নিজস্ব প্রতিনিধি, রানাঘাট: রাতের অন্ধকারে সীমান্তের ওপার থেকে চোরাই সোনা এদেশে পাচার করছিল কারবারিরা। কিন্তু শেষরক্ষা হল না। শনিবার রাতে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের দত্তপুলিয়ার বরণবেরিয়া এলাকা থেকে ৩০টি সোনার বিস্কুট সহ তিন পাচারকারীকে হাতেনাতে ধরে ফেলে সীমান্তরক্ষী বাহিনী। বাজেয়াপ্ত হওয়া সোনার বাজারমূল্য প্রায় আড়াই কোটি টাকা। অভিযুক্তদের ধানতলা থানার পুলিসের হাতে তুলে দেয় বিএসএফ। তাদের এদিন রানাঘাট মহকুমা আদালতে তোলা হলে বিচারক ১৪ দিনের জেল হেফাজতের নির্দেশ দেন।
বিএসএফ সূত্রে জানা গিয়েছে, অন্যান্য দিনের মতো শনিবার রাতেও ভারত বাংলাদেশ সীমান্তের বরণবেড়িয়ায় রুটিন টহলদারি চালাচ্ছিলেন বিএসএফের ৮ নম্বর ব্যাটেলিয়ানের জওয়ানরা। বাংলাদেশ থেকে আসা বেশ কিছু সোনার বিস্কুট এপারে পাচার হয়ে গিয়েছে বলে আগেই খবর পেয়েছিল সীমান্তরক্ষী বাহিনী। সেইমতো ওই এলাকায় টহলদারির সময় বাড়তি সতর্কতা নিয়েছিলেন জওয়ানরা। বরণবেরিয়ার এক গ্রামের কাছে একটি বাইক ও ইঞ্জিনভ্যান একসঙ্গে আসতে দেখে সন্দেহ হয় তাঁদের। সেখানে থাকা তিনজনকে আটকে তল্লাশি শুরু করতেই তিনটি বড়সড় প্যাকেট উদ্ধার হয়। সেগুলির ভিতর থেকে ৩০টি সোনার বিস্কুট মেলে। জানা গিয়েছে, বাজেয়াপ্ত হওয়া সোনার ওজন ৩.৪ কেজি। যার বাজার মূল্য প্রায় ২ কোটি ৪৮ লক্ষ টাকা। সোনা উদ্ধারের পরেই তিন অভিযুক্তকে সীমান্ত চৌকিতে নিয়ে আসে বিএসএফ।
বিএসএফ সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃতদের নাম রোহন দাস, অর্ণব কর্মকার ও ছোটন কর্মকার। তারা তিনজনই নদীয়ার বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দা। দীর্ঘদিন ধরে অভিযুক্তরা চোরাচালানের সঙ্গে যুক্ত। বিএসএফের জিজ্ঞাসাবাদের মুখে অভিযুক্ত রোহন দাস জানিয়েছে, এদেশে সোনা পাচার হওয়ার পর তারা প্রত্যেকেই ক্যারিয়ার হিসেবে কাজ করে। সম্প্রতি বানপুর এলাকার এক ব্যক্তির কাছ থেকে পাচার হয়ে আসা সেই সোনার বিস্কুট তারা বনগাঁর অজ্ঞাতপরিচয় একজনের হাতে পৌঁছে দিতে যাচ্ছিল। এর বিনিময় মোটা অঙ্কের টাকাও পেয়েছিল অভিযুক্তরা।
বিএসএফের দক্ষিণবঙ্গ সীমান্তের জনসংযোগ আধিকারিক এ কে আর্য বলেন, এর আগেও জওয়ানরা তৎপরতার সঙ্গে সোনা, নিষিদ্ধ মাদক সহ বিভিন্ন সামগ্রীর পাচার রুখেছে। যে কোনও ধরনের চোরাচালান রুখতে বিএসএফ সবসময় তৎপর।