নিজস্ব প্রতিনিধি, শান্তিপুর: বর্ষা আসতেই ভাগীরথীর পাড় ভাঙনের আশঙ্কায় গ্রামবাসীরা দুশ্চিন্তায় পড়েছেন। শান্তিপুরের বেলগড়িয়া-১ পঞ্চায়েতের নদী-তীরবর্তী বিভিন্ন গ্রামে এমনই পরিস্থিতি। প্রতি বছর বর্ষায় নদীপাড়ে বেশ কিছু অংশে অস্থায়ী বাঁধের মাটি ধসে পড়ে। এবারও এখনই গ্রামের শেষ প্রান্তে পাড়ভাঙন দেখা দিয়েছে। সমস্যা মেটাতে স্থায়ী বাঁধের দাবি তুলেছেন বাসিন্দারা। ভাগীরথীর বক্ষে গজিয়ে ওঠা কয়েকশো বিঘা জমির চর কৃষিনির্ভর গ্রামবাসীদের জীবনজীবিকার একমাত্র সম্বল। বর্ষা আসতেই চরের কৃষিজমি ভেসে যাওয়ার আতঙ্কও দেখা দিয়েছে। ফলে নদী-তীরবর্তী বিভিন্ন গ্রামের বাসিন্দারা দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছেন।
বেলগড়িয়া-১ পঞ্চায়েতের বিহারিয়া মঠপাড়া ও আশপাশের প্রায় ১৬টি গ্রামে কয়েকশো কৃষিজীবী পরিবারের বসবাস। গ্রামের ধার ঘেঁষে ভাগীরথী বয়ে গিয়েছে। নদীর ওপারে তাকালেই চোখে পড়বে, প্রায় ৭০০ বিঘা বিস্তীর্ণ চর। মঠপাড়া চর ও গবার চর নামেই ওই এলাকা পরিচিত। সেখানেই প্রায় তিন-চারশো চাষির খেত রয়েছে। মূলত তিল, আখ, সর্ষে চাষ করেই তাঁদের দিন গুজরান হয়। যে বছর বর্ষায় ভাগীরথী ফুলেফেঁপে উঠে চাষের জমি ভাসিয়ে দেয়, সেবছর এসব গ্রামে হাহাকার নামে। আবার কোনও বছর চাষের জমি রক্ষা পেলেও গ্রামের শেষ প্রান্তের জমি ভাগীরথীর গর্ভে চলে যায়।
শান্তিপুরে বিধানসভা উপনির্বাচনে জিতে এসমস্ত গ্রামে নদীভাঙন ঠেকাতে উদ্যোগী হয়েছিলেন বিধায়ক ব্রজকিশোর গোস্বামী। দু’বছর আগে সেচ দপ্তরের তরফে বেশ কয়েকটি ধাপে বালিভর্তি কালো বস্তা দিয়ে বিস্তীর্ণ এলাকার চর বাঁধাই করা হয়। কিন্তু এবছর রেমালের পরই অস্থায়ী বাঁধের বেশ কিছু অংশে বালির বস্তা ধসে গিয়েছে। বর্ষায় ফের ভাঙন শুরু হবে না তো? এই প্রশ্নই গ্রামবাসীদের কুড়েকুড়ে খাচ্ছে।
গ্রামের কাছেই নদীর পাড়ে বসেছিলেন কুমুদ বিশ্বাস, বিশ্বজিৎ মণ্ডল, কমল সরকার, সুখেন বিশ্বাসরা। কয়েকজন বাঁধের নীচে কাঠের ছোট ডিঙ্গি নৌকো বানাতে ব্যস্ত ছিলেন। জানা গেল, মিস্ত্রিকে দিয়ে নৌকার কাঠামো বানিয়ে নেওয়ার পর খরচ বাঁচাতে বাদবাকি কাজ তাঁরা নিজেরাই করেন। এই সমস্ত নৌকায় চেপে তাঁরা চরের কৃষিজমিতে যান।
চাষিরা বলেন, কোনও বছর ফসলের ক্ষতি, আবার কোনও বছর গ্রামে ভাঙন শুরু হয়। সাংসদকে পাঁচ বছর গ্রামে দেখিনি। এবারও দেখতে পাব কি না জানি না। শান্তিপুরের বিধায়ক অবশ্য উদ্যোগী হয়েছিলেন। তবে ভাঙন রুখতে স্থায়ী সমাধান দরকার।
তৃণমূল বিধায়ক ব্রজকিশোরবাবুও বলেন, বালির বস্তা দিয়ে কয়েকবছর অস্থায়ীভাবে ভাঙন রোখা যায়। কিন্তু, এটা তো স্থায়ী সমাধান নয়। সাংসদ ভোটে জিততে পারেন। কিন্তু মানুষের জন্য কাজ করতে তাঁকে দেখা যায়নি।
রানাঘাটের বিজেপি সাংসদ জগন্নাথ সরকার বলেন, ভাঙন রোধে রাজ্যকেও একটা মার্জিন মানি দিতে হয়। কিন্তু, রাজ্য এগিয়ে আসেনি। শুধু শান্তিপুর নয়, এই লোকসভা কেন্দ্রের বিভিন্ন এলাকায় ভাঙন রোধে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের ভাবনা রয়েছে।
ওই গ্রামের বাসিন্দা রবিন বিশ্বাস বলেন, চাষবাসই তো আমাদের একমাত্র অবলম্বন। এবছর বর্ষায় কী হবে জানি না। চরের ফসল ঘরে তুলতে পারব কি না, সেটা ভাগ্যের উপর নির্ভর করে। গ্রামে ভাঙন শুরু হলে আমাদের শেষ পর্যন্ত ভিটে হারাতে হবে।