ভোট মিটলেও কলেজে কেন্দ্রীয় বাহিনী, সেমেস্টারের পরীক্ষা নিয়ে চিন্তায় কর্তৃপক্ষ
বর্তমান | ২৪ জুন ২০২৪
নিজস্ব প্রতিনিধি, সিউড়ি: লোকসভা ভোট শেষ হলেও বীরভূম জেলায় এখনও রয়ে গিয়েছে কেন্দ্রীয় বাহিনী। বেশ কিছু কলেজ কেন্দ্রীয় বাহিনী দখল করে রয়েছে। যার ফলে পিছিয়ে যাচ্ছে বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম ও ষষ্ঠ সেমেস্টারের পরীক্ষা। উল্লেখ্য, চলতি সপ্তাহেই হওয়ার কথা ছিল বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের ওই দুটি সেমেস্টারের পরীক্ষা। কিন্তু তা না হওয়ায় ফের ক্ষতিগ্রস্ত হবে পঠনপাঠন। ইতিমধ্যেই অবশ্য কলেজ থেকে কেন্দ্রীয় বাহিনী সরানোর দাবিতে জেলাশাসক থেকে শুরু করে পুলিস, প্রশাসনকে চিঠি করেছে কলেজ কর্তৃপক্ষ। পরীক্ষা খুব বেশি পিছিয়ে গেলে ছাত্রছাত্রীদের বড় ক্ষতি হবে বলে মত অধ্যাপকদের।
বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে খবর, ২৬ জুন থেকে প্রথম সেমিস্টারের পরীক্ষা হওয়ার কথা ছিল। আর ২৮ জুন থেকে পরীক্ষা হতো ষষ্ঠ সেমিস্টারের। যদিও এই নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ কোনও নোটিস দেয়নি। তবুও প্রাথমিক ভাবে এই সময়সূচি অনুযায়ী কলেজগুলি প্রস্তুতি নিতে শুরু করে। কিন্তু দেখা যাচ্ছে বীরভূম জেলার বেশ কয়েকটি কলেজে এখনও কেন্দ্রীয় বাহিনী রয়েছে। যেমন, মল্লারপুর টুরকু হাঁসদা-লেপসা হেমব্রম কলেজ। সেই কারণে গোটা কলেজে পঠনপাঠন বন্ধ। কলেজের ইন্টারনাল প্রায় ৪০০ পড়ুয়ার হোম সেন্টার পরীক্ষা আছে। কী করে সেই পরীক্ষা নেওয়া হবে বোঝা যাচ্ছে না। আবার সামনেই ন্যাক সদস্যদের পরিদর্শন আছে। তার আগে স্বাভাবিকভাবেই কলেজের কাজের চাপ রয়েছে। তবে মূল মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে সেমিস্টারের পরীক্ষা। কলেজ থেকে কেন্দ্রীয় বাহিনী অন্য জায়গায় সরানোর জন্য ১৫ জুন থেকে বারে বারে বিডিও সহ জেলাশাসক, পুলিস সুপারকে চিঠি করছে কলেজ কর্তৃপক্ষ। কিন্তু কোনও উত্তর আসেনি বলে অভিযোগ। কেন্দ্রীয় বাহিনী থাকায় পড়ুয়ারাও আর কলেজে আসছেন না। কার্যত শিকেয় উঠেছে পড়াশোনা। ওই কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ সুমন মুখোপাধ্যায় বলেন, সিউড়ি বিদ্যাসাগর কলেজ সহ অন্যান্য কলেজ থেকে পড়ুয়ারা এই কলেজেই পরীক্ষা দিতে আসেন। এই সপ্তাহেই পরীক্ষা হতো দু’টি সেমিস্টারের। কিন্তু তার জন্য এখনও কোনও নোটিস দেয়নি বিশ্ববিদ্যালয়। আমাদের কলেজে ন্যাকের টিম আসবে। পঠনপাঠন না হলে ন্যাকে ফল খারাপ হবে। সব দপ্তরে চিঠি, মেল করেছি কিন্তু কোনও সদুত্তর আসেনি। সিউড়ি কলেজের অধ্যাপক পার্থশঙ্খ মজুমদার বলেন, এমনিতেই সেমিস্টারের পড়াশোনা কয়েক মাস দেরিতে চলছে। হিসাব মতো প্রথম সেমিস্টারের পরীক্ষা ডিসেম্বর থেকে জানুয়ারির মধ্যেই শেষ হয়ে যাওয়ার কথা। কিন্তু তা পিছিয়ে এখন হচ্ছে জুনের শেষ সপ্তাহে। কিন্তু তাও হবে বলে মনে হচ্ছে না। পরীক্ষা যত পিছিয়ে যাবে তত পড়ুয়াদের সমস্যা হবে। পরবর্তী সেমিস্টারগুলির সময় কমে যাবে। কিংবা কলেজ শেষ করে পরবর্তীতে উচ্চতর পঠনপাঠনে ভর্তিতেও অসুবিধা হবে। প্রশাসন ও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ উভয়েরই এই বিষয়ে নজর দেওয়া দরকার বলে মনে করি।
অন্যদিকে, রামপুরহাট, মুরারই কলেজেও কেন্দ্রীয় বাহিনী রয়েছে বলে জানা গিয়েছে। মুরারইয়ের কবি নজরুল কলেজের অধ্যক্ষ মুকেশ সিং বলেন, আমাদের এখানে নলহাটি সহ আশপাশের কলেজগুলির পরীক্ষার সেন্টার পড়ে। হাজারের উপর পরীক্ষার্থী রয়েছে। কেন্দ্রীয় বাহিনী অন্যত্র চলে গেলে সুবিধা হবে। তা নিয়ে স্থানীয় প্রশাসন আশ্বাস দিয়েছে। পাশাপাশি প্রশাসন সূত্রে খবর, এই মুহূর্তে বীরভূমে ১৮ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী রয়েছে। তারা কলেজের পাশাপাশি বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের অফিসে থাকছে। জেলা প্রশাসনের এক অফিসার বলেন, বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যেই আমরা ভাবনাচিন্তা শুরু করেছি। কিন্তু সঠিক সময়ে পরীক্ষা না হলে ছাত্রছাত্রীদের তার ফল ভুগবে।