তির-ধনুকে শিকার ৪০০ বিরল প্রজাতির পাখি, গ্রেপ্তার ৩০ জন
বর্তমান | ২৪ জুন ২০২৪
সংবাদদাতা, কাটোয়া: প্রায় চারশো পাখি ও বন্যপ্রাণী শিকার করা হল মাত্র কয়েক ঘণ্টায়। কেতুগ্রামের কোমরপুর ও গোপালপুর দু’টি গ্রামেই এই বিপুল পরিমাণ পাখি এবং বন্যপ্রাণীর নির্বিচারে হত্যালীলা চালানো হয়েছে। এরমধ্যে বহু বিলুপ্ত প্রজাতির বন্যপ্রাণী রয়েছে। কয়েক ঘণ্টার মধ্যে এত পরিমাণ পাখি ও বন্যপ্রাণী শিকার দেখে তাজ্জব হয়ে গিয়েছেন পক্ষীপ্রেমীরাও! রাজ্যে কোথাও এত বিপুল পরিমাণ পাখি শিকার হয়েছে কি না, কেউ স্মরণ করতে পারছেন না। ঘটনায় ৩০ জন শিকারিকে গ্রেপ্তার করেছে বনদপ্তর।
কলকাতার দমদমের শিক্ষক পক্ষীপ্রেমী কৃষ্ণেন্দু দাস বলেন, আমি দেশজুড়ে পাখিদের ছবি তুলি। বহু বিরল প্রজাতির পাখিদের বিচরণ সহ ছবি আমার ক্যামেরার লেন্সবন্দি হয়। শিকারিদের দৃষ্টান্তমূলক সাজা হওয়া উচিত।
জানা গিয়েছে, অম্বুবাচি উপলক্ষ্যে আদিবাসীদের শিকার উৎসব হয়। প্রতিবছর কেতুগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় বীরভূম জেলা থেকে প্রচুর শিকারী আসে। তারা মূলত পাখি সহ অন্যান্য বন্যপ্রাণ শিকার করে নিয়ে যায়। এবার আগে থেকেই তিনদিন ধরে নজর চালাচ্ছিল বন্যপ্রাণ নিয়ে কাজ করা হিউম্যান অ্যান্ড এনভায়রনমেন্ট অ্যালায়েন্স লিগ। এদিন কেতুগ্রামের কোমরপুর ও গোপালপুর গ্রামের আশেপাশেই বীরভূম থেকে তির, ধনুক, গুলতি সহ নানা শিকারের সরঞ্জাম নিয়ে বেশ কয়েকটি দল আসে। তারা মোটর ভ্যান, ট্রাক্টর ও বাইক নিয়ে আসে। সারাদিন ধরে তারা শিকার করে। বিকেলের দিকে বনদপ্তর, হিলের লোকজন ও কেতুগ্রাম থানার পুলিসকে সঙ্গে নিয়ে অভিযান চালায়। তারপরেই সন্ধ্যার দিকে ৩০ জনকে গ্রেপ্তার করে বনদপ্তর। পাশাপাশি প্রচুর গুলতি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।
পূর্ব বর্ধমান জেলা বনদপ্তরের এডিএফও সোমনাথ চৌধুরী বলেন, আমরা ৩০ জনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে হাজির করেছি। মৃত পাখিদের দেহ ময়নাতদন্ত করা হবে।
মৃত বন্যপ্রাণীর তালিকায় রয়েছে ১২ রকমের গোসাপ, বনবিড়াল, কাঠঠোকরা পাখি, বেজি, বক, শালিক, তাবুক সহ নানা প্রজাতির পাখি। এছাড়া হরিয়াল, বুলবুলি, পানকৌড়ি, মাছারাঙা, পায়রা, ঘুঘু, প্রচুর কাঠবেড়ালিও আছে। বনদপ্তরের এক কর্মী জানান, ওদের ধরতে না পারলে হয়তো ট্রাক্টর ভর্তি করে পাখি মারা হতো। ধৃতদের মধ্যে সন্ন্যাসী মাড্ডি, যুগল মুর্মু, রাম মাড্ডি বলে, অম্বুবাচিতে আমরা পূর্বপুরুষের আমল থেকেই শিকারে বের হই। তাই এবারও বেরিয়েছিলাম। বীরভূম জেলার লাঘাটা থেকে ২৫ জন, সন্ন্যাসীডাঙা থেকে দু’জন ও জামবুনি খিতিপুর থেকে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
তবে বনদপ্তরের সচেতনতা প্রচার, নজরদারি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। আগেভাগে ব্যবস্থা নিলে হয়তো শয়ে শয়ে পাখির বেঘোরে প্রাণ যেত না। ফলাও করে প্রতিবছর বনদপ্তর প্রচারে বেরিয়ে আদিবাসী মহল্লাগুলিতে শিকার নিয়ে সচেতন করছে বলে দাবি করে। এতবড় হত্যালীলায় বনদপ্তরের ভূমিকা নিয়েই প্রশ্ন তুলছেন সাধারণ মানুষ। কেতুগ্রাম থানার পুলিসের ভূমিকা নিয়েও ক্ষোভ বাড়ছে গ্রামের বাসিন্দাদের। নির্বিচারে এই পাখি শিকারের ঘটনায় ব্যথিত পক্ষীপ্রেমীরা।