যে। প্রসঙ্গত, স্টেশনের সামনে যেখান থেকে এসি ১, ভিএস ২, ই ১-এর মতো সরকারি বাসগুলি ছাড়ে, সেখানে ছিল গাছটি। 


    এতবড় গাছ তো চুপিচুপি কেটে ফেলা সম্ভব নয়। তাহলে কে বা কারা করল এই কাজ? জবাব মেলেনি প্রশাসনের কারও কাছ থেকে। হাওড়া বাসস্ট্যান্ড চত্বর মূলত কেএমডিএর তত্ত্বাবধানে রয়েছে। স্টেশনের সাবওয়ে দেখভাল সহ ওই চত্বরের পরিকাঠামো সংক্রান্ত বিষয়গুলি দেখভাল করে তারা। এলাকার আবর্জনা সাফাইয়ের ক্ষেত্রে প্রয়োজন হলে সাহায্য করে হাওড়া পুরসভা। আর আইনশৃঙ্খলা ও ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট রয়েছে হাওড়া পুলিসের হাতে। সব পক্ষই ‘গাছ কাটার বিষয়টি জানা নেই’ বলে হাত গুটিয়ে নিয়েছে। কেএমডিএর এক কর্তা বলেন, ‘আমরা কোনও গাছ কাটিনি। পুরসভা কেটেছে কি না, বলতে পারব না। আমরা ওই গাছ কাটার অনুমতিও কাউকে দিইনি। আমাদের সেই ক্ষমতাও নেই।’ হাওড়া ট্রাফিক পুলিসের একটি সূত্র বলছে, গাছটির কয়েকটি ডাল রাস্তার দিকে ঝুঁকেছিল। বাস আসা-যাওয়ায় কিছু সমস্যা হচ্ছিল। সেই ডালগুলি ছেঁটে ফেললেই সমস্যা মিটে যেত। কিন্তু পুরো গাছ কে কেটে ফেলল, তা তাদেরও জানা নেই। হাওড়া পুরসভারও একই সুর! এক পুরকর্তা বলেন, ‘ওই জায়গা তো কেএমডিএ দেখভাল করে। পুরসভা সেখানে গাছ কাটতে যাবে কেন?’ ডিআরএম সঞ্জীব কুমার বলেন, ‘রেলের নিজস্ব এলাকার অনেকটা বাইরে ওই জায়গা। তাই আমাদের তরফে গাছটি কাটার প্রশ্নই ওঠে না।’ 


    প্রশাসনের এই দায় ঠেলাঠেলির মধ্যে প্রশ্ন উঠছে, তাহলে কি স্থানীয় দখলদারদের মধ্যে কেউ ব্যক্তিগত উদ্যোগে প্রাচীন বটগাছটি কেটেছে? নিত্যযাত্রীরা বলছেন, এমনটা কেউ করার সাহস পাবে বলে মনে হয় না। এই অবস্থায় প্রশাসন অন্যের ঘাড়ে দায় ঠেলেই ক্ষান্ত থাকে, নাকি তদন্ত করে বৃক্ষ নিধনকারীদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ করে, সেটাই এখন দেখার। পরিবেশপ্রেমীদের অবশ্য আক্ষেপ, সরকার কবে আর গাছ কাটা নিয়ে কড়া হয়েছে!
  • Link to this news (বর্তমান)