সংবাদদাতা, রঘুনাথপুর: রবিবার পথ দুর্ঘটনায় জখম এক ছাত্রের মৃত্যুতে চিকিৎসায় গাফিলতির অভিযোগ ঘিরে রঘুনাথপুর সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে উত্তেজনা ছড়ায়। মৃতের নাম রিকি কর্মকার(১৭)। তার বাড়ি রঘুনাথপুর শহরে ১ নম্বর ওয়ার্ডের ব্লকডাঙা এলাকায়। সে একাদশ শ্রেণিতে পড়ত। এদিন দুর্ঘটনায় সে জখম হয়। তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। চিকিৎসক দীর্ঘক্ষণ পরে আসেন। অভিযোগ, বিনা চিকিৎসায় পড়ে থাকায় ওই ছাত্রের মৃত্যু হয়। ঘটনায় মৃতের সহপাঠী ও পরিজনরা বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন। উত্তেজনার খবর পেয়ে পুলিস গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, এদিন রিকি সাইকেল নিয়ে স্থানীয় একটি পুকুরে স্নান করতে যায়। রঘুনাথপুর-বরাকর রাজ্য সড়ক ধরে সাইকেলে বাড়ি ফিরছিল। রঘুনাথপুর রেজিস্ট্রি অফিসের সামনে একটি চারচাকা গাড়ি তাকে ধাক্কা মেরে পালিয়ে যায়। ঘটনায় রিকি গুরুতর জখম হয়। স্থানীয় এক সহপাঠীর সহযোগিতায় কয়েকজন মিলে তাকে উদ্ধার করে রঘুনাথপুর সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল নিয়ে যায়। সেখানেই তাকে ভর্তি করা হয়। অভিযোগ, ছাত্রের অবস্থা আশঙ্কাজনক হলেও কোনও চিকিৎসক সময় মতো চিকিৎসা করতে আসেননি। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের তরফে দায়িত্বে থাকা চিকিৎসককে ফোন করা হয়। কিন্তু, এক ঘণ্টা দেরিতে তিনি পৌঁছন। ফলে চিকিৎসা না পেয়ে হাসপাতালে ওই ছাত্রের মৃত্যু হয় বলে অভিযোগ।
ছাত্র মৃত্যুর খবর জানার পরই ক্ষোভে ফেটে পড়ে রিকির বন্ধু ও পরিবারের সদস্যরা। তারা হাসপাতালে বিক্ষোভ দেখাতে থাকে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যান রঘুনাথপুর শহরের ১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার সহ স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁরাও বিক্ষোভে শামিল হন। চিকিৎসকের শাস্তির দাবিতে প্রায় দু’ঘণ্টা ধরে বিক্ষোভ চলে। খবর পেয়ে রঘুনাথপুর থানার পুলিস ঘটনাস্থলে আসে। পুলিসের মধ্যস্থতায় পরিবারের সদস্য, স্থানীয় বাসিন্দা ও কাউন্সিলারকে নিয়ে দীর্ঘ সময় আলোচনা হয়। পরে ওই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে গাফিলতির অভিযোগ এনে লিখিত অভিযোগ জানানো হয়। অভিযোগের প্রেক্ষিতে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা কাজল বাউরি, নয়ন মিশ্র বলেন, রিকিকে এনে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। রিকির অবস্থা আশঙ্কাজনক থাকলেও তাকে এইচডিইউতে না দিয়ে সাধারণ বেডে ফেলে রাখা হয়। দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসককে ফোন করা হলেও তিনি দীর্ঘ সময় আসেননি। এক ঘণ্টা পর তিনি হাসপাতালে আসেন। চিকিৎসকের গাফিলতিতেই ছাত্রের মৃত্যু হয়েছে। আমরা ওই চিকিৎসকের কঠোর শাস্তি চাই।
রঘুনাথপুর ১ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলার প্রণব দেওঘরিয়া বলেন, বিষয়টি জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিককে জানিয়েছি। পরে ওই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে আমরা লিখিত অভিযোগও করেছি। ওই চিকিৎসক একটি নার্সিংহোমে বেশিরভাগ সময় ব্যস্ত থাকেন। তিনি হাসপাতালে সময় কম দেন। ওই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে উচ্চ পর্যায়ে তদন্ত প্রয়োজন।
মৃতের বাবা অরুণ কর্মকার বলেন, চিকিৎসক সঠিক সময় না আসায় ছেলের মৃত্যু হয়েছে। আমরা ওই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে তদন্তের দাবি জানিয়ে লিখিত অভিযোগ করেছি।
জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক অশোক বিশ্বাস বলেন, বিষয়টি জানার পরেই ওই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে তিনজনের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। সোমবার ওই টিম তদন্ত করতে হাসপাতালে যাবে। বিষয়টি উচ্চ দপ্তরে জানানো হয়েছে। মৃত ছাত্র।